শনিবার,২০ অক্টোবর ২০১৮
হোম / ফিচার / দুনিয়াজুড়ে মাঠ কাঁপানো নারী ফুটবলার
০৭/০১/২০১৮

দুনিয়াজুড়ে মাঠ কাঁপানো নারী ফুটবলার

-

সদূর আর্জেন্টিনার মেসি, পর্তুগালের রোনালদো কিংবা ব্রাজিলের নেইমার- বিশ্বসেরা ফুটবলারদের নিয়ে নানাতথ্য-উপাত্ত আমাদের মধ্যে অনেকেরই নখদর্পণে। ছেলেদের পাশাপাশি বিশ্বফুটবলে মেয়েরাও কিন্তু কোনো অংশে কম নয়। মেসি-নেইমারদের মতো প্রমীলা ফুটবলও দেখেছে মার্তা, মিয়া হ্যামদের মতো সুপারস্টার।

মার্তা
স্বয়ং ফুটবলের রাজা পেলে তার নাম দিয়েছেন ‘স্কার্টপরা পেলে’। মেয়েদের ফুটবলে পেলের মতোই জীবন্ত কিংবদন্তি ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড মার্তা ভিয়েরা দা সিলভা। ব্রাজিলের হয়ে ১৩৩ ম্যাচে ঈর্ষণীয় গোল স্কোরিং রেটে ১১০ গোল করেছেন তিনি। অসাধারণ ড্রিবলিং স্কিল, ভিশন এবং পেইস- মার্তার ফুটবলে ধ্রুপদী ফুটবলের সবচেয়ে বড় ধারক ব্রাজিলের ছাপ স্পষ্ট। অসাধারণ সব মুভ এবং স্কিলের জন্য স্বদেশি কিংবদন্তি রোনালদিনহো এবং রোমারিওর সাথেও তাকে তুলনা করেন অনেকেই। তবে পেলে-রোনালদিনহোর চেয়ে একদিক থেকে মেসির সাথেই বেশি মিল মার্তার। জাতীয় দলের হয়ে এখনো যে বিশ্বকাপ এবং অলিম্পিক সোনা-কোনোটাই যে জেতা হয়নি তার। তবে তাই বলে ফুটবলার মার্তার শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে কথা বলার কোনো সুযোগ নেই। মেয়েদের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৫টি গোল করার রেকর্ডটিও যে মার্তার দখলে। ২০০৬ থেকে ২০১০ টানা পাঁচবার মেয়েদের বর্ষসেরা ফুটবলারের খেতাব অর্জন করা এই নারী তাই প্রমীলা ফুটবলের সম্রাজ্ঞী, ফুটবল পায়ের অনন্য এক জাদুকর।

মিয়া হ্যাম
নিঃসন্দেহে প্রমীলা ফুটবলের প্রথম সুপারস্টার মিয়া হ্যাম। নব্বইয়ের দশকে ফুটবলের পোস্টার ওম্যান ছিলেন এই আমেরিকান ফুটবলার। আমেরিকার হয়ে ২৭৬টি ম্যাচ খেলে গোল করেছেন ১৫৮, মেয়েদের ফুটবলের শিরোপা জিতেছেন দুবার। দেশের হয়ে অলিম্পিক স্বর্ণপদক জয়েরও কৃতিত্ব আছে এই নারীর। ২০০১ এবং ২০০২ সালে টানা দুবার জিতেছেন মেয়েদের বর্ষসেরার খেতাব। মেয়েদের ফুটবলে সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে বিবেচিত মিয়া মিডফিল্ডার এবং স্ট্রাইকার উভয় ভূমিকায় সমান উজ্জ্বল ছিলেন।

