গৃহস্থালি

পূজার অনুষঙ্গ

পূজার অনুষঙ্গ
সনাতন ধর্মের এ উৎসবে শুধুই যে প্রতিমা তৈরি প্রয়োজন, তা ঠিক নয়। প্রতিমার পূজা করার জন্য আনুষঙ্গিক জিনিসপত্রেরও প্রয়োজন পড়ে। মায়ের পূজা বা অর্চনা করতে হলে ভক্তদের অন্তত একশ’ উপকরণের আয়োজন করতে হয়। এরমধ্যে রয়েছে শাঁখা, সিঁদুর, আলতা ইত্যাদি। শাঁখা তৈরির কাঁচামাল শঙ্খ শ্রীলঙ্কা থেকে নিয়ে আসা হয়।

সনাতন ধর্মের এ উৎসবে শুধুই যে প্রতিমা তৈরি প্রয়োজন, তা ঠিক নয়। প্রতিমার পূজা করার জন্য আনুষঙ্গিক জিনিসপত্রেরও প্রয়োজন পড়ে। মায়ের পূজা বা অর্চনা করতে হলে ভক্তদের অন্তত একশ’ উপকরণের আয়োজন করতে হয়। এরমধ্যে রয়েছে শাঁখা, সিঁদুর, আলতা ইত্যাদি। শাঁখা তৈরির কাঁচামাল শঙ্খ শ্রীলঙ্কা থেকে নিয়ে আসা হয়। এরপর ভেতরের গ্যারাকে ফেলে দিয়ে মেশিন দিয়ে শাঁখা গোল করা হয়। গোলকরা শাঁখার ওপর বসানো হয় বিভিন্ন মানের ডিজাইন স্বর্ণ, বাঁধানো লোকাল পাথর ইত্যাদি। শাঁখাগুলো হয়ে থাকে বিভিন্ন ধরনের। এর দাম ৭শ টাকা থেকে ৪ হাজার ৫শ টাকার মতো। পূজাতে সিঁদুরেরও প্রয়োজন হয়।

এর দাম ১০ থেকে ২শ ৫০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া রয়েছে সোনা, রুপা, সিঁদুর, সুগন্ধি তেল, সেন্ট,  লাল সুতা, বড়ঘট, ছোটঘট, ¯œানের পাতিল, মুচিঘট, ধারা ঘট, পঞ্চপ্রদীপ, চামর, কর্পূর, ছোট পাতিল, ধুপতি, প্রদীপগাছা, বিসর্জনের পাতিল, চাদর, শাড়ি, ধুতি কাপড়, দূর্বা, তুলসী, চন্দন, বেলপাতা, পদ্মফুল, ফুলের মালা, গামছা, চ-ী, সাদা কাপড়, নবঘটের পতাকার কালো কাপড়, বিচিত্র রঙের পুরোহিত বরণধুতি, আস্ত নারকেল, কবরি কলার ফানা, ঘটের তীর, ঘটের পাঁচফল, বেলের ডালা, বিভিন্ন ফল, শশীডাব, জোড়া বেল, দধি, দুধ, মধু, চিনি, তিল, ধান, ঘি, হরীতকী, মাষকলাই, শ্বেতশস্য, স্টিলের থালা, মধুপার্কের স্টিলের বড়ো বাটি, বালিশ, পাটি, স্টিলের বড়ো গ্লাস, ফলাদি, গুড়, সন্দেশ, বাতাসা, বুটের ডাল, লবণ, হলুদ, মরিচ, নকুল, সাগু, সুজি, ভোজ্য তরকারি, কিশমিশ, মিষ্টি, নারকেল, নাড়–, খৈয়ের মুড়কি, ধূপ, আগরবাতি, মোমবাতি, তিলের তেল, বিষ্ণু তেল, সরিষার তেল, কুলা, কাঁচা হলুদ, পঞ্চ শস্য, গাছ কোটা, আয়না, কাঠের চিরুনি, শিলা ও নুড়ি যজ্ঞের বলি, পাটখড়ি, আমখড়ি, গোময়, কুশ, ঘৃত, বেলপাতা, সালু কাপড়, পানি পূর্ণপাত্র, শস্যমুগ, যব, তিল, পঞ্চগব্য, গোচনা, পঞ্চবৃত (দধি, দুগ্ধ, ঘৃত, মধু ও চিনি); পঞ্চকষাই (জাম, শিমুল, বেড়েলা, কুল ও বকুল) সর্বৌষধি (মুরা, মাংসী, বচ, কুট, শলের, হরিদ্রা, দারু হরিদ্রা, শটি, চম্পক ও মুথা); পঞ্চরত (স্বর্ণ, রুপা, মণি, মুক্তা, লৌহ, তাম্র, দস্তা, পিতল ও কাঁসা); পঞ্চগুঁড়া (তুসপোড়া গুঁড়া, বিল্বপত্র গুঁড়া, আবির, চালের গুঁড়া, হরিদ্র গুঁড়া) প্রভৃতি।

পূজার সব উপকরণ সংগ্রহের পর ‘সর্ব্বমঙ্গলা সঙ্গাল্যে শিবে সর্ব্বার্থ সাধিক্যে। শরণ্যে এ্যম্বকে গৌরী নারায়ণী নমোহস্ততে’- এই প্রার্থনা মন্ত্র পড়ে পূজা শুরু করা হয়। পূজার যাবতীয় উপকরণ রাজধানীর শাঁখারীবাজার ছাড়াও তাঁতিবাজার, ধোপাবাজার, মুচিবাজার, নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন মন্দিরের আশপাশের দোকানে পাওয়া যায়। এছাড়া দেশের সব জায়গায় পূজা উপকরণের বিশেষ দোকান রয়েছে, যেখানে এসব প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাওয়া যাবে।