মঙ্গলবার,২০ অগাস্ট ২০১৯
হোম / জীবনযাপন / সন্তানকে দেশপ্রেম শেখান
০১/০২/২০১৯

সন্তানকে দেশপ্রেম শেখান

-

শিশুরাই দেশের ভবিষ্যৎ- কথাটা পৃথিবীর সব দেশেই মেনে নেয়া হয়। তাই শিশুদের প্রত্যেককে একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার প্রাথমিক পাঠ শুরুর দায়িত্ব সন্তানের মা-বাবারই। একজন মানুষকে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার প্রাথমিক ভিত্তিই হলো তার অন্তরে দেশপ্রেম জাগিয়ে তোলা, কারণ দেশকে অন্তর থেকে না ভালোবাসলে দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ গড়ে উঠবে না।

যে-কোনো ব্যক্তির মধ্যে দেশপ্রেম গড়ে তোলার অর্থ দেশের প্রতি সম্মান জানানোর অভ্যাস এবং নিজের দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে নানা ধরনের অর্জনের জন্য গর্ববোধ করা। আবার দেশের সাধারণ আইনসমূহ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা সম্পর্কে সঠিকভাবে জানা এবং সেগুলো মেনে চলার অভ্যাস করাও দেশপ্রেমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

আসুন এবারের বিজয় দিবসের দিনটি থেকেই শুরু করি সন্তানকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হতে শেখানো-

নিজেকে দেশপ্রেমিকের উদাহরণ হিসেবে গড়ে তুলুন
শিশুদের কোনো কিছু শেখানো এবং তাদের মধ্যে কোনো অভ্যাস গড়ে তোলার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো বাড়িতে কাজগুলো নিয়মিত করা। কাজগুলো একইসঙ্গে নিজের দেশপ্রেম প্রকাশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর মধ্যে একটি। জাতীয় পতাকাকে সম্মান জানানোর গুরুত্ব, এর নকশার অর্থ ও তাৎপর্য, সম্মান জানানোর নিয়ম-কানুন হাতে-কলমে শেখান আপনার ছোট্ট সন্তানটিকে। জাতীয় সংগীত শুনতে পেলে দাঁড়িয়ে যাওয়ার অভ্যাস করান তাকে। একইসঙ্গে বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, শহীদ দিবসের মতো জাতীয় ইতিহাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোর সঠিক ইতিহাস, সম্পর্কিত প্রতীকী স্থাপনা ও সেখানে সম্মান জানানোর নিয়মগুলো সম্পর্কেও তাকে জানান একটু বড় হলে। তাকে এসব স্থাপনায় বেড়াতে নিয়ে গিয়ে সম্মান জানানোর নিয়ম শেখার

সুযোগ করে দিন।

‘স্বাধীনতা’র ধারণা নিয়ে আলোচনা করুন
দেশের রাজনৈতিক কোনো ঘটনা নিয়ে সন্তানের কোনো প্রশ্ন থাকলে এড়িয়ে না গিয়ে তার জবাব দিন। ‘স্বাধীনতা’ বলতে সে কী বোঝে তা আলোচনা করতে পারেন। ইচ্ছে হলেই যে-কোনো কাজ করাই স্বাধীনতা, না কি এর আরো গভীর তাৎপর্য আছে, তা তার দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত করে দেশপ্রেম বিষয়ে আলোচনা করুন। এতে দেশপ্রেমের বিমূর্ত ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে বিষয়টির বাস্তুবিক গুরুত্ব বুঝতে পারবে সে। একইসঙ্গে সন্তানকে দেশের সাধারণ আইন, প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক ইতিহাস বিষয়েও সঠিক তথ্য জানান সবসময়।


পড়া, গবেষণা ও আলোচনা করার অভ্যাস গড়ে তুলুন
রাজনীতি, দেশপ্রেম, নাগরিকত্ব, নাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য বিষয়ে বিভিন্ন বই ও পত্রিকাসহ প্রতিদিন সংবাদপত্র পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন সন্তানের মাঝে। এসব পড়ে সে কী বুঝলো, কী শিখলো তা নিয়ে আলোচনা করুন তার সঙ্গে। তার দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন কাজের সঙ্গে রাজনীতি ও দেশপ্রেম কীভাবে জড়িয়ে আছে সে বিষয়ে বিভিন্ন মজার কিন্তু সঠিক তথ্য দিয়ে তার আগ্রহ তৈরি করুন এসব বিষয়ে আরো বিস্তারিত পড়াশোনা ও গবেষণার প্রতি।

