সোমবার,১৯ নভেম্বর ২০১৮
হোম / অন্দর-বাগান / ঘরে আনুন দুর্গাপূজার আবহ
১০/১৫/২০১৮

ঘরে আনুন দুর্গাপূজার আবহ

-

বারোমাসে তের পার্বণের দেশ হলেও এদেশে শারদীয় দুর্গোৎসবের আবেদন একটু বেশিই। পূজা শুরু হওয়ার অনেক আগে থেকেই সবদিকে এর প্রস্তুতি, বিশেষ করে সাজসজ্জা দেখলেই বোঝা যায় এর আগমনী বার্তা। অন্দরসাজের ক্ষেত্রেও বাড়িতে যেন তোড়জোড় লেগে যায়।

আবহমানকাল থেকেই দুর্গাপূজায় ঘরবাড়ির সাজসজ্জার আলাদা স্টাইল আর রীতি-রেওয়াজ চলে আসছে। তবে সময়ের পালাবদলে তাতে লেগেছে নতুনত্বের ছোঁয়া।

অন্দর ঠিকঠাক করুন
সাজসজ্জার আগে প্রয়োজন বাড়ির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা আর গোছগাছ। বাইরের সাজসজ্জা যতই হোক, ময়লা আর অগোছালো অন্দরঘর কখনই ভালো ইম্প্রেশন তৈরি করে না। তাই সবার প্রথমেই ঘরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালান। এরপর প্রয়োজন আসবাবপত্রের বিন্যাস পাল্টানো। বাসার আসবাবগুলোর অবস্থান পরিবর্তন করুন। এতে ঘরে একটি নতুন রূপ আসবে।

উৎসবের রঙে দেয়াল রাঙান
খুঁটিনাটি সবকিছু দিয়ে সাজসজ্জায় পূর্ণতা আনতে চাইলেও বাসার দেয়ালের পুরনো রূপ যেন সব মলিন করে দেয়। তাই এদিকটায় বাড়তি মনোযোগ দেওয়া চাই। দেয়াল রং তো করবেন, তবে কেমন রং বাছাই করবেন? এক্ষেত্রে খেয়াল রাখবেন, দেয়ালের রং যেন মলিন না লাগে। অবশ্যই রং উৎসবের আবহের সাথে মানানসই হওয়া চাই। আর যেহেতু পূজার কিছুদিন পরেই দীপাবলি এসে থাকে, তাই সেটার প্রস্তুতি হিসেবেও তো চনমনে দেয়ালের রং চাই। শুধু রং করা নয়, দেয়ালের সৌন্দর্য আপনি আরো অনেকভাবেই বাড়াতে পারেন। থিম ওয়ালপেপার আর পেইন্টিং ব্যবহার করুন আপনার দেয়ালের রংয়ের সাথে ম্যাচ করে।

পর্যাপ্ত আলো আর আলোকসজ্জা
ঘরে আলোর অভাব সাজসজ্জার সব চেষ্টাকেই নষ্ট করে দেয়। তাই ঘরের প্রতিটি কোণা যাতে আলোকিত হয় সেদিকে নজর দিন। যেসব রুমে আলো কম সেখানে প্রয়োজনে একাধিক লাইট লাগান। রুমের এমন কিছু কর্ণার আছে যেখানে আলো পৌঁছায় না, সেখানে টেবিল ল্যাম্প বা মরিচ বাতি ব্যবহার করতে পারেন। বাসার আঙিনা আর প্রবেশমুখ এলইডি লাইট আর বাহারি মরিচবাতি দিয়ে সাজান। তবে খেয়াল রাখবেন, চোখ ধাঁধানো আলো যাতে না হয়। শ্যাডো আর লাইটের পারফেক্ট কম্বিনেশন ফুটিয়ে তুলতে পারলেই আপনার প্রচেষ্টা সফল হবে। এক্ষেত্রে অনলাইন সার্চ করেও ভালো সাহায্য পাবেন।

