শনিবার,১৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৯
হোম / স্বাস্থ্য-ফিটনেস / প্যানিক অ্যাটাকঃ কীভাবে বুঝবেন,কী করবেন
০১/১৫/২০১৯

প্যানিক অ্যাটাকঃ কীভাবে বুঝবেন,কী করবেন

-

জীবিকার তাগিদে শত-সহস্র কাজে ব্যস্ত থেকে দিন পার করতে হয় আমাদের। আর এতশত কাজ করতে গিয়ে স্ট্রেস লেভেল বাড়তে থাকে, দেখা দেয় নানাবিপত্তি। মাঝে মাঝে স্ট্রেস এতটাই বেড়ে যায় যে, হুট করে মনে হয় মাথা একেবারে শূন্য হয়ে যাচ্ছে, হার্টবিট লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। অধিকাংশ ব্যক্তিই এমন উপসর্গকে হার্ট অ্যাটাকের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন। কিন্তু এই সমস্যার প্রকৃত নাম- প্যানিক অ্যাটাক।

প্যানিক অ্যাটাক কী এবং কীভাবে বুঝবেন?
হুট করে অসম্ভব রকমের ভয় এবং দুশ্চিন্তা ব্যক্তিকে ঘিরে ধরেছে এমন অনুভূতিকে প্যানিক অ্যাটাকের নাম দেওয়া হয়েছে। এমন সময় আপনার মধ্যে চরম ভীতি কাজ করবে, মাথা খালি হয়ে আসবে এবং একই সাথে হার্টবিট অস্বাভাবিক রকম বেড়ে যাওয়া বা বুকে ব্যথা অনুভব হতে পারে। যারা এর আগে কখনো এমন অনুভূতির শিকার হননি তারা অনেকেই ভাবেন এটা বুঝি হার্ট অ্যাটাক। পাঁচ মিনিট থেকে আধা ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী এই অনুভূতির সময় প্রতিটি সেকেন্ডে আপনি ভাববেন আপনার হার্ট ফেইল করছে এবং আপনি মারা যাচ্ছেন। কিছুটা আশাব্যঞ্জক ব্যাপার হচ্ছে কিছু সময় পর আপনি বড় ধরনের শারীরিক ক্ষতি ছাড়া এই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে পারবেন। তবে তাই বলে এই উপসর্গের তীব্রতা কম এটা ভাবা ভুল। যারা নিয়মিত এমন সমস্যায় ভোগেন তাদের মধ্যে এক সময় প্যানিক ডিজঅর্ডার দেখা দেয়, যা মানসিকভাবে ব্যক্তিকে একেবারে ভঙুর করে ফেলে। তাই প্যানিক অ্যাটাকের সঠিক চিকিৎসা না নিলে তা আপনার মানসিক এবং এরপর ধীরে ধীরে শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে প্রতীয়মান হতে পারে।

তাই সবার আগে দরকার প্যানিক অ্যাটাকের লক্ষণগুলো সম্পর্কে একেবারে পরিষ্কার ধারণা। যাতে করে এই জটিল মানসিক অবস্থা মোকাবেলা

করা যায়। নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে প্যানিক অ্যাটাকের সময় আপনি নিম্নোক্ত অনুভূতিগুলোর সম্মুখীন হবেন।

-মাথা ঘোরা;
-হুট করে প্রচন্ড ঘামতে থাকা;
-শরীরে কাঁপুনি অনুভব করা;
-শ্বাস ভারি হয়ে আসা;
-বুকে ব্যথা অনুভব করা;
-হার্টবিট হুট করে বেড়ে যাওয়া;
-শরীর অসার হয়ে আসছে এমন মনে হওয়া;
-বমি বা পাতলা পায়খানা হওয়া;
-প্রচন্ড নার্ভাসনেস কাজ করা;
-মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছেন এমন ভীতি কাজ করা;
-মারা যাচ্ছেন এমন মনে হওয়া।

