সোমবার,১৯ নভেম্বর ২০১৮
হোম / বিবিধ / ব্যবসা শুরু করার ক্ষেত্রে যা করণীয়
১০/১৫/২০১৮

ব্যবসা শুরু করার ক্ষেত্রে যা করণীয়

-

প্রশ্ন
আমি একজন উদ্যোক্তা। প্রায় ৪ বছর ধরে আমি একটি বুটিক হাউসের কর্ণধার। আমার এই ব্যবসার সাথে আমার আর দুজন বান্ধবী যুক্ত হতে চাচ্ছে। আমরা সবাই মিলে এই বুটিক হাউসটিকে একটি ব্যবসায়িক সংগঠনে রূপ দিতে চাচ্ছি। আমাদের মধ্য থেকে একজন কোম্পানি গঠনের কথা বলছে। আমরা জেনেছি কোম্পানি গঠন করা খুব ঝামেলাদায়ক। এক্ষেত্রে আমার প্রশ্ন, কোম্পানি গঠনের জন্য কি কি আইনি পদ্ধতি মেনে চলতে হবে?

রিমি
মোহাম্মদপুর, ঢাকা।

উত্তর
রিমি আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। একজন নতুন বিনিয়োগকারীকে নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম অনুসরণ করে ব্যবসা শুরু করতে হয়। প্রথমে রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিস অ্যান্ড ফার্মস- এ নতুন কোম্পানি নিবন্ধন করাতে হয়। নিবন্ধন অফিসটির ঠিকানা টিসিবি ভবন (৭ম তলা), ১, কারওয়ান বাজার, ঢাকা। কোম্পানি আইন ও অন্যান্য বিধি অনুসারে এটি কোম্পানি, সমিতি ও অংশীদারি প্রতিষ্ঠানের রেজিস্ট্রেশন দিয়ে থাকে।

আবেদনকারীকে সিটি কর্পোরেশন/পৌরসভার কাছ থেকে ট্রেড লাইসেন্সও সংগ্রহ করতে হয়। আপনি যেহেতু ৪ বছর ধরে ব্যবসা করছেন তাই আমি ধরে নিচ্ছি অবশ্যই আপনার ট্রেড লাইসেন্স আছে।

প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি খোলার নিয়মঃ
* কমপক্ষে ২জন উদ্যোক্তা সদস্য। তবে সর্বোচ্ছ ৫০জন।
* উদ্যোক্তাদের জাতীয় পরিচয় পত্র এবং ছবি।
* কোম্পানি খোলার আগে প্রথমেই আপনাকে প্রস্তাবিত নামটি দিয়ে একটি নেম ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট তুলতে হবে। যদি আপনার প্রস্তাবিত নামটি খালি থাকে; তবে কোম্পানির নাম নিবন্ধন করার জন্য আপনাকে সেখান থেকে নাম নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে হবে। আবেদন সম্পূর্ণ হবার পর এবার নির্ধারিত ফি ব্যাংকে জমা প্রদান করে পছন্দের নামটি আপনার নিজের নামে নিবন্ধন করে ফেলুন।
* নাম নিবন্ধনের পরে এবার আপনাকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে হবে। তা হলো আপনার কোম্পানির জন্য মেমোরেন্ডাম অব এসোসিয়েশন এবং আর্টিকেল অব এসোসিয়েশন তৈরি করতে হবে। মেমোরেন্ডাম অব এসোসিয়েশনে কোম্পানির উদ্দেশ্য ও কার্যাবলী সম্পর্কে বলা থাকে, এতে থাকে ব্যবসার নাম, ব্যবসার ধরন, ব্যবসার লক্ষ্য, ব্যবসার মূলধনের পরিমাণ ইত্যাদি। কীভাবে কোম্পানি পরিচালক পর্ষদ নির্বাচিত হবে, কোম্পানির সাধারণ মিটিং এবং বিশেষ মিটিং কীভাবে কখন সম্পাদিত হবে, কীভাবে নতুন সদস্য নেওয়া হবে, কীভাবে কোন সদস্যকে বহিষ্কার করা হবে, কীভাবে লভ্যাংশ বণ্টন করা হবে ইত্যাদি বিষয়গুলো আর্টিকেল অব এসোসিয়েশনে বিশদভাবে বর্ণনা করতে হবে। এটি আপনাকে কোম্পানি বিষয়ক অভিজ্ঞ একজন আইনজীবীর মাধ্যমে করাতে হবে।
* এসব প্রস্তুত হবার পরে আপনাকে জয়েনস্টকের ওয়েবসাইট থেকে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির নিবন্ধনের আবেদনপত্রটি সংগ্রহ করতে হবে এবং উক্ত আবেদনপত্রটি যথাযথভাবে পূরণ করতে হবে এবং আনুষঙ্গিক কাগজপত্রগুলো প্রস্তুত করতে হবে।

নিবন্ধনের জন্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রগুলোঃ
১) মেমোরেন্ডাম অব এসোসিয়েশন ও আর্টিকেল অব এসোসিয়েশন;
২) মূলকপি ও অতিরিক্ত দুই কপি নামের ছাড়পত্রের অনুমতির কপি;
৩) কোম্পানি নিবন্ধনের ঘোষণাপত্র;
৪) পরিচালক হতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের তালিকা;
৫) পরিচালকের সম্মতিপত্র এবার পূরণকৃত আবেদনপত্র।

এরপর আনুষঙ্গিক কাগজপত্রগুলো নিয়ে জয়েনস্টকের অফিসে জমা দিতে হবে। সকল কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরে যাচাইবাছাই করে সেখান থেকে আপনাকে কোম্পানির লাইসেন্সের জন্য সুনির্দিষ্ট ফি ধার্য করে দিবে। এবার কোম্পানি নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় ফি নির্দিষ্ট ব্যাংকে জমা দিতে হবে।

সেখানে আরো কিছু আনুষঙ্গিক কাজ আছে তা আপনাকে সম্পাদন করতে হবে। পরবর্তীসময় নিবন্ধক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবেন এবং আপনার আবেদনটি উপযুক্ত মনে হলে তারা বইতে আপনার নতুন কোম্পানির নাম তালিকাভুক্ত করবেন একইসাথে, আপনাকে কোম্পানির নিবন্ধন সার্টিফিকেট প্রদান করবেন। নিবন্ধন সার্টিফিকেট পাওয়ার পরপরই প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির ব্যবসায়িক কার্যক্রম আপনি শুরু করতে পারবেন।

- সুপ্রিম কোর্ট-এর আইনজীবী ব্যারিস্টার মিতি সানজানা লন্ডন-এর লিংকন্স ইন থেকে আইন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি একজন করপোরেট ল’ইয়ার। তিনি লিগ্যাল কাউন্সেল নামক একটি করপোরেট ল চেম্বার-এর পার্টনার। তিনি একজন মানবাধিকারকর্মী। তিনি বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় নিয়মিত কলাম লেখেন। মানবাধিকার নিয়ে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সোচ্চার ভূমিকা রাখছেন সানজানা।