বুধবার,১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮
হোম / ভ্রমণ / ছুটিতে ঘুরে আসুন নীল জলরাশির কক্সবাজার
০৬/১১/২০১৮

ছুটিতে ঘুরে আসুন নীল জলরাশির কক্সবাজার

-

দিগন্তহীন নীল জলরাশি, পায়ের নিচে স্বচ্ছ সাদাবালি এবং নোনাজলের অবিরাম ঢেউ যেন প্রতিবার মুগ্ধ করে সবাইকে। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে পর্যটকরা একবার যেয়ে ক্ষান্ত হয় না। পুরো বছর জুড়েই পর্যটন নগরীতে ভিড় লেগে থাকে ভ্রমণপিপাসুদের। তবে রমজানের ঈদের ছুটিতে কক্সবাজার হয়ে ওঠে এক বৃহৎ মিলনস্থল। ঈদের ছুটিতে পরিবার-পরিজনের সাথে কক্সবাজার ঘুরে আসতে চাইলে কি করবেন না-করবেন, বলে দিচ্ছি তা।

চট্টগ্রাম শহর থেকে দক্ষিণে কক্সবাজারের দূরত্ব প্রায় ১৬০ কিমি এবং ঢাকা থেকে এর দূরত্ব ৪১৪ কিমি। রাজধানী ঢাকা থেকে সড়ক এবং বিমানপথে কক্সবাজার যাওয়া যায়। ঢাকার কলাবাগান, ফকিরাপুল এবং সায়দাবাদ থেকে সরাসরি বাস ছেড়ে যায় কক্সবাজারের উদ্দেশে। তাছাড়া, রেলগাড়িতে করে চট্টগ্রাম পর্যন্ত গিয়ে সেখান থেকেও বাস নিতে পারবেন। সকালের আগে কক্সবাজার পৌঁছাতে পারলে আপনাকে বাস নিয়ে সরাসরি হোটেলের সামনে নামিয়ে দিবে। পৌঁছানোর পরে কি করবেন এবং কোথায় ঘুরবেন জেনে নিন।

কলাতলী ও লাবনী সৈকত
কলাতলী এবং লাবনী সৈকত পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ, কেননা প্রায় সব হোটেল মোটেল থেকেই এই দুইটি সৈকত একদম হাঁটার দূরত্বে অবস্থিত। লাবনী পয়েন্টে আছে ঝিনুক মার্কেট এবং ছোট-বড় অনেক দোকান। তা ছাড়া বৈচিত্র্যপূর্ণ বঙ্গোপসাগরের হরেকরকম সি-ফুড খেতে আপনি লাবনী পয়েন্টের দোকানগুলোতে যেতে পারবেন। কলাতলী সৈকতেও আছে বেশ কিছু রেস্টুরেন্ট একদম সৈকতের উপর। সেখানে বসে আপনি মনোরম সূর্যাস্ত উপভোগ করতে পারবেন। বর্তমানে কক্সবাজারের সব সৈকতে নিশ্চিন্তে সারা রাত থাকা যায় পর্যটন পুলিশের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে। তবে সৈকত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব আপনার। নির্ধারিত স্থান ছাড়া যেখানে সেখানে ময়লা ফেললে পর্যটন পুলিশের কাছে কৈফিয়ত এবং জরিমানা দুটোই দেয়া লাগবে।

হিমছড়ি ও মেরিন ড্রাইভ
কক্সবাজারের মূল শহর ছেড়ে আপনি হিমছড়ি কিংবা ইনানি সৈকতে যেতে হলে আপনার যেতে হবে মেরিন ড্রাইভ দিয়ে। সাম্প্রতিক সময়ে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভকে বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘতম সৈকত ছোঁয়া রাস্তার স্বীকৃতি দেয়া হয়। মাইলের পর মাইল পিচঢালা রাস্তা ছুটে চলেছে ঠিক নীলাভ সমুদ্রের পাশে দিয়ে, আর তার অপর পাশে আছে সুদীর্ঘ সবুজ পর্বতমালা। মেরিন ড্রাইভে বাতাসের সাথে দারুণ গতিতে ছুটে চলার অভিজ্ঞতা আপনি আর কোথাও পাবেন না। মেরিন ড্রাইভ ধরে কক্সবাজার থেকে ১৮ কিমি দক্ষিণে অবস্থিত হিমছড়িতে আছে অপরূপ ঝরনা। হিমছড়ি টুরিস্ট জোনে আপনি প্রায় শ'খানেক সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে পারলে দেখতে পাবেন এক অপার্থিব দৃশ্য। দিগন্তজুড়ে দেখবেন সমুদ্র, মেঘ এবং সূর্য যেন মিশে আছে একযোগ হয়ে। পাহাড় বেয়ে উঠার জন্য অবশ্যই সাথে পানি নিয়ে যাবেন।

