বীর প্রতীক তারামন বিবির আজ দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী

বীর প্রতীক তারামন বিবির আজ দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী
তারামন বিবি
১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে তারামন বিবি তাঁর অসীম সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য রান্না করা, তাঁদের অস্ত্র লুকিয়ে রাখা, পাকিস্তানি বাহিনীর বিভিন্ন খবর সংগ্রহ করতেন কিশোরী বয়সের তারামন বিবি।

বাংলাদেশের জন্ম ইতিহাস সকলেরই প্রায় জানা। ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে এদেশের সাহসী সন্তানেরা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে দেশকে রক্ষা করে। সেই যুদ্ধে দেশের সাহসী সন্তানদের মধ্যে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন কিশোরী, নারীরাও। তারামন বিবি তাঁদের মধ্যেই একজন। আজ বীর প্রতীক খেতাব প্রাপ্ত এই বীর মুক্তিযোদ্ধার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। 

 

২০১৮ সালের ১লা ডিসেম্বর এই নারী মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর আগে দীর্ঘ দিন ধরে ফুসফুস জনিত সমস্যাসহ নানাবিধ রোগে ভুগেছিলেন। 

 

১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে তারামন বিবি তাঁর অসীম সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য রান্না করা, তাঁদের অস্ত্র লুকিয়ে রাখা, পাকিস্তানি বাহিনীর বিভিন্ন খবর সংগ্রহ করতেন কিশোরী বয়সের তারামন বিবি। এমনকি সম্মুখযুদ্ধে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে লড়াই করেছেন এই নারী। 

 

দুর্ধর্ষ সেই কিশোরীর সাহসিকতার প্রতি সম্মান জানিয়ে তাকে বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত করা হয়। তবে এই খেতাব আনুষ্ঠানিক ভাবে তাঁর হাতে তুলে দিতে সময় লেগেছিল প্রায় ২২ বছর। নিভৃত জীবন যাপন করা এই বীর প্রতীকী নারীকে খুঁজে পেতেই সময় লেগেছিল এতগুলো বছর। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে বীর প্রতীক খেতাব দেয়। ১৯৯৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর তাঁকে খুঁজে বের করে সরকারের পক্ষ থেকে তাঁর হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। 

 

কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাঠি ইউনিয়নের কাছারিপাড়ার শংকর মাধবপুর গ্রামে এই নারীর জন্ম। শংকর মাধবপুর গ্রামে ১১ নং সেক্টরে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। তারামন বিবি মৃত্যুর সময় তাঁর পরিবারে স্বামী আবদুল মজিদ ও দুই ছেলেমেয়েকে রেখে যান। মৃত্যুর পর তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।