বুধবার,১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮
হোম / স্বাস্থ্য-ফিটনেস / ব্যায়াম না ডায়েটঃ কোনটায় মনোযোগ দেবেন?
০৫/১৯/২০১৮

ব্যায়াম না ডায়েটঃ কোনটায় মনোযোগ দেবেন?

-

শরীরের ওজন কমানোর ইচ্ছা যাদের, তাদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় দ্বিধার কারণ হয়ে দাঁড়ায় শুরুটা করবেন কোন উপায়ে - ব্যায়াম করে, না-কি খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে? এছাড়া আরো একটা সিদ্ধান্তহীনতা ওজন কমানোয় ইচ্ছুক ব্যক্তিদের মাথায় সবসময়ই ঘুরপাক খায়, তা হলো, কোনটায় অতিরিক্ত জোর দেওয়া উচিত, ব্যায়াম না কি খাবারদাবার নিয়ন্ত্রণ?

শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ করা বেশ কৌশলী একটি কাজ। কৌশলী বলেই বাজারে এই বিষয়ে দরকারি-অদরকারি পরামর্শ, নিয়ম, কার্যপরিকল্পনার অভাব নেই। তবে আপনি যদি ওজন কমানোর উদ্দেশ্যে খুঁজে পাওয়া সব ধরনের উপায় আর পরামর্শ মেনে চলতে যান তবে ওজন তো কমবেই না, বরং এতে নিজের শরীরের কোনো স্থায়ী ক্ষতি করে বসতে পারেন আপনি।

অতিরিক্ত ব্যায়াম?
একটু খুঁজলেই এমন অনেক গবেষণার খোঁজ পাওয়া যাবে যেগুলোতে দেখানো হয়েছে যে, ব্যায়ামই আপনার ওজন কমানোর পরিকল্পনার জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ পন্থা। এর কারণ হলো আপনার প্রতিদিনের খাবারের মেনুর উপর আপনার নিয়ন্ত্রণ না থাকলেও আপনি কতটা সময় ব্যায়াম করবেন, কী ব্যায়াম করবেন তার উপর আপনার সরাসরি নিয়ন্ত্রণ থাকে। আরো সহজ করে বলা যায় যে, আলস্য কাটিয়ে ওঠা যতটা সহজ, অসময়ে হঠাৎ পাওয়া ক্ষিদে নিয়ন্ত্রণ করা ততটা সহজ নয়। তবে শরীরের ফিটনেস ধরে রাখতে উৎসাহীদের মধ্যে এ তত্ত্ব জনপ্রিয় হলেও ওজন কমানোর ক্ষেত্রে এ তত্ত্বেও কার্যকারিতা সঠিক বলে এখনও প্রমাণিত হয়নি।

বিভিন্ন গবেষণার সুপারিশ অনুযায়ী, শরীরের ওজন কমাতে আগ্রহীদের জন্য পরিকল্পনা একেবারে শুরুতে প্রতিদিনের রুটিনের সঙ্গে ২০ শতাংশ ব্যায়াম যুক্ত করা উচিত। খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে গ্রহণ করা ক্যালরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন, তবে গৃহীত ক্যালরি পোড়ানোর জন্য ব্যায়াম করতেই হবে।

তাছাড়া নিয়মিত ব্যায়াম করলে ঘুম ভালো হয়, পরিপাকতন্ত্রের কার্যক্ষমতা বাড়ে, স্ট্রেসের মাত্রা কমার সঙ্গে সঙ্গে রক্তে কোলেস্টোরলের মাত্রাও কমে। ব্যায়ামের চূড়ান্ত ফল হলো শারীরিক কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়া, তাই ব্যায়াম কোনোভাবেই পুরোপুরি বাদ দেয়া উচিত না।

খাদ্যাভাসে নিয়ন্ত্রণ?
বেশিরভাগ মানুষের জন্যই ভোরবেলায় উঠে ব্যায়াম করার চেয়ে খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করা সহজতর। এর খুব সহজ সাধারণ কারণ হলো, দৈনন্দিন রুটিনে পরিবর্তন এনে তাতে মানিয়ে নেওয়ার চেয়ে বরং কী বস্তু গলাধঃকরণ হচ্ছে তার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া বেশি সহজ মনে করেন অনেকে। আর ওজন কমানোর জন্য হরেকরকমের খাদ্য পরিকল্পনা বা ডায়েট প্ল্যানের একেবারে উদাহরণসহ নমুনার অভাবও নেই বাজারে। খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনার ফলে শরীরের ওজন যদিও কমে, তবে এটা মনে রাখাও জরুরি যে, এই পরিবর্তন সাময়িক। আপনি যখনই আপনার “স্বাভাবিক” খাদ্যাভ্যাসে ফিরে যাবেন, আবারও ওজন বাড়তে শুরু করবে। তবে খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণকে একেবারেই গুরুত্বহীন মনে করার কিছু নেই। ব্যায়ামের সঙ্গে সঙ্গে অবশ্যই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ধরে রাখতে হবে।

শুরু করবেন কোনটা দিয়ে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, আপনার ওজন কমানোর পরিকল্পনাতে ব্যায়াম ও খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ, দু’টো উপায়ই পাশাপাশি থাকতে হবে। ওজন কমানো মূলত জীবণাচরণের একটি টেকসই পরিবর্তন, এবং এটি কার্যকরভাবেই শুরু করা উচিত। স্থায়ীভাবে ওজন কমানো খুবই ক্লান্তিকর ও সময়সাপেক্ষ কাজ, তবে সঠিক পথে শুরু করলে জাদুর মতো শারীরিক পরিবর্তনগুলো ঘটতে শুরু করবে। সাথে যোগ হবে স্বাস্থ্যের বিভিন্ন দিকের উন্নতিও।

- কাজী শাহরিন হক

ছবিঃ আকিব আবদুল্লাহ