শনিবার,২৩ মার্চ ২০১৯
হোম / জীবনযাপন / ভগ্নহৃদয় বন্ধুকে সামলাবেন যেভাবে
০৩/০৭/২০১৯

ভগ্নহৃদয় বন্ধুকে সামলাবেন যেভাবে

-

যদি সদ্যই আপনার কাছের বন্ধুকে তার প্রেমিক কিংবা প্রেমিকা ছেড়ে চলে যায় তবে কী করে তার পাশে দাঁড়াবেন? তার এই হতাশা কাটিয়ে উঠতে কীভাবে আপনি তাকে সাহায্য করতে পারেন?
এমন অবস্থায় হুটহাট করে নেওয়া সিদ্ধান্ত, পুনরায় সে সম্পর্কে ফিরে যাওয়া কিংবা উদ্দাম পার্টি কখনোই এর সমাধান হতে পারে না। বরং বন্ধুর এ বিষণœ সময়টিকে কাটিয়ে উঠতে আপনার বন্ধুত্বটিকে সাহায্য করতে নিচের কাজগুলো করে দেখতে পারেন।





ধৈর্য নিয়ে তার স্মৃতিচারণ শুনুন

বন্ধুর ব্রেক আপের পর তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে হলে ধৈর্যই হবে আপনার সবচেয়ে বড় সহায়ক। কারণ বন্ধু আপনার কাছেই তার অতীত নিয়ে স্মৃতিচারণ করবেন, হতাশা, রাগ-ক্ষোভ ঝাড়বেন। এক্ষেত্রে মোটেও অধৈর্য হওয়া চলবে না আপনার। জাজমেন্টাল হবার দিকটায়ও খেয়াল রাখতে হবে আপনার, খুব বেশি পরামর্শও দিতে যাবেন না।

বন্ধুকে দোষ না দিয়ে তার সম্পর্কের ভুলগুলো ধরিয়ে দিন

একে অপরের দোষ ধরিয়ে দিয়ে শোধরানোর সুযোগ দেওয়া প্রকৃত বন্ধুর কাজ। তবে এই সময়টা সেসবের জন্য উপযুক্ত নয় মোটেও। যদি একান্ত করতেই হয় তবে খুব সূক্ষ্মভাবে বন্ধুর সম্পর্কের ভুলগুলো ধরিয়ে দিন, যা সেই সম্পর্কটিকে টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে, বন্ধুকে ব্রেক আপের জন্য সরাসরি দায়ী করা যাবে না মোটেও।

তাকে বুঝতে দিন-আপনি তারই পক্ষে

বন্ধুর কাছে সবার আগে এটা পরিষ্কার করুন যে, আপনি তার পক্ষেই আছেন। কেননা এটা তাকে পুনরায় স্বাভাবিক হতে সাহায্য করে এবং মানসিক সমর্থন অনুভব করার পথ তৈরি করে দেয়।

বন্ধুকে সময় দিন

ইদানীং সময়ে ব্রেকআপের যন্ত্রণা ভোলার টোটকা হিসেবে অনেকেই উদ্দাম পার্টি-উদযাপনের পরামর্শ দেন। এসবে মোটেও বিশ্বাস করা উচিত নয়। বরং এই মুহূর্তে এর বিপরীতটাই প্রয়োজন আপনার বন্ধুর। এরচেয়ে নির্জন কোনো ক্যাফেতে খোশগল্পে মেতে উঠতে পারেন বন্ধুটিকে নিয়ে। কিংবা বন্ধুর বাসায় কোনো হরর-কমেডি ঘরানার মুভিও দেখতে পারেন একসঙ্গে। চাইলে বন্ধুটিকে সঙ্গে নিয়ে দূরে কোথাও ঘুরেও আসতে পারেন! মোদ্দাকথা, তার একাকিত্ব দূর করতে সাহায্য করুন। তার সাথে একান্তে কিছুটা সময় কাটান।

রিবাউন্ড সম্পর্ককে না বলুন

বন্ধুর ব্রেকআপের পরপরই সে যাতনা ভোলাতে আরেকজনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলে সেটা হবে একটা বাজে কাজ। এসব সম্পর্ক তো অতীত ভুলতে সাহায্য করেই না, বরং ক্ষেত্রবিশেষে উসকে দেয় পুরনো স্মৃতিকে। পুরনো সম্পর্ক ভুলতে আরেকটা সম্পর্কে জড়ানোর ব্যাপারে আপনার বন্ধুকে নিরুৎসাহিত করুন।

তাকে অপরাধবোধে ভুগতে দেবেন না

ব্রেকআপের পর অপরাধবোধে ভোগাটা খুবই সাধারণ ব্যাপার। কেউ কেউ এটা থেকে সহজে বেরিয়ে আসতে পারেন। আবার কেউ এর কানাগলিতে আটকা পড়েন। ক্রমাগত অপরাধবোধের দংশনে ধীরে ধীরে মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন। যদি আপনার বন্ধু এই ঘরানার হয়ে থাকেন তবে তার ঘনিষ্ঠজন হবার কারণে তাকে এ অবস্থা থেকে টেনে তোলার দায়িত্ব আপনার কাঁধেই বর্তায়। তাকে বোঝান যে, দুজনের কার্যকলাপেরই ফল ব্রেক আপ। এখানে দায় শুধু তার একার নয়।

বন্ধুকে অসৎ সঙ্গ থেকে দূরে রাখুন

আপনার বন্ধুর আশপাশের অনেককেই তার জীবনে এ সময় বাজে প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে। ব্রেকআপের পর সেসব মানুষ থেকে বন্ধুকে দূরে রাখুন। কেননা ব্রেক আপের পর শূন্যতা ঢাকতে মানুষ যে কোনো কিছু করতে প্রস্তুত থাকে। যদি বাজে সঙ্গ পেয়ে বসে আপনার বন্ধুকে তবে তিনি হয়তো মাদকাসক্তি, কিংবা অন্যান্য নীতি বিবর্জিত কাজে লিপ্ত হয়ে যেতে পারেন। তাই আপনার প্রিয় বন্ধুটিকে এসব কাজে দেখতে না চাইলে অসৎ সঙ্গ থেকে তাকে যতটা সম্ভব দূরে রাখার চেষ্টা করুন।


-নাহিয়ান ইসলাম
ছবি : শুহরাত শাকিল চৌধুরী