মিশেল অ্যাকেরস
প্রমীলা ফুটবলে মার্কিন আধিপত্যের সূচনালগ্নে এসেছিলেন তিনি। অবসর নেয়ার পর চায়নার সুন ওয়েনের সঙ্গে ‘ফিফা ফিমেল প্লেয়ার অব দ্য সেঞ্চুরি’ খেতাবের মাধ্যমে স্বীকৃতিও পেয়েছেন। তিনি প্রমীলা ফুটবলের একেবারে ঊষালগ্নের এক দিকপাল, নাম তার মিশেল অ্যাকেরস। ১৯৯১ সালে প্রথমবারের মতো আয়োজিত নারী ফুটবল বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয় আমেরিকা, দলের হয়ে একাই ১০ গোল করেন মিশেল! এরপর আরও একবার বিশ্বকাপ এবং অলিম্পিক গোল্ড মেডেলের স্বাদ পেয়েছেন এই দুরন্ত ফুটবলার। প্রমীলা বিশ্বকাপে ১২টি গোল করা এই ফরোয়ার্ড ২০০২ সালে মিয়া হ্যামের সঙ্গে ফিফা ঘোষিত সর্বকালের সেরা ১২৫ জন গ্রেট ফুটবলারের তালিকায় স্থান পান মিশেল। ‘ফিফা ১০০’ নামে পরিচিত এই তালিকায় মিশেল অ্যাকেরস এবং মিয়া হ্যাম- মাত্র এই দুজন নারী স্থান পেয়েছেন।

সুন ওয়েন
২০০২ সালে মিশেল অ্যাকেরসের সাথে ‘ফিফা ফিমেল প্লেয়ার অব দ্য সেঞ্চুরি’ খেতাব পাওয়া চায়নিজ ফুটবলার সুন ওয়েন নিঃসন্দেহে সর্বকালের সেরা নারী ফুটবলারদের সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান পাবেন। চায়নার হয়ে ১৫২ ম্যাচে ১০৬ গোল করেছেন এই তুখোড় স্ট্রাইকার, ২০০৬ সালে অবসরের আগ পর্যন্ত এশিয়ায় প্রমীলা ফুটবলের মশাল ছিল সুনের হাতে। ২৮টি মেজর টুর্নামেন্ট ম্যাচে ১১ গোল করেছেন সুন, প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই তার পারফরম্যান্স ছিল অনবদ্য। ১৯৯৯ নারী বিশ্বকাপকে ব্যক্তিগতভাবে সুন ওয়েনের বিশ্বকাপ হিসেবে মনে করেন অনেকেই। সেবার গোল্ডেন বুট এবং গোল্ডেন বল উভয় পুরস্কার জিতে নিয়ে অন্যতম সেরা নারী ফুটবলার হিসেবে ইতিহাসে পাকাপোক্তভাবে জায়গা করে নেন সুন।

বির্জিত প্রিঞ্জ
একই বিশ্বকাপে টপ স্কোরার এবং সেরা খেলোয়াড়ের খেতাব অর্জন করাটা ফুটবলের দুরূহতম কাজের একটি। ২০০৩ নারী বিশ্বকাপে এই অবিশ্বাস্য কাজটি করিয়ে দেখেছেন সাবেক জার্মান ফুটবলার বির্জিত প্রিঞ্জ। এরপর ২০০৭ সালেও জার্মানির হয়ে বিশ্বকাপ জেতেন প্রিঞ্জ। মার্তা পরে মেয়েদের বিশ্বকাপ মঞ্চে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৪টি গোল করেছেন এই জার্মান ফরোয়ার্ড। জার্মানির হয়ে ২১৪ ম্যাচে ১২৮ গোল করা এই ফুটবলার প্রমীলা ফুটবলে জার্মান সাফল্যের অন্যতম প্রধান রূপকার। অনন্য ফুটবলশৈলীর স্বীকৃতিও পেয়েছেন প্রিঞ্জ, ২০০৩ থেকে ২০০৫ এই তিন বছর প্রমীলা ফুটবলের বিশ্বসেরা উপাধিতে বরণ করে নিয়েছে ফিফা।

অ্যাবি ওয়েমব্যাচ
আন্তর্জাতিক ফুটবলে ছেলেমেয়ে উভয়ের মধ্যে সর্বোচ্চ গোল স্কোরারের মালিক তিনি এবং তাও বহু ব্যবধানে। অবসরের পূর্ব পর্যন্ত আমেরিকার হয়ে ২৫৬ ম্যাচে গোল করেছেন ১৮৪টি। মার্তার পরে প্রিঞ্জের সাথে নারী বিশ্বকাপে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৪ গোলের রেকর্ড রয়েছে তার দখলে। ২০১২ সালে ফিফা বর্ষসেরা নারী ফুটবলারের খেতাব জেতা এই জার্মান ফরোয়ার্ড নিঃসন্দেহে নারী ফুটবলে বিশ্বসেরাদের একজন।

- নাসিফ