বুধবার,১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯
হোম / জীবনযাপন / যে ঘরে-বাইরে সমানতালে সেই স্মার্ট পুরুষ
০৪/১০/২০১৯

যে ঘরে-বাইরে সমানতালে সেই স্মার্ট পুরুষ

-

‘ঘরে-বাইরে সমানতালে’ জনপ্রিয় এই বাক্যটি শুধু কর্মজীবী নারীর ক্ষেত্রেই ব্যবহার হয়। পুরুষের ক্ষেত্রে নয় কেন। অনেক পুরুষই আছেন যাঁরা মনে করেন, ঘরের কাজ শুধু নারীদের জন্যই! এই প্রথা সেই আদিকাল থেকেই চলে আসছে। কিছু পুরুষ এই ধ্যান-ধারণা থেকে বেরিয়ে আসছেন ঠিকই। কিন্তু পরিবার, সমাজের অজুহাত দেখিয়ে নারীর কাঁধেই ঘরের সব কাজ চাপিয়ে দেওয়া হয়। পুরুষদের মধ্যেও সামাজিকভাবে সমালোচিত হওয়ার ভয় থাকে। ঘরের কাজ করলে মানুষ কী বলবে! ‘রান্নাবান্না কি ছেলেদের কাজ?’ আমি টাকা রোজগার করি, ঘরের কাজটাজ কিছু করতে পারব না, কিংবা ‘বাচ্চাদের পড়ালেখার খোঁজ রাখার দায়িত্ব আমার না, আমাকে অফিস করতে হয়, হাজারটা মানুষের কথা ভাবতে হয়।’ এ-রকম বেশ গর্বের সঙ্গেই বলেন অনেক পুরুষ। মনের মধ্যে একটা বিশ্বাস তাঁরা সযতেœ লালন করেন ঘরের কাজ করা তাঁর ‘পুরুষ’ পরিচয়ের জন্য অবমাননাকর। ঘরের কাজের সব দায়িত্ব বাড়ির নারীর। তা সেই নারী স্ত্রী, মা-বোন বা কন্যা যাই হোক না কেন।
ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জ্যাকুলিন স্কট ও তাঁর দল ৩৪টি দেশের ৩০ হাজার মানুষের ওপর এ-সংক্রান্ত একটি জরিপ পরিচালনা করেছে। ব্রিটিশ পত্রিকা ডেইলি মেইলের অনলাইন সংস্করণে জরিপের ফলাফল নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, যেসব পুরুষ ঘরের কাজে তাদের স্ত্রীদের সাহায্য করে, তারা অনেকবেশি রোমান্টিক হয় এবং তাদের দাম্পত্যজীবন সুখের হয়! জরিপে আরো দেখা গেছে, আজকাল ঘরের কাজ করতে চায় না, এমন মানসিকতার পুরুষদের সংখ্যা দিন দিন কমছে। এর একটা প্রধান কারণ হতে পারে চাকরি!
যেসব ঘরে স্বামী-স্ত্রী দুজনই চাকরি করে, তারা ঘরে ফিরে একে অন্যের কাজ ভাগাভাগি করে নেয়। বিশেষ করে পুরুষরা সাংসারিক কাজে আগের চেয়ে অনেক বেশি সাহায্য করছে। পুরুষরা সচরাচর রান্না করা, বাসন পরিষ্কার বা কাপড় কাচা একেবারেই পছ্ন্দ করে না। কিন্তু তারাই এই ধরনের কাজ করতে আগ্রহী হয়, যারা দাম্পত্যজীবনে সুখী হতে চায়।
মূলত দাম্পত্য সম্পর্ক, সামাজিক দক্ষতা আর সন্তান লালন-পালনের প্রশ্নেও ঘরের কাজে পুরুষের অংশগ্রহণ জরুরি। কোনো কোনো সময় বিষয়টি আবার শুধু পুরুষ সঙ্গীর ওপর নির্ভর করে না। বাড়ির নারী নিজেও একটা ভ্রান্তির মধ্যে থাকেন এবং বিশ্বাস করেন যে, ঘরের কাজে পুরুষ একবারেই অপাঙ্ক্তেয়। এটাও কিন্তু একধরনের ‘অবজারভেশনাল লার্নিং’। পরিবারে বিষয়টির চর্চা না থাকায় পুরুষদের যে ঘরের কাজ করতে হবে এবং করাটাই যে আধুনিকতা, সেই বোধটি তৈরি হয় না।
দাম্পত্যে ভারসাম্য আনতে পরিবারে দুজনের কর্মবণ্টন সুষম হতে হবে। পরস্পরের সম্পর্কের মধ্যে পারস্পরিক সম্মানবোধ থাকতে হবে। কাজের বেলায় ‘পুরুষের কাজ’ বা ‘নারীর কাজ’ বলে ভাগ করা চলবে না। এতে দাম্পত্য সম্পর্ক জোরালো হয়। আধুনিক যুগে একজন স্মার্ট মানুষ, তিনি পুরুষ হন বা নারীই হোন, তিনি কোনো কাজকেই হেয় মনে করবেন না, ভয় পাবেন না। স্মার্ট নারী যেমন রকেট চালাতে পারদর্শী হবেন, তেমনি একজন স্মার্ট পুরুষ রান্নাঘরের বাসন-পাতিল পরিষ্কার করতে সক্ষম হবেন। একজন পুরুষ তাঁর পেশাগত কাজের পাশাপাশি ঘরের কাজও তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে ভাগ করে নেবেন। রান্নাকরা, ঘর পরিষ্কার করা আর সন্তান লালন-পালনে অংশ নেওয়া থেকে শুরু করে ঘরের প্রতিটি কাজ করবেন। এতে করে দাম্পত্য সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়, এমনটিই প্রমাণিত হয়েছে রুয়ান্ডায় পরিচালিত একটি গবেষণায়। ‘বান্দেবেরেহো’ শীর্ষক ওই প্রকল্পের গবেষণায় দেখানো হয়েছে, ঘরের কাজে পুরুষের অংশগ্রহণ দাম্পত্য সহিংসতাকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমিয়ে দিয়েছে।
এছাড়া ঘরের কাজে যদি বাবা-মাকে একসঙ্গে কাজ করতে দেখে তখন শিশুর বিকাশ অনেক সুষম হয় এবং তার মধ্যে অপরের প্রতি সম্মানবোধ তৈরি হয়।


-জাহিদ হাসান দিপু
ছবি : জীবন আহমেদ