বুধবার,১৫ অগাস্ট ২০১৮
হোম / ফিচার / প্রোগ্রামিং-এ 'প্রথমা' শাহেদা মুস্তাফিজ
০৭/১৭/২০১৮

প্রোগ্রামিং-এ 'প্রথমা' শাহেদা মুস্তাফিজ

-

সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে তথ্যপ্রযুক্তিতে পুরুষের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে দেশের নারীসমাজ। তবে তথ্যপ্রযুক্তির মতো চ্যালেঞ্জিং ক্ষেত্রে সুযোগ-সুবিধার অভাবে অতীতে নারীর অংশগ্রহণ তেমন ছিল না বললেই চলে। অন্যান্য অনেক কিছুর মতোই এই ধারা ভেঙে বেরিয়ে আসতে পেরেছে এদেশের নারীরা। আর তার নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তথ্যপ্রযুক্তিতে দেশের প্রথম নারীকর্মী শাহেদা মুস্তাফিজ। দেশের প্রথম নারী প্রোগ্রামারের সেই প্রথা ভাঙার গল্পটা এবার জেনে নিই চলুন।

আইসিটি কিংবা কম্পিউটার সাইন্সের সাথে যারা পরিচিত তাদের কাছে প্রোগ্রামিং শব্দটা বেশ পরিচিত বলা চলে। কম্পিউটার কিংবা এ জাতীয় মেশিনকে নির্দিষ্ট কিছু ভাষা বা সংকেতের মাধ্যমে নির্দেশ প্রদান করার প্রক্রিয়া হচ্ছে প্রোগ্রামিং যাকে সহজ ভাষায় আমরা অনেক সময় কোডিং বলে থাকি। কম্পিউটার সায়েন্সের জটিল এই শাখায় বাংলাদেশের নারীর অগ্রযাত্রার সূচনা হয়েছে শাহেদা মুস্তাফিজের হাত ধরে। অর্থনীতিতে পড়াশোনার পাট চুকিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এনসিআর করপোরেশনে সফটওয়্যার আর্কিটেকচার নিয়ে এক বছরের প্রশিক্ষণ নেন শাহেদা। এরপর ১৯৭৬ সালে সে প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশ শাখায় সিস্টেমস ম্যানেজার হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। পরবর্তীতে এনসিআরের মালিকানা পরিবর্তন হয়ে লিডস করপোরেশন হাতে এলে সেখানে যোগ দেন শাহেদা। চার দশক ধরে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অবদান রেখে চলা এই নারী দেশে ব্যাংকে অটোমেশন বা ব্যাংকিং সফটওয়্যার তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন। দেশের অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই ব্যাংকিং সেক্টরের আধুনিকায়নের পেছনে অসামান্য অবদান রেখেছেন এমন ব্যক্তিদের নিয়ে করা শর্টলিস্টে তাঁর নাম তাই না-থাকলেই নয়। এনসিআর ও লিডস মিলিয়ে ২২ বছর কাজ করে ১৯৯৮ সালে প্রবিতি সিস্টেমস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নতুন দায়িত্ব হাতে নেন এই তথ্যপ্রযুক্তিকর্মী। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে সফটওয়্যার রপ্তানিতে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছে এই প্রতিষ্ঠান। এর পাশাপাশি শাহেদা মুস্তাফিজ যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডাভিত্তিক দুটি কোম্পানিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করছেন। এসব ছাড়াও নারী ও শিশুদের জন্য কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিচালনা এবং সন্তানের সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানে উপদেষ্টা হিসেবেও সমানতালে কাজ করছেন কর্মচঞ্চল এই নারী।

বর্তমানে পড়াশোনা ও চাকরির বাজারে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি বিষয় হচ্ছে প্রোগ্রামিং বা এর সাথে সংশ্লিষ্ট জিনিসপত্র। এই শাখায় কাজ করছেন এমন নারীর সংখ্যা এখন নেহাত কম নয়, তবে একবার ভাবুনতো ৪০ বছর আগে ব্যাপারটা কেমন ছিল? বলার অপেক্ষা রাখে না ৪০ বছর আগে আমাদের দেশে এই বিষয়টি নিয়ে জ্ঞান কিংবা কাজের সুযোগ ছিল বেশ সীমিত। আর তা যদি তা কোনো নারীর বেলায় আসে তবে কর্মক্ষেত্রগুলোতে অধিকাংশতেই নারীর জন্য সমান সুযোগ সুবিধা ছিল না। এই যেমন ৪০ বছর আগে তথ্যপ্রযুক্তিতে ক্যারিয়ার শুরু করার সময় শাহেদা মুস্তাফিজের আশপাশে প্রায় সব কর্মীরাই ছিলেন পুরুষ। তখন এ ধরনের বিষয়ে দক্ষ নারী কর্মীর কথা দূরে থাক, বিষয়টি নিয়ে একজন নারীর কাজের সুযোগই তৈরি হয়নি। পরিবার-সন্তানের দায়িত্বের পাশাপাশি তাই সমান্তরালভাবে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং-এ নিজের দক্ষতা বাড়িয়েছেন শাহেদা। কর্মজীবন এবং পারিবারিক জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার যে সংগ্রাম নারীকে আজীবন করতে হয় তা তাকেও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে বারবার। আর প্রতিবারই সেই চ্যালেঞ্জ জয় করে বারবার নিজেকে প্রমাণ করেছেন শাহেদা, দেশের নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার জন্য যা অনুকরণীয় আদর্শ।

পূর্ণ অবসরে যাওয়ার আগে দেশের হাসপাতালগুলোর জন্য অটোমেশন সফটওয়্যার বানানোর কাজ শেষ করতে চান শাহেদা। কর্মজীবনে সবদিক থেকে সফল এই নারী তা দ্রুতই শেষ করতে পারবেন বলে আশা করা যায়। আর তা সম্ভব হলে দেশিয় তথ্যপ্রযুক্তিতে এই ট্রেন্ডসেটারের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে আরো একটি সাফল্যের পালক যোগ হবে, যা অনুপ্রাণিত করবে নতুন দিনের শাহেদা মুস্তাফিজদের।

- নাইব