সোমবার,২৩ Jul ২০১৮
হোম / জীবনযাপন / ঈদের সকালে
০৬/১৫/২০১৮

ঈদের সকালে

-

ঈদের দিনের প্রধানতম কাজ ঈদগাহে গিয়ে নামাজ আদায় করা। তবে ঈদগাহে যাবার আগে-পরে কিছু কাজ আছে যেগুলো সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে পারলে ঈদের দিনটি হয়ে উঠবে সত্যিকারার্থে আনন্দময়।

সুন্দর একটা শুরু চাই
ঈদের দিনকে সুন্দর আর নির্মল করতে পবিত্র রমজানের ধারাবাহিকতায় ঈদের দিনও শুরু করুন ফজরের নামাজ দিয়ে। নামাজের পর স্বাভাবিক কাজ-কর্ম কিছু থাকলে দ্রুত সেসব সেরে গোসল করে, নতুন পোশাক পরে, সুগন্ধী মেখে তৈরি হয়ে নিন ঈদগাহে যাওয়ার জন্য। পরিবারের সবাই তৈরি হয়ে গেলে একসাথে সেমাই, পায়েস এসব দিয়ে নাশতা সেরে নিন।

সালাম এবং সালামি
এবার কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ আছে। বুঝতে পারছেন না? হুম, সালামি দেয়া-নেয়ার পর্ব। ঈদের দিনে নতুন পোশাক পরে বাড়ির সবার সাথে সালাম এবং সালামি আদান প্রদানের রীতিটা বেশ উপভোগ্য। সুতরাং, এ বিষয়টি কোনোভাবেই মিস করবেন না যেন।

ফিতরা দেয়া হয়েছে কি?
ঈদুল ফিতরের নাম এসেছে ‘ফিতরা’ থেকে। ফিতরার টাকা ঈদের দিনের আগেই দান করে দেয়া উচিত যেন সেই টাকা দিয়ে দরিদ্র মানুষেরা ঈদ উদযাপনের জন্য খাবার বা পোশাক কিনতে পারে। যদি আপনার ফিতরা আগে দেয়া না হয়ে থাকে, তবে এদিন অবশ্যই ঈদের নামাজের আগেই ফিতরার টাকা দান করুন।

তাড়াহুড়ো নয়
তড়িঘড়ি করে শেষ মুহূর্তে ঈদের নামাজে গিয়ে মোটেও তৃপ্তি পাবেন না। আর ধর্মীয় নিয়মানুসারেও ধীরেসুস্থে সময় নিয়ে ঈদগাহে যাওয়াটাই উচিত। সুতরাং পর্যাপ্ত সময় হাতে রেখে ঈদগাহের উদ্দেশ্যে বেরোবেন।

সাথে নিন বাচ্চাদেরকে
মায়েরা তাঁদের সন্তানদেরকে গোসল করিয়ে, সুন্দর করে সাজিয়ে দেয়ার পর বাবারা তাদের হাত ধরে ঈদগাহে নিয়ে যাবেন- এটি মুসলমানদের অন্যতম ঐতিহ্য। ঈদের অনাবিল আনন্দ উপভোগ করতে তাই ঐতিহ্য অনুসরণ করে সন্তানকে সাথে নিয়ে ঈদগাহে যান।

ঈদগাহে যাবার পথে
একা একা ঈদগাহের পথে হাঁটার ব্যাপারটি কল্পনা করুন তো। কেমন বিষাদময় আর খাপছাড়া ঠেকছে বিষয়টি, তাই না? হ্যাঁ, ঈদ তো এসেছেই আত্মায় আত্মায় মেলবন্ধন ঘটাতে। তাই ঈদগাহে যাওয়ার পথে ডেকে নিন বন্ধু আর প্রতিবেশীদেরকে। সবাই মিলে ঈদগাহে যাওয়াটা যে ইসলামের অন্যতম সুন্দর একটি রীতি।

খুতবা এবং কোলাকুলি
নামাজ পড়েই উঠে যাওয়া কোনভাবেই উচিত নয়। বরং নামাজের পর খুতবা শোনাটা ইসলামের নিয়মমতে ওয়াজিব তথা আবশ্যক। সুতরাং নামাজের পর খুতবা শুনে সবার সাথে মোনাজাত দিয়ে তারপর উঠুন। আর তারপর আছে ঈদের দারুণ একটি অনুষঙ্গ-কোলাকুলি। পরিচিতজন তো বটেই, সম্ভব হলে অপরিচিতদের সাথেও বুক মিলান এদিনে।

বাচ্চাদের আনন্দ ঈদের মেলা
ঈদগাহ থেকে ফেরার পথে মেলা থেকে বাচ্চাদেরকে খেলনা কিনে দিন। যদিও অন্যসময় আপনি বাচ্চাকে অনেক খেলনা কিনে দেন, তবু ঈদের মেলা থেকে খেলনা কেনার অনুভূতিটাই যে অন্যরকম বাচ্চাদের জন্য!

কবর জিয়ারত করুন
ঈদের নামাজের পর সম্ভব হলে আপনার মৃত পিতা-মাতা বা আত্মীয়-স্বজনের কবরের পাশে গিয়ে দাঁড়ান। তাদের জন্য হাত তুলে দোয়া করলে দেখবেন দারুণ প্রশান্তি লাগছে। ঈদের আনন্দকে পরিপূর্ণ করতে প্রার্থনার বিকল্প নেই অবশ্যই।

দরিদ্রদের সাথে ভাগ করুন ঈদের আনন্দ
আপনার পরিচিত কোন হতদরিদ্র মানুষকে ঈদের দিন নতুন পোশাক উপহার দিয়ে চমকে দেয়ার চেষ্টা করুন। পাশাপাশি এদিন তাদেরকে আপনার বাসায় দাওয়াত দিয়ে খাওয়ান। দেখবেন তাদের প্রাণখোলা হাসি আপনার ঈদের আনন্দকে বাড়িয়ে দেবে কয়েকগুণ।

- আহমাদ সাঈদ
ছবিঃ ইন্টারনেট