শনিবার,২০ অক্টোবর ২০১৮
হোম / বিবিধ / আইনি জিজ্ঞাসাঃ নারী ও শিশুর অধিকার সুরক্ষা
০৮/১১/২০১৮

আইনি জিজ্ঞাসাঃ নারী ও শিশুর অধিকার সুরক্ষা

-

পাঠকের প্রশ্নঃ আমার-ওর বিয়ে হয়েছে ২০১৪ সালে। বৈবাহিক জীবনে আমাদের দুটি সন্তান আছে। গতবছর থেকে আমার স্বামীর ব্যবসা কিছুটা খারাপের দিকে। তারপর থেকে আমার ও সন্তানদের প্রতি আমার স্বামীর আচরণ বদলে যেতে থাকে। ও সংসারের খরচ দেওয়া বন্ধ করে দেয়। এমতাবস্থায় আমি কি করতে পারি?
রাবেয়া
ধানমন্ডি, ঢাকা।

পারিবারিক সহিংসতা বলতে পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে এমন কোনো ব্যক্তি কর্তৃক পরিবারের অপর কোনো নারী বা শিশু সদস্যের উপর শারীরিক নির্যাতন, মানসিক নির্যাতন, যৌননির্যাতন অথবা আর্থিক ক্ষতিকে বুঝাবে। আপনি যে অভিযোগটি করছেন, আপনার স্বামী আপনাকে এবং আপনার সন্তানদের ভরণপোষণ দিচ্ছেন না, এ-বিষয়টি পারিবারিক সহিংসতার সংজ্ঞায় পড়বে।

জাতিসংঘ কর্তৃক ঘোষিত নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ, ১৯৭৯ ও শিশু অধিকার সনদ, ১৯৮৯- এর স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্র হিসাবে এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে বর্ণিত নারী ও শিশুর সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার নিমিত্ত পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ, পারিবারিক সহিংসতা হতে নারী ও শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০ প্রণীত হয়েছে।

পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০-এ প্রথমবারের মতো পারিবারিক সহিংসতাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) বিধিমালা, ২০১৩ প্রণীত হয়েছে। জাতিসংঘ কর্তৃক ঘোষিত নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ, ১৯৭৯-এ বলা হয়েছে আর্থিকভাবে একজন নারীকে তাঁর পরিবারের কোনো সদস্য ক্ষতিগ্রস্ত করলে তা পারিবারিক সহিংসতা হিসেবে বিবেচিত হবে। একজন শিশু বা নারী- যিনি পারিবারিক সম্পর্ক থাকবার কারণে পরিবারের অপর কোনো সদস্য কর্তৃক পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন বা হচ্ছেন বা সহিংসতার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন দেশের আইন অনুযায়ী প্রতিকার চাইতে পারবেন।

আইনের অধীনে আপনি নিম্নলিখিত প্রতিকার চাইতে পারবেনঃ
(ক) এই আইন অনুসারে প্রতিকার পাবার অধিকার;
(খ) চিকিৎসা সেবা প্রাপ্তির সুযোগ;
(গ) প্রয়োগকারী কর্মকর্তার নিকট হতে সেবা প্রাপ্তির সুযোগ;
(ঘ) প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ অনুসারে বিনাখরচে আইনগত পরামর্শ ও সহায়তা প্রাপ্তি বা অন্য কোনো আইন অনুসারে প্রতিকার প্রাপ্তির উপায়;

আদালতে আবেদনঃ সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা তাহার পক্ষে কোনো প্রয়োগকারী কর্মকর্তা, সেবা প্রদানকারী বা অন্য কোনো ব্যক্তি এই আইনের অধীন প্রতিকার পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদন প্রাপ্তির ৭ (সাত) কার্যদিবসের মধ্যে আদালত সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আবেদন শুনানির জন্য তারিখ নির্ধারণ করবে।

অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা আদেশঃ আবেদনপ্রাপ্তির পর আদালত যদি আবেদনপত্রের সাথে উপস্থাপিত তথ্যাদি পর্যালোচনা করে এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, প্রতিপক্ষ কর্তৃক বা তার প্ররোচনায় কোনোরূপ পারিবারিক সহিংসতা ঘটেছে বা ঘটবার সম্ভাবনা রয়েছে, তাহলে আদালত প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে একতরফাভাবে অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা আদেশ প্রদান করতে পারবে।

আপনি যেহেতু অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছেন, সেক্ষেত্রে আদালত এ ক্ষতিপূরণের আবেদন করতে পারেন। সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির শারীরিক, মানসিক, আর্থিক, স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষতি হলে বা ক্ষতির সম্ভাবনা থাকলে, দরখাস্তের মাধ্যমে আদালতের নিকট ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করা যাবে।

- ব্যারিস্টার মিতি সানজানা একজন করপোরেট ল’ইয়ার। তিনি লিগ্যাল কাউন্সেল নামক একটি করপোরেট ল চেম্বার -এর পার্টনার। নারী ও শিশুর অধিকার নিয়ে বিভিন্ন টিভি টকশোতে কথা বলেন এবং বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় নিয়মিত কলাম লেখেন।