বৃহস্পতিবার,২৭ এপ্রিল ২০১৭
হোম / ভ্রমণ / ভালোবাসার মানুষকে নিয়ে ঘুরে আসুন ঢাকার আশেপাশে
০২/১১/২০১৭

ভালোবাসার মানুষকে নিয়ে ঘুরে আসুন ঢাকার আশেপাশে

-

কর্মজীবনের নয়টা-পাঁচটা দিনগুলোর ফাঁকে ছুটি হয়তো সবসময় মেলানো সম্ভব হয় না। সম্ভব হলেও দূরে কোথাও ভ্রমণে যেতে করতে হয় নানা আয়োজন। চিন্তার কিছু নেই। এই লেখাতে তাই পাঠকদের পরিচয় করিয়ে দেব ঢাকা এবং আশপাশের কিছু রোমান্টিক গন্তব্যের সঙ্গে। আসছে ভ্যালেন্টাইন্স ডে-তে প্রেমিক জুটিরা এসব স্থানে ঘুরে আসতে পারেন। কাটাতে পারেন কিছু সুন্দর সময়।

নক্ষত্রবাড়ি
ঢাকা বিমানবন্দর থেকে দেড় ঘণ্টার পথ পেরোলেই শান্ত সুনিবিড় পরিবেশের নক্ষত্রবাড়ির দেখা মেলে। গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে সোজা ময়মনসিংহ রোড ধরে এগিয়ে রাজেন্দ্রপুর ক্যান্টনমেন্ট মোড় থেকে ডানে ৫ কিলোমিটার এগোলেই গ্রামীণ পরিবেশের মধ্যে আধুনিক সব বিনোদনের সমাহার নিয়ে অবস্থিত নক্ষত্রবাড়ি রিসোর্ট অ্যান্ড কনফারেন্স সেন্টারের দেখা মিলবে। সাধারণত পিকনিকের জন্য নক্ষত্রবাড়ি বেশ জনপ্রিয়। তবে জুটিদের ছোট্ট ভ্রমণের জন্যও এটি বেশ উপযুক্ত একটি স্থান। সুদৃশ্য লেক, দোতলা কনফারেন্স সেন্টার, পানির ওপর ভাসমান কটেজ, উন্মুক্ত গ্যালারি ইত্যাদির সৃষ্টি করেছেন শিল্পী দম্পতি তৌকীর আহমেদ ও বিপাশা হায়াত। দু’জনে মিলে পানির ভাসমান কাঠের বাংলোগুলোর বারান্দায় দাঁড়িয়ে প্রকৃতি উপভোগ করতে পারবেন নিবিড় শান্ত পরিবেশে। কটেজগুলোতে অত্যাধুনিক সব থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা আছে, যা এক রাত কাটানোর জন্য পারফেক্ট। জিমনেশিয়াম, সুইমিং পুল, খেলার জায়গা, নৌকা, ইনডোর গেমসসহ অন্যান্য সকল সুবিধা আছে এখানে, যা জুটিদের জন্য বেশ রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা উপহার দেবে। তাছাড়া, একটি মডার্ন রেস্তোরাঁও আছে রিসোর্টের ভেতরে, যেখানে আপনারা রোমান্টিক ডিনারটাও করে নিতে পারবেন।

আহসান মঞ্জিল
আহসান মঞ্জিল বুড়িগঙ্গা নদীর উত্তর তীরে পুরান ঢাকার ইসলামপুর এলাকায় অবস্থিত। এটি ব্রিটিশ ভারতের উপাধিপ্রাপ্ত ঢাকার নবাব পরিবারের বাসভবন ছিল। সুরম্য এ ভবনটি ঢাকার অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্থাপত্য নিদর্শন। পুরান ঢাকার সরু রাস্তা পার হয়ে হঠাৎ চোখে পড়বে ফুলের বাগানে ঘেরা প্রাসাদটি। একসঙ্গে ঘুরে দেখতে পারবেন পুরো দালানটি। ভিতরের জাদুঘরে আছে আরও অনেক কিছু। তাছাড়া আহসান মঞ্জিলের ঘাট থেকেই নৌকা ভাড়া করতে পারবেন বুড়িগঙ্গা ঘুরে দেখার জন্য। সদরঘাটের দিকে পানি একটু ঘোলাটে হলেও নৌকা নিয়ে কিছু দূরে গেলেই দেখা পাবেন স্বচ্ছ পানি এবং চোখের আড়ালে থাকা বিস্তৃত ঢাকা শহরের। প্রেমিকযুগলরা একসঙ্গে নৌকায় ঘুরতে পারবেন ঘণ্টা হিসেবে। আহসান মঞ্জিলের অদূরে বেশ কিছু খাবার দোকানও রয়েছে, যেখানে বেশ ভালো মানের খাবারদাবার পাওয়া যায়।

জল ও জঙ্গলের কাব্য
টঙ্গি পার করে পুবাইলে গেলে পেয়ে যাবেন এই রিসোর্ট যা ‘পাইলট বাড়ি’ নামেও পরিচিত। একজন অবসরপ্রাপ্ত বৈমানিকের শখের বাড়িটা একটা রিসোর্টের আকার পেয়েছে। জল ও জঙ্গলের কাব্যকে পিকনিক স্পট না বলে বরং গ্রামের দাদাবাড়ি বললেই ভালো। গ্রাম-বাংলার রূপকে বিকৃত না করে, শিল্পীর মনের মতো ডিজাইন করে বানানো হয়েছে এই প্রাকৃতিক বিনোদনকেন্দ্র। পুকুর, বিল, ধানক্ষেত, ছনের বাড়ি - গ্রামের কিছুই বাদ নেই এখানে। দু’জনের একইসঙ্গে সকাল, বিকাল এবং রাত্রের খাবারের ব্যবস্থা আছে এবং রাত্রে থাকার জন্য আছে কটেজও। পরিষ্কার রান্নাঘরে আপনার জন্য সেখানে খাঁটি বাঙালি সব পদ তৈরি করা হবে। সব খাদ্য উপকরণ সেই রিসোর্টের খামারেই উৎপন্ন হয়। ভালো খাবার খেয়ে, রাতে পূর্ণিমার চাঁদ দেখে এমনকি নৌকা থেকে ঝাঁপিয়ে সাঁতার কেটে জুটিরা একসঙ্গে সুন্দর সময় কাটিয়ে আসতে পারবেন ঢাকার অদূরে এই রিসোর্ট থেকে।

পদ্মা ও যমুনা রিসোর্ট
টাঙ্গাইলের যমুনা আর মুন্সিগঞ্জের পদ্মার পাড়ে আছে দু’টি রিভার সাইড রিসোর্টস। সুইমিংপুল, বেকারি, স্যুভেনির শপ, ইনডোর ও আউটডোর গেমসের ব্যবস্থা, আধুনিক থাকার রুম ও নৌকা ভ্রমণের সুবিধাসহ এসব রিসোর্ট জুটিদের একদিনের বেড়ানোর জন্য বেশ উপযোগী। নদীর পাড়ের আবহাওয়া আর পিনপতন নীরবতার মাঝে ঢেউয়ের খেলা দেখতে চাইলে এই স্পট দুটো যুগলদের জন্য উপযুক্ত স্থান। দু’টি রিসোর্টেই আসা-যাওয়ার রাস্তা বেশ ভালো। তাই ভ্রমণে কোনো ধরনের অসুবিধা হয় না।

- কাজী মাহদী