বুধবার,১৫ অগাস্ট ২০১৮
হোম / বিবিধ / বৃষ্টির দিনে খেয়াল রাখুন...
০৭/৩০/২০১৮

বৃষ্টির দিনে খেয়াল রাখুন...

-

“এমন দিনে তারে বলা যায়
এমন ঘনঘোর বরিষায়,
এমন মেঘস্বর বাদল-ঝরঝরে
তপনহীন ঘন তমসায়...”

বর্ষাকাল বরাবরই এমন রোমান্টিক বাঙালির কাছে। কিন্তু বর্ষা যে দূর্ভোগও নিয়ে আসে সেকথা নিশ্চয়ই কারো অজানা নয়। বাংলাদেশ ভাটির দেশ হওয়ায় এদেশের মানুষের জন্য বর্ষা এক বিড়ম্বনা তো বটেই, প্রায়শ আতঙ্কের নামও হয়ে ওঠে। বিশেষ করে নগরজীবনে বর্ষা আসা মানেই কাদাপানির যন্ত্রণা আর জল থৈ থৈ রাস্তায় জঘন্য পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া।

এই বিড়ম্বনাময় পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে করণীয় নিয়েই অনন্যার এই আয়োজন।

ছাতা এবং রেইনকোট
আপনি গাড়িতে চলা যাত্রী অথবা পথচারী হলে সঙ্গে নিন ছাতা। অন্যদিকে সাইকেল অথবা মোটরসাইকেল আরোহী হলে রেইনকোট ব্যবহারেই স্বাচ্ছন্দ্য আসবে। বাসা থেকে বেরোনোর সময় জ্বলজ্বলে রোদ দেখে অফিস কিংবা কলেজ-ভার্সিটির পথে ছাতা ছাড়াই হাঁটা ধরলেন তো ভুল করলেন।

যাতায়াত করুন গণপরিবহনে
আপনার নিজের গাড়ি আছে অথবা উবারে একটা গাড়ি ডেকে নিয়ে যাতায়াত করার সামর্থ্য আছে। কিন্তু বর্ষায় আমাদের দেশের শহরগুলোর যা হাল হয় তাতে আপনার গাড়ি ব্যবহার করার চিন্তাটা দূরে সরিয়ে রাখাই উত্তম হবে। বর্ষার জলাবদ্ধ নগরীতে গাড়ি নিয়ে বেরোলেন আর হাঁটুপানি রাস্তায় গাড়িটা বিকল হয়ে গেলে সেটা খুবই বাজে হবে। বরং গণপরিবহনে চলুন। কোনো সমস্যা হলে দশজনের সাহায্য পাওয়ার যেমন সম্ভাবনা আছে তেমনি বাড়তি ঝামেলায়ও পড়তে হবে না।

খাবার রাখুন সাথে
এমন তো হতেই পারে ঝড় বৃষ্টি বেগতিক পর্যায়ে চলে গেছে দেখে দোকানিরা দোকান বন্ধ করে দিয়েছে! আর এমন সময় আপনার পেটে ছুঁচোর কেত্তন শুরু হলো। তো আপনি করবেন কি? আগে থেকেই তাই খাবারদাবারের জোগাড়যন্ত্র করে রাখুন। সাথে রাখতে পারেন বিস্কুট, চানাচুর, কেকের মতো হালকা খাবার।

জলাবদ্ধ রাস্তা এড়িয়ে চলুন
একগাদা ছেলেপেলে জলাবদ্ধ রাস্তায় হৈ হৈ করে উল্লাস করছে আর তাই দেখে আপনারও খানিকটা সাধ জাগলো কোমর পানিতে ভিজতে। একাজ ভুলেও করতে যাবেন না। এই পানিতে তেল, কেমিক্যাল, পচাগলা আবর্জনা এমনকি মানুষের মলমূত্র সবই একাকার হয়ে মিশে থাকে।

রাবারের জুতা আর গামবুটের ব্যবহার
বর্ষা এলে রাবার এবং প্লাস্টিকের তৈরি জুতার কদর বেশ বেড়ে যায়। মূলত কাদার যন্ত্রণা থেকে বাঁচতে এ ধরনের জুতা পরা হলেও আরেকটা ভয়াবহ বিপদ থেকেও বাঁচাতে পারে রাবারের জুতা। সেটা হল তড়িতাহত হওয়া। বর্ষায় সবকিছুই বৃষ্টির পানিতে একাকার হয়ে যায় বলে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট ঘটার সম্ভাবনাও বাড়ে। এ থেকে বাড়ে তড়িতাহত হওয়ার ঘটনাও। রাবারের জুতা ব্যবহারে আপনার নিরাপত্তা বাড়বে অনেকটাই। অন্যদিকে জলাবদ্ধ রাস্তার নোংরা পানি কিংবা প্যাচপ্যাচে কাদা থেকে বাঁচতে ব্যবহার করতে পারেন গামবুট সূতরাং, বর্ষার প্রস্তুতিতে রাবারের জুতার কথাও মাথায় রাখুন।

ইলেক্ট্রনিক যন্ত্র প্লাস্টিকের ব্যাগে রাখুন
বর্ষার দিনে আপনার সাথে বহন করা ডিএসএলআর ক্যামেরা বা ল্যাপটপটি পলিথিন বা এই জাতীয় কিছুর ভেতরে রাখলেই নিরাপদ থাকবে। কোনোক্রমে বৃষ্টির পানি এধরনের ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রের ভেতর প্রবেশ করলে আপনার শখের প্রয়োজনীয় জিনিসটি যেমন নষ্ট হতে পারে তেমনি সেটিতে শর্ট সার্কিট থেকে আপনিও হতাহত হতে পারেন।

গাছের নিচে আশ্রয় নয়
বৈশ্বিক ঊষ্ণতা বৃদ্ধির দরুন ইদানীং বজ্রপাতে মৃত্যু বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। বজ্রপাত সাধারণত বড় গাছের ওপরই হয়ে থাকে। সুতরাং বৃষ্টির সময় কখনোই উচিত হবে না গাছের নিচে আশ্রয় নেয়া। বরং কংক্রিটের ছাদ আছে এমন কোনো আশ্রয় খুঁজুন।

জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করুন
বিশ্বের অন্যান্য অনেক দেশের মতো নাগরিকদেরকে সেবা দিতে বাংলাদেশেও চালু হয়েছে জরুরি সেবা নম্বর। যে কোনো জটিল পরিস্থিতি নিজে মোকাবেলা না করতে পারলে ফোন করুন ৯৯৯ নাম্বারে। ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের মতো সেবাগুলো যখন হাতের নাগালেই আছে, কাজে লাগাবেন না কেন?

- আহমাদ সাঈদ