মৃতদেহের সঙ্গে যৌনকর্ম বা নেক্রোফিলিয়া!

মৃতদেহের সঙ্গে যৌনকর্ম বা নেক্রোফিলিয়া!
সংগৃহীত
মিশরের মমির সাথেও শবকামের নজির রয়েছে। নেক্রোফিলিয়ার ভয়ে মিশরে সুন্দরী নারীদের মৃত্যুর পর কয়েকদিন ফেলে রাখা হত। দেহে পচন ধরলে তারপর মমি প্রস্তুতকারকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। যাতে প্রস্তুতকারীদের মধ্যে নেক্রোফিলিক থাকলেও লাশের উপর সে তার যৌনলিপ্সা মিটাতে না পারে।

যৌনতা একটি স্বাভাবিক প্রাকৃতিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া তবে এই যৌন চাহিদা থেকেই তৈরি হয় নানাবিধ অপরাধমূলক কর্মের যৌন চাহিদা নিবারণের জন্য ধর্ষণের ঘটনার সাথে সবাই পরিচিত যা একটি সামাজিক অপরাধ ধর্ষকদের বিকৃত নোংরা মানসিকতার বলে আখ্যা দেয় সমাজ ধর্ষণের পর অনেক সময় ভুক্তভোগীকে মেরে ফেলার ঘটনাও ঘটে থাকে শবকাম বা নেক্রোফিলিয়া ঠিক এর বিপরীত একটি ঘটনা মৃত লাশকে ধর্ষণ বা ধর্ষণের উদ্দেশ্যে হত্যা করে শবদেহের সাথে যৌনকর্মে লিপ্ত হয় একশ্রেণির মানসিক বিকারগস্ত লোক এই বিষয়টিকে বলা হয় নেক্রোফিলিয়া

 

নেক্রোফিলিয়া একধরনের মানসিক বিকারগস্ত রোগ যা মৃতদেহের প্রতি যৌন চাহিদার সৃষ্টি করে। যা থেকে শবের সাথে সহবাস করার প্রবণতা দেখা দেয় লাশ ঘর বা মর্গে কাজ করে এমন মানুষের মধ্যে এধরণের রোগের প্রবণতা বেশি পরিলক্ষিত হয় 

খবরে আসে, মৃত নারীদের ধর্ষণের অভিযোগে মুন্না ভগত নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয় যে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে কাজ করতো 

এছাড়াও কিছু বিকৃত মস্তিষ্কের লোক থাকে যেমন সিরিয়াল কিলার, এদের মধ্যেও নেক্রোফিলিয়ার লক্ষণ দেখা যায় তালিকায় সবার শীর্ষে আসে টেড বাডির নাম মৃতদেহের সাথে যৌনক্রিয়ার উদ্দেশ্যে টেডি নারীদের খুন করতেন তার নিজের স্বীকারোক্তিতে জানা যায় তিনি ৩০ জনকে খুন করেছিলেন আসল সংখ্যা হয়তো আরো বেশিও হতে পারে৷ নারীদের খুন করে যৌনকর্ম করতেন এই কুখ্যাত সিরিয়াল কিলার এছাড়াও আমেরিকার এড গেইন, ভারতের পূর্ব বর্ধমানের কালনার বাসিন্দা কামরুজ্জামান সরকারও ছিলেন এমন ভয়ংকর কাজের সাথে যুক্ত যাদের বিরুদ্ধে নারীদের খুন করে শবের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের নজির পাওয়া যায়

২০১০ সালের দিকে ফিলিপাইনের জামবোয়াগনা শহরে বিভিন্ন কবরস্থান থেকে লাশ চুরির ঘটনা আলোচনায় এসেছিলো চুরি যাওয়া সবগুলোই নারীদের লাশ ছিলো চুরি হাওয়ার পর এসব লাশকে কবরস্থানের পাশেই খুঁটিতে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যেত যাদের দেহে মিলতো যৌনকর্মের চিহ্ন পুলিশ ঘটনার দায়ে কয়েকজনকে আটক করলে দেখা যায় তারা সবাই মাদকাসক্ত মানসিক বিকারগস্ত 

 

ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, এমন বিকারগস্ত মানসিকতার নজির মিশরীয় রাজাদের মধ্যে পাওয়া যায় রাজা হেরোড তার স্ত্রী ম্যারিয়ানির মৃত্যুর পর সাতবছর পর্যন্ত তার মৃত্যুদেহের সাথে যৌনকর্ম চালিয়ে যান রাজা ওয়াল্ডিমার রাজা চার্ল ম্যাগনের সম্পর্কেও ধরনের কাহিনি প্রচলিত আছে ইতিহাসবেত্তা হেরোডোটাসের এক লেখনীতে গ্রীসের অত্যাচারী রাজা পেরিঅ্যান্ডারের শবকামের কথাও পাওয়া যায় 

এমনকি মিশরের মমির সাথেও শবকামের নজির রয়েছে নেক্রোফিলিয়ার ভয়ে মিশরে সুন্দরী নারীদের মৃত্যুর পর কয়েকদিন ফেলে রাখা হত দেহে পচন ধরলে তারপর মমি প্রস্তুতকারকদের হাতে তুলে দেওয়া হয় যাতে প্রস্তুতকারীদের মধ্যে নেক্রোফিলিক থাকলেও লাশের উপর সে তার যৌনলিপ্সা মিটাতে না পারে 

 

বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার মতেও নেক্রোফিলিয়া একধরনের মানসিক বিকৃতিজনিত রোগ তবে রোগের কারণ বা নির্মুল করার সঠিক উপায় হয়তো জানা নেই শবকামের ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় বেশির ভাগ অপরাধী লাশকাটা ঘর বা মর্গে কাজ করে, ডোম, মৃতদেহ সৎকার, কবরস্থানে কাজ করে এমন ব্যক্তিরাই নেক্রোফিলিয়ায় আক্রান্ত এছাড়াও সিরিয়াল কিলার বা যারা লাশ চুরি করে এধরনের নোংরা কাজে লিপ্ত হয় তারা পারিপার্শ্বিক পরিবেশ, মাদকাসক্ত, বা ফ্যান্টাসি থেকে এমন পৈশাচিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয় তাই সুস্থ সামাজিক পরিবেশ সঠিক মানসিক বিকাশের ব্যবস্থা এধরনের নোংরা অপরাধমুলক কাজ থেকে মুক্তির পথ দেখাতে পারে