সোমবার,২৩ অক্টোবর ২০১৭
হোম / বিনোদন / তারকাদের বসন্তবরণ ও ভালোবাসার স্মৃতি
০২/১০/২০১৭

তারকাদের বসন্তবরণ ও ভালোবাসার স্মৃতি

-

বছর ঘুরে আবারো আসছে ঋতুরাজ বসন্ত। প্রতিবারের মতো এবারো ফাল্গুনের প্রথম দিনে শহরজুড়ে বসবে হলুদের মেলা। কেউ বেড়াবে পরিবারের সঙ্গে, কেউবা বন্ধুদের নিয়ে, কেউবা প্রিয়জনের হাত ধরে। ঠিক পরের দিনই ভালোবাসা দিবস। আগের দিন হলুদের রাজত্ব থাকলেও এদিনটা ছেয়ে যায় লাল রঙে। ‘ফাগুনের আগুন’ কিংবা ‘ভালোবাসার অনুভূতি’, অন্যদের মতো তারকাদের গায়েও লাগে বৈকি।

আর পাঁচটি সাধারণ মানুষের মতো তারকাদেরও বসন্তবরণ আর ভালোবাসা দিবস নিয়ে নানান স্মৃতি রয়েছে। এছাড়া দিনটি কিভাবে প্রিয় তারকারা পালন করছেন, তা জানারও আগ্রহ রয়েছে ভক্তদের মনে। তাহলে জেনে নেওয়া যাক দেশের জনপ্রিয় চারজন তারকার ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবসের ভাবনা।

বিদ্যা সিনহা মীম
হুমায়ূন আহমেদের ‘আমার আছে জল’ সিনেমা দিয়ে অভিনয় জীবনের যাত্রা শুরু করা মীমের জীবনে ফাল্গুন বরাবরই একটা বিশেষ দিন। ‘তারকাখ্যাতি’ আসার আগে পহেলা ফাল্গুনে বন্ধুদের সঙ্গে সারাদিন ঘুরে বেড়াতেন। পরিবারের সঙ্গেও মাঝেসাঝে ঘুরে বেড়ানো হতো। শাড়ি নয়, হলুদ সালওয়ার কামিজই তাকে বেশি টানতো। তবে মীম জানালেন, এবারের ফাল্গুনটা শুটিংয়ের ব্যস্ততাতেই কেটে যাবে, “এবার আসলে পুরো দিনটাই শুটিংয়ে থাকবো হয়তো। তাই কোথাও যাওয়া হবে না। গত কয়েক বছর ধরেই এরকম হচ্ছে।” অন্যদিকে ভালোবাসা দিবস নিয়ে ভাবনা কী, এই প্রশ্নের জবাবে মীম বলেন, তার জীবনে এদিন নিয়ে খুব একটা আগ্রহ নেই! নির্দিষ্ট করে একটি দিনে ভালোবাসার প্রকাশ ঘটানোর পক্ষপাতীও নন তিনি। তিনি বলেন, “ভালোবাসা প্রতিদিনের জন্যই এর জন্য আলাদা দিনের প্রয়োজন নেই।”

মাসুমা রহমান নাবিলা
‘আয়নাবাজি’ দিয়ে বাজিমাত করেছেন এই অভিনেত্রী। বর্তমানে নাবিলা সিনে জগতের অন্যতম পরিচিত মুখ। নাবিলার কিন্তু ফাল্গুনের প্রথম দিন নিয়ে সেই ছোটবেলা থেকেই আগ্রহের কমতি ছিল না। প্রতিবার পহেলা ফাল্গুন আসার আগেই রীতিমতো আয়োজন করে হলুদ শাড়ি কিনতেন, সঙ্গে থাকতো কাচের চুড়ি ও টিপ। সেজেগুজে বন্ধুদের সঙ্গে বেরিয়ে পড়তেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়, বিকেলের দিকে বইমেলায় ঢুঁ মারতেও ভুলতেন না! এবার অবশ্য এই দিনে শুটিং পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে জানান ওই অভিনেত্রী।

ভালোবাসা দিবসটা ঘটা করে পালন করা না হলেও নাবিলা কিন্তু উপহার দিতে পছন্দ করেন, “দিনটা খুব আহামরিভাবে পালন করা হয়নি কখনো। কিন্তু এই দিনে প্রিয় মানুষকে উপহার দিতে ভালোবাসি। অন্য সময় তো আর আলাদা করে উপহার দেওয়া হয় না, এদিনে একটি উপলক্ষ পাওয়া যায়; মন্দ কি!”

