বৃহস্পতিবার,২৭ এপ্রিল ২০১৭
হোম / বিবিধ / দ্য উইমেন্স মার্চ: ট্রাম্পবিরোধী নারীবিক্ষোভ
০২/১৫/২০১৭

দ্য উইমেন্স মার্চ: ট্রাম্পবিরোধী নারীবিক্ষোভ

-

সম্প্রতি ৪৫তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আলোচিত এবং সমানভাবে সমালোচিত এই ব্যক্তির মার্কিন মসনদে আরোহণের মধ্য দিয়ে একবিংশ শতাব্দীর অনেক শান্তিপ্রিয় মানুষের মনেই সংশয়ের কালো মেঘ দেখা দিয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা নেয়ার একদিনের মাথায়ই যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির রাস্তায় বিক্ষোভে সমবেত হয় লাখো নারী যা ক্রমান্বয়ে ছড়িয়ে পরে আরও অনেক দেশে। এই বিক্ষোভ সমাবেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের এই নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে নিয়ে দেশটির নারীসমাজ এবং সংখ্যালঘু মুসলিম, হিস্পানিক এমনকি সাধারণ মার্কিন জনগণের মধ্যে যে সন্দেহ রয়েছে তা আরো ভালোভাবে দৃশ্যমান হয়েছে, একই সঙ্গে ভবিষ্যতের যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে বিশ্ববাসীর কপালে চিন্তার ভাঁজ আরো গভীর হয়েছে।

আলোচিত ট্রাম্প, সমালোচিত ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের রিয়েল এস্টেট মোঘল ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ব্যবসায়িক সাফল্যের মাধ্যমে গত কয়েক যুগ ধরেই প্রচার মাধ্যমে আলোচনায় ছিলেন। ব্যবসার মাধ্যমে যেমন নামযশ ও সম্পদের পাহাড় গড়েছেন তেমনি মিস ইউনিভার্সের স্পন্সর কিংবা রেসলিং ম্যাচ উপস্থাপনার মতো তুলনামূলক কম গম্ভীর কারণেও শিরোনাম হয়েছেন। বেশ কয়েকবার নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করেছেন। আবার লাভের পাল্লাা ভারি করে ৫৮তলা ভবন ও ৯শত কোটি ডলারের সমপরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন। তবে সব ঘাটের পানি খেলেও রাজনীতির ময়দানে কিছুদিন আগেও তিনি ছিলেন নিষ্ক্রিয়। তবে এবারের মার্কিন নির্বাচনে রিপাবলিকান দল থেকে মনোনয়ন পাওয়া এই নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির পরের উপাখ্যানে আলোচনার চেয়ে সমালোচনার পাল্লাইা ভারি। অসামাজিক এবং কিছুক্ষেত্রে রীতিমতো অভদ্র আচরণকে অভ্যাস বানিয়ে ফেলা হালের এই রাজনীতিক গত কিছুদিন ধরে একের পর এক বিতর্কের সৃষ্টি করেছেন।

প্রতিবন্ধী সাংবাদিককে ব্যঙ্গ করা, নারী রাজনীতিককে কুৎসিত বলা, নারীদের নিয়ে ক্রমাগত অবমাননাকর উক্তি করা কিংবা সংখ্যালঘু হিস্পানিক বা মুসলিমদের দেশ থেকে বের করে দেয়ার হুমকি -- এমনই নানা কাজের জন্য বারবার সমালোচিত হয়েছেন এই ব্যক্তি। তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকবার নারী নির্যাতনের অভিযোগ এসেছে, টিভি উপস্থাপকের ঋতুচক্রের বিষয়কে ইঙ্গিত করে কথা বলার মতো চরম অভদ্রতার পরিচয়ও দিয়েছেন নবনির্বাচিত এই মার্কিন অধিপতি।

দ্য উইমেন্স মার্চ: জানুয়ারি ২১, ওয়াশিংটন ডিসি

একদিক থেকে বলতে গেলে এই দিনটি মার্কিন ইতিহাসে ঐতিহাসিকই বলা চলে। শেষ কবে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব নেয়ার একদিনের মাথায় দেশের নারীদের এমন বিক্ষোভের সম্মুখীন হয়েছেন বা আদৌ হয়েছেন কিনা তা বলা মুশকিল। স্বনামধন্য বেশ কয়েকটি বার্তা সংস্থার তথ্যানুযায়ী ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠান দেখতে যত মানুষ ক্যাপিটাল হিলে এসেছিলেন তার চেয়ে বেশি জনস্রোত ছিল ওয়াশিংটন ডিসিতে নারীদের এই ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে। দুই লাখেরও বেশি মানুষের এই উপচে পড়া ভিড়ে ওয়াশিংটনের মেট্রো সাবওয়ে ট্রেন চলাচলে বিলম্ব দেখা দেয়। ওয়াশিংটনের ইন্ডিপিন্ডেন্স অ্যাভিনিউয়ের অন্তত ছয়টি ব্লক মানুষে পূর্ণ হয়ে যায়, সাধারণ জনগণের ভিড়ে ম্যাডোনা, স্কারলেট জোহানসন, মাইকেল মুর এবং কেটি পেরির মতো সেলিব্রিটিদেরও দেখা যায়।

বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে বিবৃতিতে নির্বাচনী প্রচারণার সময় নারী ও সংখ্যালঘু মানুষদের প্রতি ট্রাম্পের অপমানজনক কথাবার্তার প্রতিবাদ হিসেবে এই জনস্রোতের আয়োজন করা হয়েছে বলে উলে­খ করা হয়। লিঙ্গ, ধর্ম, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক ভিন্নতাকে দূরে সরিয়ে ঐক্যবদ্ধ ও সম্প্রীতিময় যুক্তরাষ্ট্রকে নিজদের মূল দাবি হিসেবে উপস্থাপন করেন এই লাখো বিক্ষোভকারী। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য স্থানেও বিক্ষোভ আয়োজন করা হয় সেইসাথে তা ছড়িয়ে পরে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ আরও অনেক দেশে।

ট্রাম্প সরকারের প্রথম কার্যদিবসেই এহেন বিক্ষোভের মাধ্যমে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম আধুনিক রাষ্ট্রেই যে নারীরা যথাযথ মর্যাদা পাচ্ছেন না তা প্রবলভাবে ফুটে উঠেছে। তবে একই সঙ্গে সমঅধিকার রক্ষায় সচেতন মানুষদের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিরও প্রকাশ ঘটেছে যা সংশয়ের কালো মেঘের আড়ালে এক চিলতে রোদের হাসি বলতেই হয়।

- নাইব রিদোয়ান