শনিবার,২৩ মার্চ ২০১৯
হোম / সম্পাদকীয় / কেউ কারো প্রভু নয়
০৩/০৩/২০১৯

কেউ কারো প্রভু নয়

-

নারীদের অধিকার রক্ষার জন্য একটি দিবস আছে। কিন্তু পুরুষদের জন্য নেই। কারণ, পুরুষরাই নিয়ন্ত্রক। পুরুষরা কেবল নিয়ন্ত্রকই নয়, বিশ^জুড়ে তারা এমনভাবে সকল সিস্টেম তৈরি করে রেখেছে যে, নারীকেও তারা ভাবতে শিখিয়েছে পুরুষদের মতো করে। এজন্য নারীরাও বহুক্ষেত্রে পুরুষদের মতোই করেই জগৎটাকে দেখে, পুরুষদের এঁকে দেওয়া সীমানাকে নিজেদের অধিকারের অর্জন ভেবে গৌরব বোধ করে।
কিন্তু আমরা আজ বিষয়টিকে একটু অন্যভাবে দেখে নিতে পারি। যদি এমন দিন আসে যে, পুরুষরাও তাদের অধিকারের জন্য একটি দিবস পেতে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়বে! মনে হতে পারে, এটা ফ্যান্টাসি। বিজ্ঞান কিন্তু এমনই এক ভয়ানক কথা শুনিয়েছে। একটি শিশু কেন ছেলে বা মেয়ে হয়, এই রহস্য আমরা জানি। নারীর জননকোষের দুটো ক্রোমোজমই হলো X অর্থাৎ XX। আর পুরুষের একটি X, অন্যটি Y ক্রোমোজম। পুরুষের একটি X আর নারীর যে-কোনো একটি X মিলে মেয়ে সন্তানের জন্ম হয়, অন্যদিকে পুরুষের একটি Y আর নারীর ওই যে-কোনো একটি X মিলে জন্ম হয় ছেলে সন্তানের। অর্থাৎ Y ক্রোমোজোমের গুণ একটাই, ভ্রণের পুরুষলিঙ্গ ঠিক করে দেওয়া। এই কাজটি ছাড়া Y আর সব ব্যাপারে মোটামুটি নির্গুণ। চমকপ্রদ ঘটনা হলো, দ্য কনভারসেশন ডটকম নামের বিজ্ঞানবিষয়ক পত্রিকা জানিয়েছে যে, খুব দ্রুতগতিতে পুরুষপ্রজাতির Y ক্রমোজমের অবনতি হচ্ছে। সাড়ে ১৬ কোটি বছর আগে স্তন্যপায়ী প্রাণীদের আবির্ভাবের সময় X ও Y ক্রোমোজমের আকার ও গুণাগুণ ছিল সমান। কিন্তু নারীর জননকোষে যেখানে X ক্রোমোজমের দুটো করে কপি আছে, সেখানে পুরুষের Y আছে কেবল একটি। এই একটিই পিতা থেকে পুত্রের মধ্যে চলে আসে। একটিমাত্র হওয়ায় অন্য জিনের সঙ্গে আদান-প্রদানের মাধ্যমে আরও বিকশিত হওয়ার সুযোগ তার নেই। ফলে, Y-এর অবনতিই হচ্ছে। বর্তমানে এর আকার X ক্রোমোজমের চেয়ে অনেক ছোট। এভাবে চললে মাত্র ৪৫ লক্ষ বছরে এটি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। মনে হতে পারে, ৪৫ লক্ষ বছর তো অনেক দূরের কথা। কিন্তু সেটা স্তন্যপায়ী প্রাণীর বিকাশের সাড়ে ১৬ কোটি বছরের তুলনায় কিন্তু খুব সামান্য সময়। দূর-ভবিষ্যতে এমনও হতে পারে যে, নারীরা পুরুষ ছাড়াই বাচ্চা জন্ম দেবে। কারণ, নারীদের দুটো X ক্রোমোজম আছে যার মাধ্যমে ক্লোনিং বা কৃত্রিম উপায়ে গর্ভধারণ করা সম্ভব। অথবা গবাদি খামারের মতো পুরুষদের সংরক্ষণ করতে কৃত্রিম খামার তৈরি হতে পারে, যার মধ্যে বাঁচিয়ে রাখা হবে Y ক্রোমোজম। খামারবন্দি পুরুষরা তখন তাদের অধিকারের জন্য আন্দোলন করতে পারে, নতুন কোনো পুরুষ দিবসের জন্ম হতে পারে। প্রকৃতির অপার রহস্যের ভেতরে কত কিছুই তো ঘটে।
সুতরাং, সাবধান হে পুরুষ! নিজেদের রক্ষার স্বার্থেই নারীদের প্রতি মানবিক হওয়া প্রয়োজন। আমরা মনে করি, পুরুষ ও নারী পরস্পরের পরিপূরক, কেউ কারো প্রভু নয়। সকলের সহযোগিতায় মানবিকবিশ্ব গড়ে উঠুক, ভেঙে পড়ুক সকল শৃঙ্খল।
সবার জন্য ভালোবাসা।

- তাসমিমা হোসেন