হার্ট অ্যাটাকের সঙ্গে পার্থক্য
হার্ট অ্যাটাকের অনেক উপসর্গের সঙ্গেই প্যানিক অ্যাটাকের মিল রয়েছে। তবে এই দুই উপসর্গের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে, যা ব্যক্তির পক্ষে বোঝা অনেক সময়ই সম্ভব। হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে আপনি বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করবেন এবং ধীরে ধীরে এর তীব্রতা বাড়তেই থাকবে। অপরদিকে প্যানিক অ্যাটাকের ক্ষেত্রে ব্যথা হলেও তা ৫-১০ সেকেন্ডের বেশি স্থায়ী হবে না, বরং এর সঙ্গে যুক্ত হবে চরম উদ্বেগের অনুভূতি। এছাড়া হার্ট অ্যাটাকের সময় বুকে ব্যথা আস্তে আস্তে বাম হাত, কাঁধ, পিঠসহ শরীরে ছড়িয়ে পড়বে। অন্যদিকে প্যানিক অ্যাটাকের ক্ষেত্রে ব্যথা শরীরের সামান্য অংশজুড়ে করবে এবং তা ছড়াবে না।

প্রতিকার ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে প্যানিক অ্যাটাক নিয়ে একেবারে ভীত হয়ে পড়ে মানসিকভাবে দুর্বল না হয়ে পড়া। মনে রাখতে হবে, অবস্থা যত খারাপই হোক আপনি তা থেকে বের হয়ে আসতে পারবেন। তাই ভয়ের কাছে নিজেকে সঁপে না দিয়ে লড়াই করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে একেবারে শুরু থেকেই।

প্যানিক অ্যাটাকের সময় নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে ডিপ ব্রিদিং হচ্ছে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান। এক্ষেত্রে নিম্নোক্ত ব্রিদিং এক্সারসাইজগুলো বেশ কার্যকর হবে।

-ধীরে ধীরে লম্বা শ্বাস নিন। মুখের চেয়ে নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়া উত্তম।

-এবার আস্তে আস্তে মুখ দিয়ে শ্বাস ছাড়ুন।

-সুবিধার জন্য এক থেকে পাঁচ পর্যন্ত গুনতে গুনতে শ্বাস নিলেও ছাড়তে পারেন।

-এ সময় চোখ বন্ধ করে এই ব্রিদিং এক্সারসাইজ করুন।

এ তো গেল হুট করে প্যানিক অ্যাটাকের দ্রুত প্রতিকারের জন্য কী করবেন সে কথা। একইসাথে প্রতিরোধ ব্যবস্থাও গ্রহণ করতে হবে যাতে করে এমন জটিল উপসর্গ থেকে নিজেকে যতটা সম্ভব রক্ষা করা যায়।

-এ-ক্ষেত্রেও ব্রিদিং এক্সারসাইজের কথা বলতে হয়। নিয়মিত এমন এক্সারসাইজ প্যানিক অ্যাটাক প্রতিরোধ করতে সর্বাপেক্ষা কার্যকরী হবে।

-স্ট্রেস লেভেল নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে, মাথা থেকে দুশ্চিন্তা ঝেড়ে ফেলাও সমান জরুরি। আর এর জন্য নিয়মিত ব্যায়াম বেশ উপকারী।

-অ্যালকোহল, সিগারেট এবং অতিমাত্রায় ক্যাফেইন গ্রহণÑ এসব অভ্যাস যতটা সম্ভব কমিয়ে আনুন।

-ব্লাড সুগার লেভেল ঠিক রাখতে ঠিক সময়ে পরিমিত খাদ্য গ্রহণ করুন।

-কগনেটিভ বিহেভিয়ার থেরাপি (সিবিটি) বা এ রকম সাইকোলজিক্যাল থেরাপি নিতে পারেন। এ থেরাপিতে প্যানিক অ্যাটাকের পেছনে যে চিন্তাই থাকুক তা আপনার মাথা থেকে সরে যাবে।

- শাহরিয়ার মাহী

- মডেল : সালমীন, শাবিব, ছবিঃ শুহরাত শাকিল চৌধুরী