শুধু শারীরিক স্বাস্থ্য নয় খেয়াল রাখুন মানসিক স্বাস্থ্যেরও!

শুধু শারীরিক স্বাস্থ্য নয় খেয়াল রাখুন মানসিক স্বাস্থ্যেরও!
শুধু শারীরিক স্বাস্থ্য নয় খেয়াল রাখুন মানসিক স্বাস্থ্যেরও!
মানসিক আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করে তার সাথে তাল মিলিয়ে চলা খুব একটা সহজ কাজ নয়। এর জন্য দরকার দৈনন্দিন জীবনে কিছু পরিবর্তন আনা।

শারীরিক সুস্থতা নিয়ে তো আমরা কমবেশি অনেকেই সচেতন   কিন্তু মানসিক সুস্থতাঅনেকের হয়তোবা ধারনাই নেই মানসিক সুস্থতার জন্য রয়েছে কিছু করনীয় কিন্তু পূর্ন উদ্যমে কোনো কাজ করার জন্য শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি জরুরি মানসিক সুস্থতাও মানসিক স্বাস্থ্য বলতে আসলে কি বুঝায়?

মানসিক স্বাস্থ্য হলো আমাদের মন, আচরণগত আবেগপূর্ণ স্বাস্থ্যের দিকটি আমাদের  চিন্তাভাবনা, অনুভবতা  এবং জীবনে চলার পথে  ব্যবহার এগুলোই আসলে আমাদের মানসিক স্বাস্থ্য একজন মানসিক ভাবে সুস্থ মানুষ কখনোই  নিজের সম্পর্কে খারাপ ধারনা পোষন করেনা, আবেগের বশবর্তী হয়ে যাবেনা ; যেমন রাগ, ভয়, হিংসা, অপরাধবোধ বা উদ্বেগ দ্বারা আবিষ্ট হবেনা মানসিক অসুস্থতার জন্য প্রধানত দায়ী হতে পারে এমন নেতিবাচক আবেগ যেমন: রাগ, ভয়, উদ্বেগ  মানসিক সুস্থতা হলো  যখন মানুষ নিজের সম্পর্কে ইতিবাচক ধারনা পোষন করেন, নিজের সম্ভাব্য শক্তির জায়গা গুলি সহজেই বুঝে যায়, জীবনের নানা পর্যায়ের চাপের সাথে ভালো ভাবে মানিয়ে নিতে পারে, কর্মক্ষেত্রে ভালো ফলপ্রসূ ভাবে কাজ করতে পারে এবং সমাজের জন্য তার যথেষ্ট অবদান থাকে একজন মানসিক সুস্থ ব্যক্তি নিজের সাথে অন্যের সাথে আরও ভাল সম্পর্ক স্থাপনে সক্ষম হন, আর যে কোনও বাঁধা কাটিয়ে জীবনে এগিয়ে চলতে পারেন

মানসিক আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করে তার সাথে তাল মিলিয়ে চলা খুব একটা সহজ কাজ নয় এর জন্য দরকার আপনার দৈনন্দিন জীবনে কিছু পরিবর্তন আনা মানসিক স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখার জন্য জেনে নিন কিছু পরামর্শঃ

 

শারীরিক যত্ন নিনঃ

মানসিক সুস্থতার সাথে শারীরিক সুস্থতা ওতোপ্রোতভাবে জড়িত  তাই মানসিক সুস্থতা  নিশ্চিত করতে হলে প্রাথমিক ভাবেই শারীরিক সুস্থতার দিকে নজড় দিতে হবে এরজন্য দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় পুষ্টিকর খাবার রাখুন প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমানে বিশ্রাম নিন নিয়মিত ব্যায়াম করুন, এতে করে ভাল ঘুম হবে যা আপনার ক্লান্তভাব দূর করবে এবং চাঙ্গা করে তুলবে যা আপনাকে মানসিকভাবেও সুস্থ  রাখবে 

 

দুশ্চিন্তাকে যথাসম্ভব দূরে রাখুনঃ 

 

