শনিবার,২৩ Jun ২০১৮
হোম / খাবার-দাবার / গরমে তৃষ্ণা মেটানোর গন্তব্য - জুসবার
০৫/১৯/২০১৮

গরমে তৃষ্ণা মেটানোর গন্তব্য - জুসবার

-

পহেলা বৈশাখের উৎসব শেষ। চলছে তীব্র গরমের বৈশাখ মাস। রাস্তাঘাটে কাঠফাটা রোদ থেকে যেন পালিয়ে বাঁচতে চায় সবাই। গাছের একটু ছায়া পেলেই জিরিয়ে নিতে ইচ্ছে করে। অবশ্য, ছায়ায় দাঁড়িয়ে বিশ্রামের সাথে একটু তাজা ফলের রস কিংবা হিমশীতল কোল্ডকফি হলে মন্দ হয় না। ঢাকা শহরের আনাচেকানাচে নানা জুসবার এক্ষেত্রে হতে পারে আপনার কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য।

সিটি জুসবার
ঢাকা শহরের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা বেইলি রোড। স্কুল-কলেজ, ব্যবসাবাণিজ্য এবং বাসাবাড়ির ভিড়ে এই এলাকা পুরো সপ্তাহ ধরে থাকে রমরমা। বাচ্চাকে স্কুলে দিয়ে কিংবা মার্কেটিং করতে গিয়ে একটু বিশ্রাম নিতে চাইলে আপনি যেতে পারেন শান্তিনগর মোড়ের একটু আগে অবস্থিত সিটি জুসবারে। আঙুর, আনার থেকে শুরু করে আনারস, সব রকমের ফলের রস পাবেন এই ছোট্ট আকারের দোকানে। বসার জায়গা বেশি নেই, তাই পার্সেল নেয়ার সুব্যবস্থা আছে। মাল্টা, কমলা, ডালিম, আপেল, তেঁতুল, পেঁপে, বেল, তরমুজ এবং গ্রীষ্মে পাকা ও কাঁচা আমের তাজা শরবত কিনতে পারবেন। দাম ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ২০০ টাকা পর্যন্ত।

জাস্ট জুস
ঢাকা শহরের ফ্রুট জুসের বাজারে ব্র্যান্ড নেম হয়ে গেছে জাস্ট জুস। ঢাকার গুলশান, ইউনিমার্ট এবং ইউনাইটেড হাসপাতালে আছে জাস্ট জুসের তিনটি স্টল। চিনি এবং কোন রকম প্রিজারভেটিভ ছাড়া স্বাস্থ্যসম্মত ফলের রস এবং হরেক রকমের স্যান্ডউইচ খেতে আপনি যেতে পারেন জাস্ট জুসে। মনোরম পরিবেশের মাঝে বসার জায়গাও বেশ ভাল। আর মেন্যুতে মিক্সড ফ্রুট, বিট, গাজর, কমলা, আম থেকে শুরু করে সব ধরণের জুস পাবেন। আছে ফ্রেশ কফি এবং বিভিন্ন নাস্তার আইটেম। জুসের দাম ২০০ থেকে শুরু হয়, তবে পরিমাণ অনেক। জাস্ট জুসের ইউনাইটেড হাসপাতাল ব্রাঞ্চটি ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে।

মালয়শিয়া জুসবার
রাজধানীর আসাদ গেট থেকে টাউন হল মার্কেটে যেতেই হাতের ডানে দেখবেন রঙবেরঙের একটি ফ্রুট স্ট্যান্ড। সবসময় ভিড় লেগেই থাকে, তবে কাছে গেলে দেখবেন বসার জায়গা আছে ভালোই। মালয়শিয়া জুসবারে স্বয়ংক্রিয় মেশিনে রীতিমতো মাইক হাঁকিয়ে বেশ দ্রুততার সাথে জুস পরিবেশন করে যাচ্ছে বেশ কয়কজন দক্ষ বিক্রেতা। শহরের এই দ্রুত জীবনে অল্প সময়ের মধ্যে ভালো সার্ভিস পাওয়া একটি আশীর্বাদই বটে। মালয়শিয়া জুস বারে ৬০ থেকে ১৮০ টাকার মধ্যে বিভিন্ন সাইজের গ্লাসে পার্সেল এবং অন হাউজ সার্ভিং পাবেন হরেকরকম জুসের। আম, তরমুজ, লেবু, মাল্টা, বেল, পেঁপে, আঙুর, ডালিম ইত্যাদি ফলের রসের পাশাপাশি মালয়শিয়া জুসবারে তেঁতুল, গাজর, এবং কাঁচা আমের শরবতও পাবেন। লাচ্ছি এবং কোল্ড কফিও পাওয়া যায়।

সান’স ক্যাফে
নিউমার্কেটের আগে ইস্টার্ন মল্লিকার ঠিক বিপরীতে পাবেন সান’স ক্যাফে। বেশ বড় জায়গা নিয়ে নির্মিত দোকানের ডানপাশে কফি এবং জুস স্টেশান, আর বাম পাশে আছে কাবাবের রেস্তোরাঁ। জুসবারে মাল্টা, কমলা, লেবু, আম এবং তরমুজের শরবত পাওয়া যায়। তাছাড়া, চকলেট কোল্ড কফিও বেশ ভালো। বসার জায়গা আছে অনেক এবং সার্ভিসও ভালো।

বিউটি লাচ্ছি
পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী কাবাব খেতে যদি চানখাঁরপুল কিংবা বংশাল যান, তাইলে আপনি চলে যাবেন বিউটি লাচ্ছিতে। এই ভাঙাচূড়া দোকানটি তাদের লাচ্ছি এবং লেবুর শরবতের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয়। হিমশীতল লাচ্ছি এবং লেবু পানি আপনি অর্ডারের সাথে সাথে পেয়ে যাবেন। ঝাল কাবাবের পরপর আপনি ঠান্ডা লাচ্ছি বেশ তৃপ্তি নিয়ে খেতে পারবেন। পুরান ঢাকায় যেতে হলে যাবেন বিকেল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সময়, কেননা বেশির ভাগ খাওয়ার রেস্তোরাঁ বিকেল ৫টা থেকে চালু হয় এবং চলে রাত ৪টা পর্যন্ত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়য় এলাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের হাকিম চত্বর এলাকা, শহীদুল্লাহ হলের পুকুরপাড়, সামাজিক বিজ্ঞানচত্বর এবং শামসুন্নাহার হলের পাশে বেশ কিছু ছোটোখাটো জুস এবং কোল্ড কফির দোকান পাবেন। বেশিভাগ চলে ভ্রাম্যমাণ কার্টের উপর এবং এসব কার্টে ফলের রস এবং কফি পাবেন বেশ সাশ্রয়ী দামে। তাছাড়া, তাজাফল খাওয়ার জন্যও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা বেশ জনপ্রিয়। ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন স্থানে বরই, কাঁচকলা, পেঁপে, স্ট্রবেরি, আনারস, তরমুজ এবং আরও হরেকরকম ফল বিক্রি করে।

গ্রীষ্মের দাবদাহের মাঝে টিকে থাকতে অবশ্যই ফলমূল খাওয়া দরকার। তীব্র রোদে ক্লান্তি জুড়াতে এসব জুসবারে ঘুরে আসতেই পারেন।

- কাজী মাহদী আমিন