ওয়ার্কিং ওম্যান

পদোন্নতি হচ্ছে না?

পদোন্নতি হচ্ছে না?
আমিই শ্রেষ্ঠ এই ভাবখানা নিজের মধ্যে রাখা যাবে না। মনে রাখতে হবে, যোগ্যতা নিয়েই আপনার সহকর্মীরাও চাকরি করতে এসেছেন। পার্থক্য থাকবেই। কিন্তু কাউকে অযোগ্য ভাবা যাবে না। যদি নিজেকেই শুধু শ্রেষ্ঠ আর যোগ্যতম ভাবেন তবে বসের চোখেও ধীরে ধীরে আপনি অযোগ্য প্রমাণ হতে পারেন। তাতে পদোন্নতির পথটাও বন্ধ হয়ে যাবে।

সফল হওয়ার আকাক্সক্ষা সবার মাঝেই বিদ্যমান। চাইলেই জীবনে সবাই সফল হতে পারে না। অনেকেই অনেক যোগ্যতা নিয়েও যেমন উন্নতির চূড়া স্পর্শ করতে পারে না, আবার এমন অনেকেই আছেন যারা তুলনামূলক কম যোগ্য হয়েও নানা কৌশলে যোগ্যতম হয়ে উঠেন। কিংবা দ্রুত উন্নতি লাভ করেন। কেউ কেউ আবার দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে কাজ করেও পদোন্নতি পান না। 
চাকরিতে পদোন্নতি বা পাওয়ার সম্ভাব্য কারণগুলোই তুলে ধরা হয়েছে এ লেখনীর মাধ্যমে। যোগ্যতা থাকলেই যে পদোন্নতি হয় তা কিন্তু নয়, পদোন্নতির ক্ষেত্রে অন্যান্য কিছু বিষয়ও জড়িত থাকে পদোন্নতি না পাওয়ার সম্ভাব্য কারণগুলো :   


রেগে যাওয়া  


রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন। তাই বলে যে রাগ থাকবেই না এমন নয়। কি?? পরিণতি বুঝে নিজেকে সংযত রাখতে না পারলে তা পদোন্নিতর ???? বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আর অতিরি? রাগী লোককে এমনিতেও কেউ পছ› দ করে না।
পরিস্থিতি বুঝে নিজেকে সংযত রাখতে না পারলে তা পদোন্নতির ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আর অতিরিক্ত রাগী লোককে এমনিতেও কেউ পছন্দ করে না।


পরচর্চা 


যদি আপনি কর্মস্থলে আপনার সহকর্মীদের নিয়েই কথায়-আড্ডায় ব্যস্ত থাকেন তবে অবসরের সময় চলে এলেও পদোন্নতি আপনি পাবেন না। তবে অবশ্যই সহকর্মীদের সঙ্গে ভালো যোগাযোগ রাখতে হবে। তবে সেটা কাজের ক্ষতি করে নয়। কারণ যোগাযোগ দক্ষতাও পদোন্নতিতে বড় ভূমিকা রাখে। অফিসে কখনও কোনো সহকর্মীকে নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা যাবে না, কাউকে নিয়ে গুজব রটানো যাবে না। নিজেকে সবসময় সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখতে হবে। এসব যারা না পারেন তারাই পদোন্নতি বঞ্চিত হন।


কাজ আর কাজ 


শুধু কাজে ডুবে থাকলেই পদোন্নতি হবে না। যদি আপনি বসের দ্বারা প্রভাবিত হন কিংবা তাকে যে-কোনো বিষয়ে ‘না’ বলতে না পারেন তবে চাকরিজীবনে উন্নতি অধরাই থাকতে পারে। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আপনার পাশের একজনই সহকর্মীই সুবিধাটুকু লুফে নিয়ে যাবে। আপনি তখন শুধু আপেক্ষাই করবেন, কাউকে বলতেও পারবেন না। ফলে বস খুশি হোক বা না হোকÑ কিছু কিছু সময়ে সঠিক কথাটির পক্ষ নিতে হবে।


আমিই শ্রেষ্ঠ 


এই ভাবখানা নিজের মধ্যে রাখা যাবে না। মনে রাখতে হবে, যোগ্যতা নিয়েই আপনার সহকর্মীরাও চাকরি করতে এসেছেন। পার্থক্য থাকবেই। কিন্তু কাউকে অযোগ্য ভাবা যাবে না। যদি নিজেকেই শুধু শ্রেষ্ঠ আর যোগ্যতম ভাবেন তবে বসের চোখেও ধীরে ধীরে আপনি অযোগ্য প্রমাণ হতে পারেন। তাতে পদোন্নতির পথটাও বন্ধ হয়ে যাবে। 


শুধুই অভিযোগ

 

যদি আপনি সবসময়ই আপনার চাকরি নিয়ে অভিযোগ করতেই থাকেন তবে পদোন্নতিতে তা বাধা হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যারা সবসময় অন্যের কাজ বা অন্যের ব্যবহার নিয়ে অভিযোগ করেন তাদের কর্মক্ষেত্রে উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এসব বিষয় খেয়াল রেখেই তার অধীনস্থকে পদোন্নতি দেন।


----- ছবি: তানভীর আহমেদ