ইনানি বিচ
হিমছড়ি পার করে মেরিন ড্রাইভ ধরে আরও দূরে গেলে আপনি ঘুরে আসতে পারবেন ইনানি বিচ থেকে। ইনানির পানি অন্যান্য সৈকত থেকে বেশ পরিষ্কার এবং স্বচ্ছবালির পাশাপাশি আছে কোরাল পাথরের রিফ। ভাটার সময় গেলে আপনি দেখতে পাবেন লাল কাঁকড়ার সমাহার।

ডুলাহাজরা সাফারি পার্ক
ডুলাহাজরা বাংলাদেশের প্রথম সাফারি পার্ক। পাহাড়ি এলাকায় গড়ে তোলা এই পার্কের আয়তন ২,২২৪ একর। কক্সবাজার শহর থেকে ৩৫ কিমি উত্তরে এই সাফারি পার্কে বিলুপ্তপ্রায় ও বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও বংশবৃদ্ধি করা হয়। জীবজন্তু এবং দেশের জীববৈচিত্র্যের সাথে বাচ্চাদের পরিচয় করিয়ে দিতে অবশ্যই এই সাফারি পার্ক ঘুরে আসতে হবে।

থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা
খাওয়া নিয়ে কক্সবাজারে চিন্তা করার কারণ নেই। আছে জনপ্রিয় ঝাউবন এবং পৌশী নামের রেস্টুরেন্ট। তাছাড়া এখন প্রতিটি রাস্তায় আছে রেস্তোরাঁ এবং বারবিকিউ জোন। বেশিভাগ হোটেলেই আপনি সকালের নাস্তা কমপ্লিমেন্টারি হিসেবে পাবেন।

বর্তমানে কক্সবাজারে থাকার জন্য ফাইভস্টার ক্যাটাগরির অনেক হোটেল হয়েছে। ফোরস্টার ও থ্রিস্টার বা সমমানের হোটেল ও রিসোর্টও আছে অনেক। সৈকতের কাছের বেশিরভাগ হোটেলই ভালোমানের। ইনানির নিকটবর্তী এলাকাতেও থাকার জন্য বেশকিছু হোটেল গড়ে উঠেছে। এছাড়া এর বাইরে আছে ইকো রিসোর্ট। ঈদের সময় হোটেল ভাড়া বেশ কম হয়। যাওয়ার আগে যোগাযোগ করে রুম বুক করে যেতে হবে।

কক্সবাজারের কিছু হোটেলের যোগাযোগের নম্বর এখানে দেয়া হোল। সীগাল হোটেল লিমিটেড (০১৭৬৬৬৬৬৫৩০, ০৩৪১-৬২৪৮০-৯০), হোটেল দ্য কক্স টুডে (০১৭৫৫৫৯৮৪৫০, ০৩৪১-৫২৪১০-২২), হোয়াইট অর্কিড (০১৮২৫৯২৩৯৮৯), হোটেল সী ওয়ার্ল্ড (০৩৪১-৫২২২৬, ০৩৪১-৫১৬২৫), সায়মন বিচ রিসোর্ট (০৩৪১-৫১৩৫০, ০১৭৫৫৬৯১৯১৭), ওশান প্যারাডাইস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট (০১৯৩৮৮৪৬৭৬৩-৭, ০৩৪১-৫২৩৭০-৯), লং বিচ হোটেল (০১৭৫৫৬৬০০৫১, ০৩৪১-৫১৮৪৩-৬), হোটেল সী ক্রাউন (০১৮১৭০৮৯৪২০, ০৩৪১-৬৪৭৯৫), হোটেল প্রাইম পার্ক (০১৭৭৫৬০৯৯১৫, ০১৮৪২৬০৯৯১৫, ০৩৪১-৬২৩১১)।

- কাজী মাহদী আমিন

ছবিঃ ইন্টারনেট