সোমবার,১৯ নভেম্বর ২০১৮
হোম / ফিচার / বাংলাদেশি মেয়ের খারদুংলা জয়
১০/১৫/২০১৮

বাংলাদেশি মেয়ের খারদুংলা জয়

-

বলা হয়ে থাকে ‘সাইক্লিস্টস আর গুড পিপল’। যারা নিয়মিত নিয়ম মেনে সাইক্লিং করেন তারা নেশা বা খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকে। তবে সাইক্লিংকে শুধুমাত্র ভালো একটি অভ্যাসের মধ্যে না রেখে রীতিমতো অসাধ্য সাধন করে দেখিয়েছেন বাংলাদেশের মেয়ে জিনিয়া তাবাসসুম।

ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় একক অথবা দলবদ্ধ সাইক্লিং এখন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ছেলেদের পাশাপাশি বেড়ে চলছে মেয়ে রাইডারদের সংখ্যা। এই সাইকেল রাইড শুধু এলাকাভিত্তিক হচ্ছে না, সাইক্লিস্টসরা বেরিয়ে চষে বেড়াচ্ছেন সারা দেশ। বাদ যাচ্ছে না পাহাড়, বনজঙ্গল, মেঠোপথ ইত্যাদি। দেশের গন্ডি পেরিয়ে অনেকে যাচ্ছেন বিদেশে, নতুন জায়গায় নতুন অভিজ্ঞতা নিতে। আর এই অভিজ্ঞতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে বের হয়ে রীতিমতো দেশের হয়ে অনন্য একটি রেকর্ডই করে ফেলেছেন জিনিয়া তাবাসসুম। অদম্য এই নারী সাইক্লিস্ট দেশের গন্ডি পেরিয়ে ভারতের হিমাচল প্রদেশের মানালি থেকে জম্মু কাশ্মীরের লেহ পেরিয়ে খারদুংলা তথা বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু মোটরযান চলাচলের রাস্তায় তার সাইকেল নিয়ে গেছেন। দেশের প্রথম নারী সাইক্লিস্ট হিসেবে এই অর্জন খুলনার মেয়ে জিনিয়ার। সাইকেল নিয়ে প্রথম নারী হিসেবে পৌঁছেছেন ৬টি মাউন্টেইন পাসে। এইগুলো হলো রোথাং পাস (১৩০৫০ ফুট), বারালাচা পাস (১৬০৪০ ফুট), নাকিলা পাস (১৫৫৪৭ ফুট), লাচুংলা পাস (১৬৬১৬ ফুট), তাংলাংলা পাস (১৭৪৮০ ফুট) এবং খারদুংলা পাস (১৮৩৮০ ফুট)।

ঢাকাভিত্তিক সাইক্লিং গ্রুপ হেমন্ত রাইডারর্স-এর হয়ে তিনি ১০ আগস্ট মানালি থেকে তার সাইকেল অভিযান শুরু করেন। মাঝে একদিনের বিরতি নিয়ে ২০ আগস্ট পৌঁছান লেহ শহরে। পরেরদিন খারদুংলা যাবার বিশেষ অনুমতি নিয়ে ২২ আগস্ট ঈদের দিন খারদুংলা জয় করেন এই দুঃসাহসী নারী। মানালি থেকে খারদুংলা, প্রায় পাঁচ শতাধিক কিলোমিটার দূরত্ব-এর এই রাস্তার কোথাও টানা ১০ থেকে ১৪ কিলোমিটার আপহিল আবার কোথাও ডাউনহিল। অক্সিজেনের অভাবে নাক দিয়ে রক্ত ঝরে, রাস্তায় থাকে পাথর ধসের ভয় আর বরফ গলা পানির ঢলের ভয়। এর সঙ্গে অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা তো রয়েছেই। লেহ থেকে খারদুংলার পথ যা বাংলাদেশিদের জন্য নিষিদ্ধ। এর জন্য নিতে হয়েছিল বিশেষ অনুমতি। এই অভিযানের ২য় দিনের রাইড শেষে জ্বরে পড়েন জিনিয়া। এই জ্বরকে উপেক্ষা করে একই গ্রুপের মোহাম্মদ হেদায়েতুল হাসান ফিলিপ ও সুইস নাগরিক এরুইনকে সঙ্গে করে অভিযান ঠিকই শেষ করেন জিনিয়া।

এমন দুঃসাহসী অভিযান অত্যন্ত দৃঢ়চেতা এবং স্বাভাবিকচিত্তে শেষ করেছেন জিনিয়া। তাই পথে দেখা পাহাড় নদীর রূপের কথাও এল তার কণ্ঠে, “সাইকেল নিয়ে যতই এগিয়েছি পাহাড়ের বিভিন্ন রূপ দেখেছি, দেখেছি পাহাড়ি নদী। এই সৌন্দর্য সাইকেলে না গেলে উপভোগ করা যাবে না। রাস্তায় পাহাড় ধস, রাস্তায় বন্যা এখানে স্বাভাবিক বিষয়।” বছরের ৪ মাস খোলা থাকে এই রাস্তা সাধারণের জন্য। এক বছরের এই পরিকল্পনাটিকে সফলভাবে শেষ করে আসলেন জিনিয়া। এর আগে তিনি বাংলাবান্ধা থেকে টেকনাফ, দর্শনা থেকে আখাউড়া, হালুয়াঘাট থেকে কুয়াকাটা এবং ভোমরা থেকে তামাবিল এই ক্রস কান্ট্রিগুলো সম্পন্ন করেন। তিনটি পার্বত্য জেলাতেও সাইকেল চালিয়েছেন তিনি। এছাড়াও দলগতভাবে, একা অনেক রাইড দিয়েছেন ঢাকার আজিমপুর নিবাসী ও এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটিতে মাস্টার্সে পড়ুয়া এই নারী।

শত বাধা-বিপত্তি কিছুতেই থেমে থাকেননি জিনিয়া তাবাসসুম। সর্দি-কাশি, শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সকল সমস্যা একপাশে রেখে ১৮ হাজার ৩৮০ ফুট উপরের খারদুংলা পাস জয় করে তবেই শান্ত হয়েছেন দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনা এই নারী, যার এই দুঃসাহসিক অভিযান সকলকে প্রেরণা জোগাবে।

- অনন্যা ডেস্ক