মঙ্গলবার,১৮ Jun ২০১৯
হোম / জীবনযাপন / পদত্যাগের কায়দাকানুন
০১/২৭/২০১৯

পদত্যাগের কায়দাকানুন

-

আপনার বর্তমান প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরি ছেড়ে চলেই তো যাচ্ছেন, আর চিন্তা কী, তাই না? যদি এমনটাই ভেবে থাকেন তো ভুল করবেন। চাকরি ছাড়ার সময় উর্ধ্বতন ও সহকর্মীদের সঙ্গে আপনার আচরণের উপর ভবিষ্যৎ কর্মস্থলে কর্মী হিসেবে আপনার সুনাম অনেকাংশে নির্ভর করে। আগের কর্মস্থলের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখলে পরবর্তী কর্মস্থলের জন্য শুধু শুভকামনা ছাড়াও সুকর্মী হিসেবে রেফারেন্স, আরো ভালো নেটওয়ার্কিং এর জন্য বিভিন্নজনের পরিচয়সহ আরো অনেক ধরনের সহায়তা পেতে পারেন যে কোনো সময়।

তাই চাকরি ছাড়ার সময় সুন্দর ও কেতাদুরস্ত উপায়ে চাকরি ছেড়ে নতুন কর্মস্থলের দিকে এগিয়ে যাওয়া উচিত। এবং সেজন্য যেসব বিষয় লক্ষ্য রাখবেনÑ


চাকরি ছাড়ার জন্য একটি ভালো কারণ

চাকরি ছাড়ার আগে অবশ্যই নিশ্চিত হোন, যে কারণে চাকরি ছাড়ছেন তা যথেষ্ট। চাকরি করতে ভালো না লাগা কোনো কারণ হতে পারে না, যদি না আরেকটা ভালো উপার্জনের ক্ষেত্র আপনার জন্য তৈরি থাকে।

তবে অনেক সময় অন্য কোনো কাজ না পেলেও চাকরি ছেড়ে দেয়ার যৌক্তিক কারণ থাকতে পারে। প্রথমেই ভেবে দেখুন চাকরি ছাড়ার জন্য

আপনার কারণটি যথেষ্ট শক্ত কিনা।

পদত্যাগ করুন সম্মানের সাথে
চাকরি ছাড়ার সময় এমনভাবে ছাড়ুন যেন সাবেক কর্মস্থলে কেউ আপনার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না তুলতে পারে। আপনার হাতে যদি কোনো কাজ জমা থাকে সেগুলো শেষ করুন শেষ কর্মদিবসের আগেই। যদি শেষ না করতে পারেন তাহলে উর্ধ্বতনকে আগে থেকেই সেগুলোর সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে জানিয়ে রাখুন।

অন্তত দুই সপ্তাহ আগে জানান
চাকরি ছাড়ার অন্তত দুই সপ্তাহ আগে কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দিন। এটি বিশ্বব্যপী গ্রহণযোগ্য একটি আচরণ। যদি আপনার চাকরিটি চুক্তিভিত্তিক হয়ে থাকে তাহলে চুক্তিতে যতদিন আগে জানানোর কথা রয়েছে সেই সময় মেনে পদত্যাগের কথা জানান।

যেভাবে বলবেন
যখন উর্ধ্বতনকে চাকরি ছাড়ার কথা নিজ মুখে অথবা পদত্যাগপত্রের মাধ্যমে জানাবেন, কিছু বিষয় স্পষ্ট করে জানানো জরুরি, যেমনÑ কর্মস্থল ছাড়ার নির্দিষ্ট তারিখ। আবার অনেক কথা বলার থাকলেও সবকিছু একবারে না বলে ফেলাই ভালো। যেমনÑ কোনো ক্ষোভের কথা, অথবা কারো বিষয়ে কোনো অভিযোগ।

পদত্যাগপত্র জমা দিন
অবশ্যই আপনার পদত্যাগপত্র জমা দিন। কারণ, এটি প্রতিষ্ঠানে আপনার ফাইলের অংশ হয়ে থাকবে, এবং ভবিষ্যতে সাবেক প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো প্রশংসাপত্র দরকার হলে আপনার হয়ে কথা বলবে।

যেভাবে লিখবেন পদত্যাগপত্র
পদত্যাগপত্রের ভাষা এমন হওয়া উচিত যেন সাবেক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আপনার সুসম্পর্ক বজায়ে থাকে। আবার নির্দিষ্ট কিছু তথ্য, যেমনÑ কর্মস্থল ছাড়ার তারিখ, কারণ প্রভৃতি স্পষ্ট ভাষায় লেখা জরুরি। তবে পদত্যাগপত্রের আকার সবসময় ছোট ও সরল হওয়া উচিত।

ই-মেইলে পদত্যাগপত্রের কেতা
ব্যক্তিগতভাবে উর্ধ্বতনকে জানিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে চাকরি ছাড়া সর্বশ্রেষ্ঠ উপায়, তবে ইদানীং দ্রুত অবহিত করার উপায় হিসেবে ই-মেইলে পদত্যাগপত্র পাঠানো হয়ে থাকে। অনেক প্রতিষ্ঠানও এখন ই-মেইলে সংশ্লিষ্ট সব ব্যক্তিদের পদত্যাগের কথা জানিয়ে ‘সিসি’ ই-মেইল পাঠানোর তাগিদ দিয়ে থাকে। ই-মেইলের ক্ষেত্রেও পদত্যাগপত্রের আকার ছোট ও সরল হওয়া অত্যন্ত জরুরি।

টেলিফোনে পদত্যাগের কেতা
টেলিফোনে চাকরি ছেড়ে দেয়ার কথা জানানোটা কখনওই ভালো আচরণ নয়। তবে পরিস্থিতি যদি একেবারেই এমন হয় যে কর্মস্থলে গিয়ে, এমনকি ই-মেইলেও পদত্যাগপত্র দেওয়া সম্ভব না হয়, তবে অন্তত ফোনে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার কথা উর্ধ্বতনকে জানিয়ে দেয়া উচিত। তবে এভাবে চাকরি ছাড়লে পরবর্তীসময় ভালো রেফারেন্স পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েই তা করতে হবে।

সবাইকে বিদায় জানিয়ে আসুন
উর্ধ্বতন ও সহকর্মীদের বিদায় জানিয়ে কর্মস্থল থেকে বের হন। তবে লক্ষ্য রাখুন বিদায় নেওয়ার বিষয়টি যেন পদত্যাগপত্র গৃহীত হওয়ার পরেই হয়। সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্কের গভীরতা অনুযায়ী ব্যক্তিগত সাক্ষাতে বা ই- মেইলের মাধ্যমেও বিদায় জানাতে পারেন।

আপনার পেশা যদি ক্লায়েন্টদের সঙ্গে সম্পর্কিত হয় তবে ই-মেইলের মাধ্যমে তাদেরও প্রতিষ্ঠান ছেড়ে যাওয়ার বিষয়টি জানাতে পারেন।

পদত্যাগের সময় আরো যা খেয়াল রাখবেন
পদত্যাগের সময় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আপনার বকেয়া বেতন, বোনাস বা ক্ষতিপূরণ, পেনশন পলিসি, ছাড়পত্র ও সম্ভাব্য রেফারেন্সসহ সব ধরনের দেনা-পাওনার হিসাব বুঝে নিন। আপনি প্রতিষ্ঠান ছেড়ে চলে আসার পরে এসব জিনিস হাতে পেতে অনেক বেশি ঝামেলা পোহাতে হতে পারে।

- কাজী শাহরিন হক