আমাদের সবারই বিভিন্ন সময় বিভিন্ন  পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়  নানান কারনে নানান দুশ্চিন্তার তৈরী হয় যা আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যে ব্যাঘাত ঘটায়  তাই জরুরিভিত্তিতে আমাদের দুশ্চিন্তাকে দূরে রাখতে শিখতে হবে  তাই কখনো কোনো কারণে দুশ্চিন্তার শিকার হলে, সেই বিষয় নিয়ে কারো সাথে আলোচনা করতে পারেন, ধৈর্য্য ধরে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করতে পারেনস্ট্রেস কমাতে একটু হাটাহাটি,ব্যায়াম করতে পারেনপ্রয়োজনে গান শুনতে পারেন আত্মবিশ্বাসী হবেন এবং মনে মনে ভাববেন সব সমস্যারই  সমাধান রয়েছে  এবং অবশ্যই যথাসম্ভব চেষ্টা করুন দুশ্চিন্তার উৎসগুলো এড়িয়ে চলার  

 

সর্বদা আত্মবিশ্বাসী থাকুনঃ

মানসিক সুস্থতার অনেক বড় একটি হাতিয়ার হতে পারে আত্মবিশ্বাস  নিজের উপর কখনো ভরসা হারাবেননা চলার পথে হাজারো বাঁধা আসবে কিন্তু সর্বদা আত্মবিশ্বাসী থাকুন  নিজের দূর্বলতাকে নিজেই দূর করার চেষ্টা করুন এবং  নিজের ক্ষমতায় বিশ্বাস রাখুন লক্ষ্যও তৈরী করুন নিজের ক্ষমতানুযায়ী কোনো মানুষই নিখুঁত নয়, সবারই রয়েছে কিছু দূর্বলতা তাই নিজেকেও তা বোঝানোর চেষ্টা করুন, নিজের কোনো দুর্বলতাকে নিয়ে মন খারাপ করবেননা এটাই হলো সুস্থ মানসিকতার পরিচয়

 

একাকিত্বকে না বলুনঃ 

কথায় বলে 'অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা' আপনি যখনি কোনো কাজের মধ্যে না থেকে একা থাকবেন তখনি মানসিক স্বাস্থ্যে বিঘ্ন ঘটার প্রবল সম্ভাবনা দেখা দেয়  তাই কখনো একা ঘরবন্দী না থেকে সর্বদা লোকজনের মধ্যে থাকার চেষ্টা করুন আশেপাশের লোকজনের সাথে সময় কাটানোর চেষ্টা  করুন হোক তা পরিবারের সদস্যদের সাথে, বন্ধুবান্ধবদের সাথে, কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীর সাথে, আত্মীয়স্বজনের সাথে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিন, খেতে যানআনন্দ করুন এতে করে মন উৎফুল্ল থাকেনিজের প্রতি ভালোবাসা শ্রদ্ধা জন্মায় 

 

 সৃজনশীল কিছু করার চেষ্টা করুনঃ 

একঘেয়েমি আমাদের মানসিক অবস্থার অবনতি ঘটায়  তাই প্রতিনিয়ত নতুন কিছু করার শেখার চেষ্টা করুন নতুন নতুন কিছু শখ গড়ে তুলুন নিজের শখে সৃজনশীল কাজ করলে আপনার আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে নতুন কিছু শেখার আনন্দে মনও ভালো থাকবে   


 

যান্ত্রিক নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনুনঃ

বর্তমান সময় মানুষ দিনের বেশিররভাগ সময় কাটিয়ে দেন যন্ত্রের উপর নির্ভরশীল হয়ে মনোযোগ কেড়ে নেয়ার মতো যন্ত্র আমাদের সামনে নেহাত কম নেই আধুনিক এই যুগে ছোটো বড় প্রায় সবার হাতেই রয়েছে ফোন যা বাইরেরে জগৎ থেকে আমাদের মনোযোগ কেড়ে নেয়ার প্রধান অস্ত্র বলা যায় মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে তাই যন্ত্রের প্রতি নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনুন কোনো কারন ছাড়া সারাদিন ফোন বা টেলিভিশন এর দিকে তাকিয়ে না থেকে বাইরে ঘুরতে পারেনগাছ লাগাতে পারেন, বই পড়তে পারেন, কারো সাথে গল্প করতে পারেন 

 

এভাবে নিয়মমাফিক চলে শারীরিক মানসিক উভয়দিক থেকেই নিজেকে সুস্থ রাখুন