সোমবার,১৯ নভেম্বর ২০১৮
হোম / রূপসৌন্দর্য / ঘরোয়া উপাদানে সুন্দর চুল
১০/২৮/২০১৮

ঘরোয়া উপাদানে সুন্দর চুল

-

চুল নারীর সৌন্দর্যের অন্যতম একটি অংশ। তাই ছোট হোক কিংবা বড়, চুলের যত্নে কেউ কোন ঘাটতি রাখতে চান না। প্রতিদিন বাইরের দৌড়োদৌড়ি ও দূষিত পরিবেশ চুলের নিজস্ব সৌন্দর্য নষ্ট করে চুল রুক্ষ ও প্রাণহীন করে দেয়। উপরন্তু চুলে নানারকম কেমিক্যালের ব্যবহার চুল পড়ার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে চুলের সব রকম সমস্যার সমাধানই হতে পারে ঐতিহ্যবাহী ঘরোয়া কিছু উপাদানে।

কারিপাতা
রান্নায় ব্যবহৃত কারিপাতা যে শুধু খাবারের স্বাদই বাড়ায়, তা নয়। পাশাপাশি আপনার চুলের নানারকম সমস্যা দূর করার গুণ আছে এতে। চুলপড়া কমানো ও অকালে চুল সাদা হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যার সমাধান করতে পারে কারিপাতা। নারিকেল তেলে কারিপাতা দিয়ে হালকা আঁচে কিছুক্ষণ রেখে টনিক বানিয়ে নিতে পারেন। নিয়মিত এই টনিক স্ক্যাল্প ও চুলে লাগালে সুফল পাওয়া যাবে। আবার কারিপাতা বেটে পেস্ট বানিয়ে তা নিয়মিত চুলে লাগানো যেতে পারে।

সরিষার তেল
সরিষার তেলের ঝাঁঝালো গন্ধ অনেকেই সহ্য করতে পারেন না। তবে রুক্ষ চুলের যত্নে এই তেলের জুড়ি মেলা ভার। বিবর্ণ চুলকে ময়শ্চারাইজ করে মজবুত বানাতে সরিষার তেল ব্যবহার করতে পারেন। একটি বাটিতে পরিমাণমতো তেল নিয়ে হালকা গরম করে স্ক্যাল্প ও চুলে লাগিয়ে ভালো করে ম্যাসাজ করে নিন। কিছুক্ষণ পর শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন।

দই
দইয়ের ল্যাক্টিক এসিড স্ক্যাল্পে খুশকি সৃষ্টিকারী ফাংগাস ধ্বংস করে এবং ইনফেকশন সৃষ্টিকারী ইস্ট থেকে স্ক্যাল্পকে সুরক্ষা দেয়। দইয়ের সাথে এক চামচ লেবুর রস মিশিয়ে একটি হেয়ার মাস্ক তৈরি করে নিন। নিয়মিত এই মাস্ক ব্যবহারে চুলে খুশকির সমস্যা সহজেই দূর হবে।

আমলকী
চুলের যত্নে আমলকীর গুণাগুণ জানে না এমন মানুষ নেই বললেই চলে। আমলকীতে প্রচুর ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বিদ্যমান। চুল মজবুত করে চুলের প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে আমলকী। নিয়মিত আমলকী খেলে অথবা পেস্ট বা টনিক বানিয়ে চুলে লাগালে চুল প্রাকৃতিকভাবেই সুন্দর হয়। আমলার টনিক খুশকির সমস্যা থেকেও রেহাই দেয়।

নারিকেল তেল
ছোটবেলা থেকেই আমরা আমাদের দাদি-নানিদের চুলের যত্নে নারিকেল তেল ব্যবহার করতে দেখে আসছি। নারিকেল তেল সাধারণভাবেই অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে। চুলকে ময়শ্চেরাইজ করার পাশাপাশি এই তেল চুলকে শুষ্ক ও ড্যামেজ হওয়ার হাত থেকেও বাঁচায়। নিয়ম করে নারিকেল তেলের ব্যবহার চুলের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে।

আমন্ড অয়েল
আমন্ড অয়েলে প্রচুর ভিটামিন ই ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট রয়েছে। নিয়মিত এই তেলের ব্যবহার চুলের বৃদ্ধি বাড়ানোর পাশাপাশি চুলকে ভলিউম দেয়। আমন্ড অয়েল ও অলিভ অয়েল একসাথে মিশিয়ে সপ্তাহে একদিন চুলে ম্যাসাজ করলে চুল মজবুত ও উজ্জ্বল হবে।

শিকাকাই
শিকাকাই প্রাকৃতিক হারবাল হেয়ার ক্লেনজার হিসেবে কাজ করে। পরিমাণমতো শিকাকাই গুঁড়ো পানির সাথে মিশিয়ে তা দিয়ে নিয়মিত চুল পরিষ্কার করলে চুলের ক্ষতি কম হয়। শ্যাম্পুর নানারকম কেমিক্যাল দিয়ে চুল পরিষ্কার করার থেকে শিকাকাই ব্যবহার করা চুলের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত।

- রাজিয়া