আল্পনায় বাহারি মাধুর্য
পূজার সময় আল্পনা আঁকা নাহলে কারো মনই যেন ভরতে চায় না। পূজার সাথে এর যোগসূত্র অনেক নিবিড়। আল্পনা আঁকার ক্ষেত্রে স্থান আর সামঞ্জস্যের দিকে খেয়াল রাখাটা জরুরি। প্রবেশদ্বার থেকে শুরু করে ঘরের মাঝ বরাবর বা ড্রইংরুমে আঁকতে পারেন, ঠাকুরঘরেও আঁকাটা রীতি। মা দুর্গার আগমনকে আরো মহিমান্বিত করুন আল্পনা দিয়ে। সুগন্ধি রং আর আল্পনার মাঝে সুগন্ধি বাতি আর মোমবাতির ব্যবহার আপনার বাসায় এক অপূর্ব মোহ ছড়িয়ে দেবে। আজকাল অনেকেই ফুল দিয়ে আল্পনা করছেন, চাইলে সেটিও করতে পারেন, ফ্লোটিং আল্পনাও আজকাল তুমুল জনপ্রিয়। পানির বোলে ফুল, মোমবাতি ব্যবহার করে নিজেই সাজিয়ে তুলতে পারবেন।

ফুল ও দীপের ব্যবহার
নানারকম বাহারি ফুলের পাশাপাশি অবস্থান আপনার ঘরকে স্নিগ্ধ ও উৎসবমুখর করে তুলবে। ফুল দিয়ে ঘর সাজালে অতিথিদের মধ্যেও আলাদা আকর্ষণ কাজ করে। ফুল নির্বাচনের ক্ষেত্রে মৌসুমি ফুলই বেছে নিন বেশি করে। পূজার ঘর আর বাসায় প্রবেশের পথটি বিশেষভাবে সাজিয়ে তুলুন। একই ধরনের ফুল ব্যবহার না করে বিভিন্ন রং আর সুগন্ধের ফুল নিন, প্যাটার্ন ফলো করে ফুল সাজান। এর সাথে যোগ করুন প্রদীপ, বড়দীপের সাথে ছোট ছোট দীপও রাখুন। ছাদের কার্নিশের দেয়াল আর সিঁড়ির ধাপগুলোতে দীপ দিয়ে সাজানো বহু পুরনো রীতি, এর পাশাপাশি ড্রইং রুমের সেন্টার টেবিল আর টি-টেবিলেও সমানভাবে মানিয়ে যায় দীপ। মেহমানদের আপ্যায়নের জায়গায় সুগন্ধি তেলের দীপ রাখুন। আপনার রুচির পরিচয়ে সবাই প্রশংসা করবে।

দুর্গাপূজার সাজ আসলে অনেক বৈচিত্র্যময় একটি শিল্প। অপশন আর সম্ভাবনা অনেক বেশি। তেমনি সাবধানতার ক্ষেত্রও অনেক। প্রায়শই অনেক পরিশ্রম করার পরেও ছোটোখাটো ভুলের কারণে আর টুকটাক ব্যাপার ভুলে যাওয়ার ফলে সমস্ত আয়োজনই বিফলে যায়। তাই আসুন, আরো কিছু ছোটোখাটো টিপসের পাশাপাশি কয়েকটি সাবধানতাও জেনে নেওয়া যাক একইসাথে-

* শুধু আসবাবপত্র আর সাজের দিকে না দেখে বিছানা আর বসার ব্যবস্থার দিকেও খেয়াল রাখবেন। বেডশিট, বালিশের কভার আর কুশন যেন হয় টিপটপ আর ডেকোরেশনের সাথে মানানসই।

* দীপ জ্বালানোর সময় কোথায় রাখছেন তা খেয়াল রাখবেন যাতে কোন দুর্ঘটনা না ঘটতে পারে। পরিবেশের সুরক্ষার কথা চিন্তা করে অতিরিক্ত পরিমাণে দীপ বা আতশবাজি না জ্বালানোই ভালো।

* অতিরিক্ত ভারি ডেকোরেশন কখনই করবেন না, বরং হালকা টিপটপ সাজান বাসাকে।

* খাবার টেবিলেও বাড়তি মনোযোগ দিন। ঘরের সাজের সাথে মানানসই রাখুন। ট্র্যাডিশনাল বাসন-কোসন দিয়ে আপ্যায়ন করুন, তাতে আলাদা ইম্প্রেশন তৈরি হবে।

* পূজার ইন্টেরিয়র ডেকোরেশনের জন্য ঐতিহ্যবাহী উপকরণগুলো জোগাড় করুন, এজন্য রাজধানীর তাঁতিবাজার, শাখারিবাজারে ঢুঁ মারতে পারেন।

- তানভীর