শনিবার,২৩ Jun ২০১৮
হোম / বিনোদন / ঈদে কী করেন তারা...?
০৬/১১/২০১৮

ঈদে কী করেন তারা...?

-

কুসুম শিকদার
কাজের সংখ্যা নয় মানের বিচার আগে। এ কথা মাথায় রেখেই ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই পথ চলছেন তিনি। যার কথা বলছি তিনি অভিনেত্রী কুসুম শিকদার। অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও। বেশ কিছু টিভি নাটক ও বিজ্ঞাপনচিত্রের কাজের পর ২০১০ সালে ‘গহীনে শব্দ’ দিয়ে কুসুম শিকদারের বাংলা চলচ্চিত্রে অভিষেক। তার চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে সর্বশেষ সংযোজন বিখ্যাত ভারতীয় বাঙালি চলচ্চিত্র পরিচালক গৌতম ঘোষের ‘শঙ্খচিল’ সিনেমাতে অভিনয়।

কুসুমের কাছে প্রশ্ন ছিল কদিন পরেই তো ঈদ। শৈশব কৈশোরের আনন্দের তারতম্যের সঙ্গে বর্তমানের কতোটা ফারাক তৈরি হয়েছে? উৎসব আমেজে স্টারডম কী কোনো বাঁধা? এ অভিনেত্রীর উত্তরঃ ‘আমার বেশিরভাগ কাছের বন্ধু যারা, সেটা স্কুল, কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় যেটাই হোক, এরা সবাই এখন দেশের বাইরে থাকে। স্কুল, কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরুর দিকেও দেখা যেত ওরা হয়তো আমার বাসায় আসতো আমি হয়তো ওদের বাসায় যেতাম। এভাবে ঈদের চার-পাঁচ দিনব্যাপী একটা ব্যস্ততা থাকত। কিন্তু এখন ব্যস্ততার কারণে হয়তো বছরেও একবার কারও সঙ্গেই দেখা হয় না। আর সে বিষয়গুলোকেই মিস করি।

ছোটবেলা থেকেই তিনি ঈদের আগে নতুন কোনো কাপড় কিংবা অন্যান্য আনুষঙ্গিক কোনো কিছুই কিনেন না। এছাড়া ঈদের দিন নতুন কাপড় পরতেও পছন্দ করতেন না। আর এখনো কুসুম তার জীবনে এ নিয়ম মেনে চলেন। তার কথায় ‘কেন জানি মন থেকে চায় না, যার কারণে কেনাও হয় না।’

কুসুমের কাছে প্রশ্ন ছিল- ঈদকেন্দ্রিক কাজের ব্যস্ততা কেমন? ‘আমার ক্যারিয়ারের দিকে তাকালেই বোঝা যাবে, আমি কাজের ব্যাপারে অত্যন্ত সিলেক্টটিভ। সেই কারণে আমার ঈদ, পহেলা বৈশাখ, স্বাধীনতাকেন্দ্রিক বলে কোনো কাজ আমার কখনোই হয় নাই। যখনই আমার কোনো চিত্রনাট্য ভালো লাগে কিংবা মুড থাকে তখনই আমি কাজ করি। এছাড়া ভালো না লাগলে কাজ করি না। এভাবেই চলছে।

পপি
ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়িকা পপি বর্তমানে ব্যস্ত রয়েছেন ‘কাঠগড়ায় শরৎচন্দ্র’ নামের চলচ্চিত্র নিয়ে। তিনি ১৯৯৭ সালে মনতাজুর রহমান আকবরের ‘কুলি’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্যদিয়ে চলচ্চিত্রে আবির্ভূত হন। এ পর্যন্ত তিনি ‘মেঘের কোলে রোদ’, ‘কি জাদু করিলা’, ‘গঙ্গাযাত্রা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুস্কারের ভূষিত হয়েছেন। এ নায়িকা জানিয়েছেন, দর্শক যতদিন চাইবে অভিনয় দিয়েই ততদিন ইন্ডাস্ট্রিতে থাকতে চান তিনি।

