সোমবার,১৯ নভেম্বর ২০১৮
হোম / জীবনযাপন / কলিগদের সাথে যা শেয়ার করা উচিত নয়
১০/২৮/২০১৮

কলিগদের সাথে যা শেয়ার করা উচিত নয়

-

অফিসে কাজ করতে গিয়ে আমাদের প্রত্যেকেরই একটা নিজস্ব বলয় তৈরি হয়। হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয় সহকর্মীদের সাথে। শেয়ার করি ভালো-মন্দ লাগার অনেক বিষয়। তবে এরপরও কিছু বিষয় থাকে যা কখনোই সহকর্মীদের সাথে শেয়ার করা উচিত নয়। এতে ক্যারিয়ারের যেমন ক্ষতি হতে পারে, তেমনি ব্যক্তি হিসেবেও নিজেকে খেলো আর হাস্যকর করে ফেলা হয়।

বেতন নিয়ে কথা নয়
কখনোই নিজের বেতন নিয়ে সহকর্মীদের সাথে কথা বলবেন না। কারণ, যে আপনার চেয়ে কম বেতন পাচ্ছে সে হয়তো আপনাকে ঈর্ষা করা শুরু করতে পারে। আবার যে আপনার চেয়ে বেশি পাচ্ছে সে হয়তো আপনাকে খানিকটা তাচ্ছিল্য আর করুণার দৃষ্টিতে দেখবে। সব মিলিয়ে আপনি একধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়ে যাবেন।

দাম্পত্য জীবন বাইরে রাখুন
সহকর্মীদের সাথে হাসি ঠাট্টার ছলেই নিজের সঙ্গীর বিষয়ে অনেক কিছু বলে ফেললেন। এখন তারা জানে আপনার সঙ্গীর সাথে আপনার কেমন সম্পর্ক। এতে করে তারা আপনার দুর্বলতার জায়গাটাও অনেকটা বুঝে ফেলবে। সেই সাথে আপনি ব্যক্তিত্বহীন একটা মানুষে পরিণত হবেন। অন্য কারো দাম্পত্য বিষয়ে কথা বললেও একই ফলাফল আসবে। সুতরাং অফিসে দাম্পত্য জীবন নিয়ে সম্পূর্ণ চুপ থাকুন।

অতীতের বাজে কোনো রেকর্ড
মানুষ মাত্রই ভুল করে, এটা জানা কথা। কিন্তু সেই ভুলের ফিরিস্তি যদি আপনার সহকর্মীদের সাথে আলোচনা করেন, তাহলে আপনি তাদের হাসি-ঠাট্টার পাত্র হয়ে গেলেন। তারা হয়তো আপনার অতীত নিয়ে বিভিন্নভাবে আপনাকে হেয় করবে। আপনার কাজের দক্ষতা যাই থাকুক ব্যক্তি হিসেবে আপনার মূল্যায়ন আর সেভাবে হবে না।

সহকর্মীদের বিষয়ে
অফিসের কোনো একজনকে আপনার খুবই বিরক্ত লাগে কিংবা কাউকে খুবই পছন্দ করেন? ভুলেও যেন তা কোনো সহকর্মীর সাথে শেয়ার করতে যাবেন না। আপনি নিশ্চয়ই চান না অফিসে কেউ আপনার চরম প্রতিপক্ষ বনে যাক!

কাজটা অপছন্দের
অফিসে আপনি যে কাজটি করছেন সেটি আপনার পছন্দ নয়। তো এই নিয়ে কলিগদের সাথে আলোচনা করবেন? কক্ষনো নয়। কোনোক্রমে সেটি উপরস্থ কারো কানে গেলে তারা আপনার বিষয়ে ভিন্ন কোনো সিদ্ধান্তও নিতে পারে। সুতরাং বুঝতেই পারছেন!

ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক আলাপ নিষেধ
বাস্তবতা হলো পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি বিভেদ বিভক্তি তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকে ধর্ম এবং রাজনৈতিক মতাদর্শকে কেন্দ্র করে। কর্মক্ষেত্রে এসব বিষয়ে আলোচনা করার পর আগের তুলনায় আপনার কাজের জায়গা অস্বস্তিকর হয়ে ওঠা খুব স্বাভাবিক।

ফেসবুকে কলিগদের সাথে বন্ধুত্বে সতর্কতা
অফিস কলিগদের সাথে বন্ধুত্বও বেশ বিপজ্জনক হতে পারে ক্যারিয়ারের জন্য। আপনি হয়তো ফেসবুকে নিজের ব্যক্তিগত অনেক বিষয় প্রায়ই শেয়ার করে থাকেন যা অফিসের আড্ডায় আলোচনা করতে চান না। আপনার চেক ইন, আপলোড করা ছবি এসব থেকে অনেকটাই বোঝা যায় আপনি ব্যক্তি হিসেবে কেমন। অফিস কলিগদের কাছে নিজেকে সম্পূর্ণ প্রকাশ করে দিলে দিনশেষে তা আপনার ক্যারিয়ারের জন্য ভালো নাও হতে পারে।

পদের প্রতি আগ্রহ
পদোন্নতির আশা কে না করে! আপনি নির্দিষ্ট কোনো পদের জন্য বেশ আগ্রহী। আর তা আপনি বেশ জোরে শোরে কলিগদের মাঝে প্রচার করে বেড়ালেন। এতে আপনার প্রতিপক্ষ বাড়তে পারে, পদটা পেতে আপনার বেশ সমস্যা হতে পারে। আর অফিসের বস জানলেন কোনটা গোপনীয় আর কোনটা প্রকাশযোগ্য সে সম্পর্কে আপনার ধারণা নেই।

ভবিষ্যত পরিকল্পনা
আপনার সুন্দর একটা ভবিষ্যত পরিকল্পনা আছে এই ভেবে আপনি বেশ তৃপ্ত। তৃপ্তিটা বাড়াতে সেই পরিকল্পনা শেয়ার করলেন কোন এক সহকর্মীর সাথে। আপনার পরিকল্পনা জানার সাথে সাথে আপনার সেই কলিগ আপনার চাহিদার বিষয়েও ধারণা পেয়ে গেলেন। আপনার অভাব কিংবা দুর্বলতার জায়গাটাও অনেকটাই প্রকাশ পেয়ে যেতে পারে আপনার সেই পরিকল্পনা থেকে। এতসব কিছু জানলে ফলাফলও অনেক কিছুই হতে পারে যার বেশির ভাগটাই আপনার জন্য সুখকর হবে না।

ব্যক্তিগত সমস্যা
প্রায় প্রতিটি অফিসেই নিয়োগদানের সময় বলে দেওয়া হয় যেন কেউ অফিসে নিজের ব্যক্তিগত সমস্যা নিয়ে কথা না বলেন। ব্যক্তিগত সমস্যা শেয়ার করার ক্ষেত্রেও উপরিউক্ত ফলাফল। নিজের দুর্বলতা, চাওয়া পাওয়ার ফিরিস্তি চলে আসা। দিনশেষে যা আপনাকে ব্যক্তিত্বহীন, আদবকেতা না জানা একজন মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করবে।

- সাজ্জাদুর রহমান
ছবিঃ শুহরাত শাকিল চৌধুরী