বৃহস্পতিবার,২৭ এপ্রিল ২০১৭
হোম / রূপসৌন্দর্য / চুলের জন্যে এসেনশিয়াল অয়েল
০৩/০৬/২০১৭

চুলের জন্যে এসেনশিয়াল অয়েল

-

শীত বা গ্রীষ্ম পুরো বছর জুড়েই চুল সুন্দর রাখতে চাইলে নিতে হয় বাড়তি যত্ন। আমাদের মতো শহুরে মানুষদের চুলের শত্রুর তালিকায় বাতাসের শুষ্কতার পাশাপাশি আছে ধুলাবালি আর দূষণ। তাই শুধু এক ধরনের তেল আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত চুলকে সুস্থ করে তুলতে পারে না। এ কারণেই চুলের যত্নে চাই এসেনশিয়াল অয়েল। সাধারণ তেলের তুলনায় এসেনশিয়াল অয়েলে প্রচুর পরিমাণ পুষ্টিগুণ বিদ্যমান থাকে। তাই অল্প পরিমাণ ব্যবহারেই উপকার পাওয়া যায়। চুলের বিভিন্ন ধরনের সমস্যার জন্য ভিন্ন ভিন্ন এসেনশিয়াল অয়েল বেছে নিতে হবে। এই প্রতিবেদনে বিভিন্ন এসেনশিয়াল অয়েল এবং এদের উপকারী দিকগুলো তুলে ধরা হলো।

আমন্ড অয়েল
চুল ভাঙা এবং চুল পড়ার সমস্যা সমাধানে বিশেষভাবে উপকারী কাঠবাদামের তেল। এই তেলে চুলের জন্য উপযোগী সব ধরনের উপাদান রয়েছে। যেমন- ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন ই, ফসফলিপিড্স এবং ম্যাগনেশিয়াম। তাছাড়া চুল ঝরঝরে ও মসৃণ করার পাশাপাশি উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক বাদাম তেল।

অলিভ অয়েল
চুলের আগা ফাটা এবং উসকোখুসকো চুলের অন্যতম সমাধান জলপাইয়ের তেল। এই তেল চুলের রুক্ষতা দূর করে সুস্থ করে তোলে। অতিরিক্ত রুক্ষ চুলের যত্নে অলিভ অয়েল দিয়ে একটি মাস্ক তৈরি করে নিতে পারেন। মাস্ক তৈরি করতে একটি ডিম, খানিকটা মধু ও চার টেবল-চামচ অলিভ অয়েল ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণ চুলে মাখিয়ে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর শ্যাম্পু করে ভালোভাবে কন্ডিশনার লাগিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। অলিভ অয়েল মাথায় লাগানোর আগে কখনো গরম করা উচিত না, এই বিষয়টি মনে রাখা অত্যন্ত জরুরি।

তিলের তেল
অকালেই চুল পেকে যাওয়া বা ধূসর চুলের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে তিলের তেল উপকারী। ক্ষতিগ্রস্ত চুল সুস্থ করে তুলতে এই তেল ব্যবহার করা উচিত। ওমেগা থ্রি, ওমেগা সিক্স এবং ওমেগা নাইন সমৃদ্ধ তিলের তেল চুল ঘন ও ঝলমলে করে তোলার পাশাপাশি অসময়ে চুল পেকে যাওয়ার ঝুঁকি কমায়।
তাছাড়া এই তেলে রয়েছে অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল উপাদান, যা মাথার ত্বকের বিভিন্ন সংক্রমণের সমস্যা উপশমে সাহায্য করে। তাই খুশকি বা অন্যান্য সমস্যার ক্ষেত্রেও তিলের তেল ব্যবহার করা যেতে পারে।

ল্যাভেন্ডার অয়েল
শুষ্ক মাথার ত্বক এবং খুশকি দূর করতে এই তেল দারুণ উপকারী। চুল সুন্দর করার পাশাপাশি এই তেল ব্যবহারে দুশ্চিন্তা কমে আসে। ল্যাভেন্ডার এসেনশিয়াল অয়েলের অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমাটরি উপকারী দিকের জন্যও বেশ পরিচিত। যে কোনো তেলের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা ল্যাভেন্ডার তেল মিশিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে। ল্যাভেন্ডার অয়েল মাথার ত্বকে আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করে, তাই চুলও মসৃণ হয়। চুলের যত্নের পাশাপাশি এই তেল অনিদ্রা দূর করতেও বেশ উপকারী। তাছাড়া ল্যাভেন্ডারের স্নিগ্ধ সুরভি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও বিশেষ উপকারী।

এগুলো ছাড়াও ইউক্যালিপটাস, টি ট্রি, গ্রেপ সিড, ম্যাংগো সিড, রোজ মেরি ইত্যাদি এসেনশিয়াল তেল পাওয়া যায়। এই ধরনের কনসেনট্রেটেড এসেনশিয়াল অয়েল সবসময় অন্য তেলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা উচিত।

- সামিরা আহসান