রবিবার,২৬ মে ২০১৯
হোম / ফিচার / বাংলাদেশে অটিজম সচেতনতা ও সায়মা ওয়াজেদের 'সূচনা'
১২/১৮/২০১৮

বাংলাদেশে অটিজম সচেতনতা ও সায়মা ওয়াজেদের 'সূচনা'

-

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বিশ্বে অটিজমে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ১ ভাগ। অর্থাৎ ৭শ’ কোটি মানুষের বিশ্বে প্রায় সাত কোটি মানুষ এই মনোদৈহিক সমস্যায় আক্রান্ত। বিভিন্ন সংস্থার জরিপ এবং গবেষণার ফলাফল থেকে অনুমান করা হয়ে থাকে বাংলাদেশে অটিজমে আক্রান্তদের সংখ্যা গোটা বিশ্বের অনুপাতে অনেকটাই বেশি।

আমাদের দেশে এই সমস্যা মোকাবেলার ব্যবস্থা এক দশক আগেও মোটামুটি ছিলই না। ছিল না তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ। তবে সে অতীতকে পেছনে ফেলে এখন অটিজম নিয়ে কাজ করতে অনেকেই এগিয়ে এসেছেন। ব্যক্তিগত উদ্যোগ থেকে শুরু করে এখন সরকারীভাবেও অটিজমের কবল থেকে শিশুদেরকে রক্ষা করার জন্য গড়ে উঠছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। তবে বাংলাদেশে অটিজম নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে যাকে অগ্রদূত বলা যেতে পারে তিনি হলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুল।

বিশেষভাবে উল্লেখ্য, অটিজমের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এটি শনাক্তকরণ। অটিজম আক্রান্ত শিশুদের অভিভাবকদের অনেকেরই সন্তানের এই সমস্যাটির বিষয়ে বুঝতেই বেশ দেরি হয়ে যায়। আর অটিজম বিশেষজ্ঞ সায়মা ওয়াজেদের কাজের মধ্যে সর্বদাই সর্বাধিক গুরুত্ব পেয়ে থাকে শনাক্তকরণের ধাপটি।

বর্তমানে সায়মা ওয়াজেদের প্রধানতম দুটি পরিচয় হলো তিনি অটিজম বিষয়ক জাতীয় কমিটির প্রধান এবং বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞ কমিটির একজন সদস্য। দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে অটিজম নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার অন্যতম এই পুরোধার উদ্যোগেই ২০১১ সালে ঢাকায় প্রথমবারের মতো অটিজমবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তাঁরই অক্লান্ত চেষ্টা

আর প্রচারণায় ‘নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট আইন, ২০১৩’ পাস হয়। এই আইনে বলা হয় বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে পিছিয়ে পড়া নাগরিকদের যাবতীয় অধিকার সুরক্ষাকল্পে সরকার একটি ট্রাস্ট গঠন করবে। ২০১৪ সালে অটিজম বিষয়ে অবদানের জন্য বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) পুতুলকে ‘এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করে।

ওয়ার্ল্ড হেলথ অ্যাসেম্বলিতে ‘কম্প্রিহেনসিভ অ্যান্ড কো-অর্ডিনেটেড এফোর্টস ফর দ্য ম্যানেজমেন্ট অফ অটিজম স্পেক্ট্রাম ডিজঅর্ডার’ নামের একটি প্রস্তাবনা পাস করানোর লক্ষ্যে তিনি ব্যাপক প্রচারণা চালান। বলা চলে তাঁর নিরলস প্রচেষ্টার ফলেই সেই প্রস্তাবনাটি পাস হয়। ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বর্তমানে এই মনোদৈহিক সমস্যা নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে আরো জোরালো ভূমিকা রাখছে।

২০১৭ সালে সায়মা ওয়াজেদের বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার কাছ থেকে ‘ইন্টারন্যাশনাল অটিজম চ্যাম্পিয়ন’ সম্মাননা প্রাপ্তি অটিজম নিয়ে বিশ্বব্যাপী তাঁর কাজের স্বীকৃতি দেয়। গত বছর সায়মা ওয়াজেদ হোসেন বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের অটিজমবিষয়ক শুভেচ্ছা দূত হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন।

সূচনা ফাউন্ডেশন
একক প্রচেষ্টার পাশাপাশি দেশে অটিজম আক্রান্তদের নিয়ে সামষ্টিকভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা বোধ করেই সায়মা ওয়াজেদ প্রতিষ্ঠা করেন ‘সূচনা ফাউন্ডেশন’ নামের একটি সংস্থা। এই সংস্থার প্রধান লক্ষ্য হলো মানসিক স্বাস্থ্য এবং নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের যাবতীয় সহযোগিতা করা। সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক কিংবা সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে কোনো ধরনের উন্নয়ন থেকে যেন উপরোক্ত মানুষেরা বিচ্ছিন্ন হয়ে না পড়ে তা নিশ্চিত করার চেষ্টাই করে যাচ্ছে এই সংস্থা।

একটি অলাভজনক পরামর্শদাতা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে সূচনা ফাউন্ডেশন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য পর্যাপ্ত সহায়ক ও উপযুক্ত পরিবেশসম্পন্ন একটি সমাজ গড়ে তুলতে চায় যেখানে সেই মানুষগুলো সত্যিকারার্থেই একটি স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে।

সূচনা মূলত অভিনব ও স্বল্পব্যয়সাপেক্ষ কর্মসূচি গ্রহণ করতে চায় যেন তা বাস্তবায়ন করতে বেগ পোহাতে না হয়। একই সাথে সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ের পূর্ণ অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে চায় সংস্থাটি।

সূচনার কাজের মধ্যে রয়েছে অটিজমসহ মোট চার ধরনের নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার নিয়ে সেমিনার, কর্মশালা, গবেষণাকর্ম সম্পাদনা ও প্রকাশনা এবং মানসিক প্রতিবন্ধীত্বের শিকার ব্যক্তিদের নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন। এছাড়াও সূচনার ওয়েবসাইটে গেলে পাওয়া যাবে নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডারে আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করে এমন প্রতিষ্ঠানের খোঁজ। সেই সাথে রয়েছে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য গড়ে ওঠা বিভিন্ন স্কুলের ঠিকানাও।

অটিজম রিসোর্স সেন্টার এবং স্কুল
অটিজম স্পেক্ট্রাম ডিজঅর্ডারে আক্রান্তদেরকে সেবা এবং পরামর্শ দিতে বাংলাদেশে এখন সূচনার মতো অনেক প্রতিষ্ঠানই এগিয়ে এসেছে। নিচে তেমনি কিছু প্রতিষ্ঠানের খোঁজ-খবর দেওয়া হলো।

ইন্সটিটিউট অফ পিডিয়াট্রিক নিউরোডিজঅর্ডার অ্যান্ড অটিজম স্কুল
১ম, ২য় এবং ৬ষ্ঠ তলা, ব্লক#ই, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০