শবনম ফারিয়া
মিষ্টি হাসি দিয়ে এই অভিনেত্রী জয় করেছেন অনেকের হৃদয়। মডেলিং কিংবা অভিনয়, দুই ক্ষেত্রেই দারুণ জনপ্রিয় শবনম ফারিয়া কিন্তু সবার চেয়ে একটু ভিন্ন। বিশেষ দিনগুলোতে শুটিং না রাখারই চেষ্টা করেন। এবারও পহেলা ফাল্গুনে কোনো শুটিং করবেন না। বোনের জন্মদিন হওয়ায় পরিবারের সঙ্গেই সময়টা কাটাবেন বলে জানান তিনি। তবে কয়েক বছর আগেও বন্ধুদের সঙ্গে দিনভর ঘুরে বেড়াতেন ঢাকার আনাচেকানাচে, “হলুদ শাড়ি তো পরতেই হতো। সঙ্গে মাথায় ফুল লাগাতাম, এটা ছাড়া কী আর ফাল্গুন জমে?” সত্যিই তো, খোঁপায় ফুল না থাকলে কী ফাল্গুনের সাজটা পূর্ণতা পায়, বলুন?

ফারিয়ার কাছে ‘ভালোবাসা দিবসের’ অর্থটা একটু অন্যরকম। গত ৪-৫ বছর ধরে মা-বাবার সঙ্গে ডিনার করেই দিনটা উদযাপন করেন। ভালোবাসার সবচেয়ে বড় দাবিদার যে এই দু’জনই! এই দিনে তাই তাদের সান্নিধ্যেই কাটিয়ে দেন ফারিয়া। ফাল্গুন আর ভালোবাসা দিবসটা পছন্দের হলেও এই দিনের জ্যামটা কিন্তু একেবারেই পছন্দ নয় ফারিয়ার। যানজটের ভয়ে এখন আর টিএসসির পথ মাড়ান না তিনি!

সুমন পাটোয়ারী
বিজ্ঞাপন দিয়ে যাত্রা শুরু এই সুপরিচিত অভিনেতার। এরপর ‘হাউজফুল’ নাটকের মাধ্যমে তুমুল জনপ্রিয়তা পাওয়া সুমন পাটোয়ারী পেশাগত জীবনের সঙ্গে অভিনয়ের কাজটাও সমান তালে চালিয়ে যাচ্ছেন। পহেলা ফাল্গুনের দিন শুক্রবার না হওয়ায় অফিসের কাজেই ব্যস্ত থাকতে হবে তাকে। তবে অফিস শেষে বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে বের হবেন। বড় হওয়ার পর থেকে বন্ধুদের সঙ্গেই তার ফাল্গুনের বেশিরভাগ স্মৃতি জড়িয়ে আছে। এছাড়াও সামাজিক মাধ্যমে সবার শুভেচ্ছা পেয়েই ফাল্গুনের আনন্দটা উপভোগ করেন। অন্যদের মতো বিশেষ এই দিনে বিশেষ রঙের পোশাক নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামান না তিনি। অন্য দশটা দিনের মতোই সাধারণ পোশাকেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। ভালোবাসা দিবস নিয়ে সুমনের মতামতটা একটু ভিন্নই বলা চলে, “আসলে বন্ধুত্বটাই চিরদিনের ভালোবাসার বন্ধন। এজন্য এই দিনে বরাবরই নিজের বন্ধুদের নিয়েই সময় কাটানোর চেষ্টা করি। সব সম্পর্কই তো আসবে যাবে, কিন্তু বন্ধুত্বটা আজীবন একইরকম থেকে যাবে।”

শুটিং আর পরিবার এই দু’দিক সামলে চলতে হয় প্রতিটি তারকার। আর তাই অনেক ক্ষেত্রেই এই বিশেষ দিনগুলো আলাদাভাবে পালন করা হয়ে ওঠে না। তাই ওই দিনগুলোতে তারকা হয়ে ওঠার আগের স্মৃতিগুলোই তাদের জন্য বড় পাওয়া।

- ফাহিম মাশরুর