পপির কাছে প্রশ্ন ছিল কদিন পরেই তো ঈদ, শৈশব কৈশোরের আনন্দের তারতম্যের সঙ্গে বর্তমানের কতোটা তফাৎ তিনি খুঁজে পান? এ অভিনেত্রীর উত্তর, ‘সময়ের সাথে যে বিষয়টা সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন হয়েছে সেটা হলো দায়িত্ববোধ। আগে হয়তো তেমন কোনো দায়িত্ব ছিল না। কিন্তু এখন তো পরিস্থিতি পুরোটাই বদলে গেছে। জীবনের চাওয়া-পাওয়া কিংবা অনেক কিছুর হিসেব-নিকেশও বদলে গেছে। আমাদের ছোটবেলায় ঈদের আমাজে একটা ঢং কিংবা ঘ্রাণ যাই বলি না কেন সেটা একরকম ছিল। এখন যেটা হয়েছে, তার মধ্যে কোনো প্রাণ নেই।’

ঈদকেন্দ্রিক কাজের ব্যস্ততা? প্রশ্নে পপি বলেন, ‘আপাতত তেমন কোনো কাজ নেই। টিভি শো কিংবা অন্যান্য বিষয়গুলো নিয়ে এখনও ওভাবে কারও সঙ্গে আলাপচারিত হয় নাই। বর্তমানে সিনেমার শুটিং চলছে। তবে হয়তো ঢাকাতেই ঈদ করব। পরিবারের সাথেই সাধারণত ঈদ কাটে। এর বাইরে তেমন কোনো কিছু নেই। আর এখন তো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আনন্দের অনুষঙ্গের ধরনও পাল্টে গেছে।’

মিথিলা
ছোট পর্দার অন্যতম জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী ও বিজ্ঞাপনচিত্রের মডেল মিথিলা। বরাবরই নিজেকে একটু ভিন্নভাবে দর্শকদের সামনে তুলে ধরতে পছন্দ করেন। বৈচিত্র্যতাকে সঙ্গী করে পথ চলেন তিনি। অনেকদিন ধরেই ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের শিক্ষা কার্যক্রমের প্রোগ্রাম ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছেন। ক’দিন পরেই ঈদ। এবারের ঈদেও বেশ কিছু নাটকে দেখা মিলবে তার। এদিকে কয়েকদিন আগে কলকাতার পরিচালক পার্থ সেনের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মুখোমুখি’তে অভিনয় করেছেন তিনি।

মিথিলা যে সংস্থায় কাজ করেন সেটা বাংলাদেশসহ পৃথিবীর আরও ১০টি নিম্নআয়ের দেশে দারিদ্র্যবিমোচনের জন্য কাজ করে। তাই নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন তিনি। কারণ বাংলাদেশসহ এই পৃথিবীর আরও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য কাজ করতে পারছেন তিনি।

মিথিলার কাছে প্রশ্ন ছিল ঈদ নিয়েই। কৈশোর আর শৈশবের ঈদ উৎসব, আমেজের সাথে বর্তমানের কোনো তফাৎ আছে কিনা! অভিনেত্রীর উত্তর, ‘ছোটবেলাতে তো ঈদ নিয়ে এক ধরনের অন্যরকম আমেজ কাজ করত। ঈদের জামা কাপড় বানানো, নতুন কি জুতা কিনব, নতুন কি ফ্যাশন আসতেছে। প্রতিটা জিনিস নিয়েই বেশ জল্পনা-কল্পনা কাজ করত আমার মধ্যে। আর এসব নিয়ে ভাইবোনদের মধ্যেও এক ধরনের খুনসুটি হতো। ঈদের দিন কোন ড্রেসটা পরব, কোথায় ঘুরতে যাব এসব বিষয়ই ভাবনায় থাকত। এরপর ধীরে ধীরে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনুষঙ্গও পাল্টে যেতে লাগল। এখন হয়েছে কবে ছুটি পাব, কবে একটু রিল্যাক্স করতে পারব। এমনও দেখা গেছে, ঈদের আগের দিনও শুটিং থাকে। যার কারণে একটু ছুটি থাকবে এসব নিয়ে ভাবনা কাজ করে।’

আর এখন ঠিক কেমন? তিনি বলেন, ‘এখন যেটা হয়েছে আমার মেয়ে কি জামা পরবে কিংবা ওর সাজটা কেমন হবে এসব নিয়ে পরিকল্পনা করতে হয়। ওর সঙ্গে টাইম স্পেন্ড করব কিভাবে সে সব নিয়েই ভাবনা থাকে। আমার তো মনে হয় খুবই দ্রুত এ পরিবর্তনটা হয়েছে। মনে হয় এক পলকেই। ঈদে তো কিছু নাটক করাই হবে। আমি চাইব আমার যারা দর্শক তারা যেন সেগুলো দেখবেন।’

- অনন্যা ডেস্ক