শুক্রবার,২০ অক্টোবর ২০১৭
হোম / অন্দর-বাগান / গুছিয়ে নিন স্টোররুম
০২/২৬/২০১৭

গুছিয়ে নিন স্টোররুম

-

আলমারি ও ক্যাবিনেট হয়তো আপনার সাহায্যে আসবে বাসা থেকে বিশৃঙ্খলা সরিয়ে রাখতে, কিন্তু সবসময় অবশ্যই আপনি পারবেন না এক জিনিসের সাথে আরেক জিনিস গাদা করে রাখতে। এতে পরবর্তীতে খোঁজার সময় কষ্টকর ও সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠে ব্যাপারটি। তাই যেকোনো বাড়িতে স্টোরেজ ঘর থাকা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তবে নিজের বাসা হলে স্টোরেজ রুমগুলো হিসেব করে আলাদা করতে হবে, বাড়ির মানুষ ও রুমসংখ্যা বুঝে নিজে নিজে ভেবে নিন যে কতগুলো স্টোরেজ ঘর হবে ও তা কতটুকু এলাকা নিয়ে হবে। স্টোরেজ রুম গুছিয়ে নেয়ার আগে নিচের বিষয়গুলো একটু দেখে নিন, জেনে নিন কিভাবে ঘরের বাড়তি জিনিসগুলো নির্দিষ্ট জায়গায় সাজিয়ে গুছিয়ে রাখবেন।

তোয়ালে ও টয়লেট্রিজ ক্যাবিনেটঃ

* পরিবারের সদস্যদের জন্য দুই-তিন সেট তোয়ালে(গোসল, হাত ও ওয়াশক্লথ) এবং অতিথিদের জন্য অতিরিক্ত দুই সেট ক্যাবিনেটে ওয়াশরুমে রেখে দিন। আলাদা করে সেটগুলো রাখতে শেলফ ডিভাইডার ব্যবহার করুন।

* দাগ বা ফুটো হয়ে গেছে এমন তোয়ালেগুলো ফেলে দিন অথবা ঘর পরিষ্কারের জিনিষপত্রের সাথে রেখে দিন। চাদর বা কম্বলের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য।

* শোবার ঘরে বিছানার নিচের বা আশেপাশের কেবিনেটে প্লাস্টিক রোলিং বিন বা ঢাকনাওয়ালা বক্সের মধ্যে ভালো চাদর, মশারি ও কম্বলগুলো স্টোর করে রাখুন।

* শ্যাম্পু, কন্ডিশনার, সুতা, তুলা- এধরনের জিনিসকে একটি প্লাস্টিকের বক্সে স্টোর করুন। আলাদা ধরণের জিনিসগুলোকে আলাদা বক্সে রাখতে পারেন। বৈচিত্র্য আনতে চাইলে সুন্দর জুতার বাক্সে কিছু নির্দিষ্ট জিনিস রাখতে পারেন।

একটি ছোট টিপসঃ নির্ধারিত বাক্সে যা আঁটবে, অতটুকু দ্রব্যই বাজার থেকে কিনে আনুন। এতে জিনিসগুলোর সংরক্ষণও ভালো হবে, কোনোকিছু অতিরিক্ত হয়ে নষ্ট হওয়ার ভয়ও থাকবে না।

বাথরুম ক্যাবিনেটঃ

* বছর পুরানো মেকআপ বা যেকোনো অপছন্দনীয় বিউটি প্রোডাক্ট সরিয়ে ফেলুন প্রথমে।

* বাথরুমে দরজার ওপর বা আয়নার সামনে একটি কাঁচ বা প্লাস্টিকের দানী লাগিয়ে নিন টুথব্রাশ, চিরুনি, চুলের ক্লিপ রাখার জন্য।

* বেসিনের নিচে তাক সিস্টেম না থাকলে করে নিন। নিত্য ব্যবহারের সামগ্রীগুলো সর্বদা উপরের ড্রয়ারে রাখুন। বেশি মানুষ এক বাথরুম ব্যবহার করলে আলাদা আলাদা ড্রয়ার একেকজনের করে নিন।

* বাথরুমে অবশ্যই সবসময় দুই রোল টয়লেট টিস্যু রাখুন, একটি রোলারে, আরেকটি ড্রয়ারে।

* মেডিসিন বাথরুম ক্যাবিনেটে না রেখে চেষ্টা করুন তাপ, আলো থেকে দূরে কোনো ঠাণ্ডা, শুষ্ক জায়গায় রাখার,

হল বা বাসার প্রবেশদ্বারে ক্লসেটঃ

* ঘরে ঢোকার প্রান্তে একটি বড় হোল্ডার রাখা উচিত যেখানে টুপি, ব্যাগ, ছাতা, জ্যাকেট ইত্যাদি রাখা যায়। এখানে অবশ্যই একটি জুতার আলমারিও রাখা প্রয়োজন অতিথিদের জুতা রাখার জন্য।

এছাড়াও স্টোরেজের ক্ষেত্রে আরও যা যা খেয়াল রাখবেনঃ

* খাবার ঘরে জায়গা থাকলে ওয়াল কেবিনেট বানিয়ে জিনিসপত্র রাখতে পারেন।

* রান্নাঘরে ড্রয়ার ও কেবিনেটে কিচেন ওয়্যার, মসলার কৌটা আলাদা আলাদা গুছিয়ে রাখুন।

* বসার ঘরের কর্নারে শোকেসের উপরের অংশে বই, শোপিস ও নিচের অংশে বিভিন্ন জিনিস রাখুন। কর্নারে কেবিনেট ব্যবহার করুন স্টোরেজের জন্য।

প্রধান স্টোররুমঃ

* প্রথমেই এমন জিনিস সরিয়ে কোনো নিরাপদ জায়গায় রাখুন যেগুলো আদ্রতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যেমন- ডিভিডি, ছবি, ভিডিও, বই ইত্যাদি। অথবা স্টোররুমেই সিলিকা জেল প্যাকেট দিয়ে উক্ত জিনিসগুলো আলাদা করে রাখতে পারেন। সিলিকা জেল আদ্রতা নিয়ন্ত্রণ করে।

* রান্নাঘর, বেডরুম, বাথরুম ইত্যাদি জায়গার স্টোররুমে যে জিনিস রাখা, তা বাদে সবই আসবে এই স্টোর রুমে। এটি হতে পারে আলাদা একটি ঘর বা অন্য কোনো ঘরের উপরে। পরিষ্কার, স্বচ্ছ প্লাস্টিকের পাত্রে জিনিশগুলো আলাদা করে রাখুন ব্যবহারের ভিত্তিতে একটির উপর আরেকটি। যেটি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় ওটা অবশ্যই সামনের দিকে উপরের সারিতে রাখবেন।

* প্রত্যেকটি পাত্র/বাক্স অবশ্যই লেবেল করবেন।

* ভারী জিনিস রাখার জন্য হুক লাগান। ভারী লাগেজ, পুরনো সাইকেল এগুলো উপর থেকে ঝুলিয়ে দিন। হাঁড়ি-পাতিল রাখার জন্য কাঠের থাক বানিয়ে নিতে পারেন।

* অনেক জিনিস হলে সেগুলোকে প্রয়োজনের ভিত্তিতে ছোটো ছোটো গ্রুপে ভাগ করে নিন। সামনের দিকে নিত্যদিনের ব্যবহারের জিনিস, তার পেছনে বর্ষাকাল ও তার পেছনে শীতকালে ব্যাবহার করার জিনিসগুলো স্টক করুন।

- নুসরাত ইসলাম