শনিবার,২৩ মার্চ ২০১৯
হোম / ফিচার / সাতাশ বছর বয়সেই বিলিয়নার অঙ্কিতি
০২/১৭/২০১৯

সাতাশ বছর বয়সেই বিলিয়নার অঙ্কিতি

- অনন্যা ডেস্ক:

মাত্র ২১ লক্ষ টাকা দিয়ে শুরু। আর চার বছরের মধ্যেই তা দাড়িয়েছে ৯ হাজার ৮০০ কোটিতে। এমন অসম্ভব ব্যাপারকে সম্ভব করে দেখালেন সাতাশ বছর বয়সী বঙ্গতনয়া অঙ্কিতি বসু।
অঙ্কিতির ফ্যাশন ই-কমার্স সংস্থা 'জিলিঙ্গো' এরই মাঝে ইউনিকর্ন তকমা পেয়ে গিয়েছে। কোনও সংস্থার ব্যবসা যদি কোন কারণে ১০০ কোটি মার্কিন ডলার পেরোয় তবে এমন তকমা দেওয়া হয় সেই প্রতিষ্ঠানকে। আর তার ধারাবাহিকতায় ভারতের সর্বকনিষ্ঠতম নারী নির্বাচিত হলেন অঙ্কিতি, যিনি কোনও ইউনিকর্ন সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও।

অঙ্কিতির জন্ম বাঙালি পরিবারে হলেও তার বেড়ে ওঠা বাংলার বাইরে। ২০১২ সালে মুম্বাইয়ের সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে অর্থনীতি ও গণিত বিষয় নিয়ে পড়াশোনা শেষ করে চাকরি শুরু করেন মার্কিন কনসাল্টিং সংস্থা ম্যাকিনজির মুম্বাই শাখায়। সেখান থেকে যোগ দেন সেকোয়া ক্যাপিটালসের বেঙ্গালুরুর অফিসে। তেইশ বছর বয়সে সেখানেই তার প্রথম আলাপ হয় ধ্রুব কপূরের সঙ্গে। যিনি আইআইটি গুয়াহাটি থেকে পড়াশোনা শেষ করে গেমিং স্টুডিয়ো কিউয়ি আইএনসির সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে কর্মরত ছিলেন ধ্রুব।
তারা দুজনই চাইছিলেন নিজেদের মতো করে কিছু করার। সেই স্বপ্নের পথে প্রথমেই তাদের মাথায় আসে ই-কমার্স সাইট খোলার কথা।কিন্তু ভারতে তখন ফ্লিপকার্ট, অ্যামাজনের মতো সংস্থার বিস্তার অনেক বেশি। এমন বড় বড় সংস্থার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় কিভাবে পেরে ওঠবেন তার চিন্তাভাবনা করতে থাকেন সবসময়। ঠিক সেই সময় ব্যাঙ্কক বেড়াতে গিয়ে নতুন ভাবনা খেলে যায় অঙ্কিতির। সেখানকার চতুচক বাজারে ঢুকে স্থানীয় ডিজাইনারদের তৈরি পোশাক, জুতা, ব্যাগ এবং অ্যাকসেসরিজ ইত্যাদি নজরে পড়ে তার। ভাষাগত সমস্যা থাকায়, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পক্ষে সেগুলি দেশের বাইরের লোকের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বুঝতে পারেন তিনি।

দেশে ফিরে ধ্রুবের সঙ্গে আলোচনা করে চাকরি ছেড়ে দিয়ে মাত্র ২১ লক্ষ টাকা পুঁজি নিয়ে কাজে লেগে পড়েন তারা। প্রাথমিকভাবে মার্কেট রিসার্চ সম্পন্ন করতেই প্রায় একবছর লেগে যায়।থাইল্যান্ডের ব্যাঙ্ককের বাজারে ঘুরে ঘুরে ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনলাইন ব্যবসায় আগ্রহ গড়ে তুলতে শুরু করেন অঙ্কিতি। আর বেঙ্গালুরুতে বসে প্রযুক্তিগত দিক সামলাতে শুরু করেন ধ্রুব। প্রথমে দক্ষিণ এশিয়ার বাজার দখল করাই ছিল তাদের লক্ষ্য। সেই অনুয়াযী কাজ শুরু করার মাত্র চারবছরেই সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান, চীন, কোরিয়া এবং কম্বোডিয়ার বাজার দখল করতে সফল হয়েছে 'জিলিঙ্গো'। এখন তাদের লেনদেন ভারত এবং অস্ট্রেলিয়াতেও শুরু হয়েছে।

চাকরির শুরুর দিকে যে সেকোয়া সংস্থাইয় কর্মরত ছিলেন অঙ্কিতি, আজ সেই সংস্থাই 'জিলিঙ্গোয়' ২২ কোটি ৬০ লক্ষ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে। অঙ্কিতির সংস্থায় এখন তামসেক হোল্ডিং প্রাইভেট লিমিটেডের বিনিয়োগ রয়েছে। বর্তমানে 'জিলিঙ্গোর' সদর দপ্তর সিঙ্গাপুরে সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অঙ্কিতি। আর বেঙ্গালুরুতে সংস্থার প্রযুক্তিগত প্রধান হিসেবে প্রায় ১০০ জন কর্মীকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ধ্রুব।