বাড়িতে পড়াশোনার উপকরণ ছড়িয়ে রাখুন
যদিও এখন অনলাইনেই তথ্যের ভান্ডার সবচেয়ে সমৃদ্ধ, কিন্তু আপনার সন্তানকে এসব বিষয়ে পড়াশোনা করার সময় ছাপার অক্ষরে

কাগজের বইপড়ার জন্য উৎসাহিত করুন। কারণ ইন্টারনেট বা ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলো পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন গেমস খেলাসহ অন্যান্য কাজেও ব্যবহৃত হয়, তাই পড়াশোনার সময় মনোযোগ বিভক্ত হয়ে যায়। শিশুরা সংবাদপত্র, ম্যাগাজিন, প্রবন্ধের বই পড়ে কিছু না বুঝলেও বাসায় সব ঘরেই কিছু বই রাখলে সেগুলো উল্টেপাল্টে দেখার সুযোগ পায় তারা। আপনিও নিজেও বইগুলো পড়লে আপনাকে দেখে শিখবে আপনার সন্তান। মনে রাখবেন, আপনি নিজেই আপনার সন্তানের সবচেয়ে বড় রোলমডেল।


দেশের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের কথা জানান
দেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করা ব্যক্তিদের কথা জানান আপনার সন্তানকে। তাদের জীবনী, তাদের বাণী, তাদের ছোটবেলার ও কর্মজীবনের বিভিন্ন মজার ঘটনা গল্পাকারে বলুন তাকে। শুধু রাজনৈতিক নেতারাই না, অন্যান্য ক্ষেত্রেও দেশকে নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিদের সম্পর্কে জানান আপনার সন্তানকে।


পরিবারের উত্তরসূরীদের গল্প বলুন
বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনার সময় আপনার পরিবারের উত্তরসূরীদের তৎকালীন অবস্থা ও ভূমিকার কথা গল্পাকারে জানান সন্তানকে। পরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্যদের কাছ থেকে প্রত্যক্ষভাবে এসব ঘটনা শোনার সুযোগ থাকলে তাদের সঙ্গে নিয়মিত গল্প করার সুযোগ করে দিন সন্তানকে।

স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে অংশ নিন সন্তানের সাথে
দেশপ্রেমের বাস্তব দিকটি আরো ভালোভাবে আত্মস্থ করার জন্য সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে অংশ নিন এলাকার রাস্তাঘাট-মাঠ পরিষ্কার করা, রাস্তার পাশে গাছ লাগানো ও যতœ নেয়া, বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্পে স্বেচ্ছাশ্রম দেয়ার মতো বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমে। রাস্তায় কোনো ধরনের ময়লা-নোংরা না ফেলা ও ট্রাফিক আইন মেনে রাস্তায় চলার অভ্যাস করান তাকে। রাস্তার পাশের গাছপালাসহ অন্যান্য রাষ্ট্রীয় সম্পদের কোনো ধরনের ক্ষতি না করার অভ্যাস করান এবং এর গুরুত্ব তাকে বুঝিয়ে বলুন। এসব কাজের অভ্যাস তৈরির মধ্যে দিয়েই সন্তানের মধ্যে দেশপ্রেম গড়ে উঠবে।

দেশাত্মবোধক গান, নাটকে উৎসাহিত করুন
বিভিন্ন দেশাত্মবোধক গান গাইতে শেখান সন্তানকে। স্কুলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেশাত্মবোধক নাটক, গান, নাচে অংশগ্রহণে উৎসাহ দিন তাকে। দেশাত্মবোধক ও ঐতিহাসিক সিনেমা, নাটক দেখাতে নিয়ে যান নিয়মিত, বাড়িতেও এধরনের সিনেমা-নাটক দেখার জন্য উদ্বুদ্ধ করুন।


কাজী শাহরিন হক
ছবিঃ শুহরাত শাকিল চৌধুরী