শনিবার,২৩ Jun ২০১৮
হোম / ফ্যাশন / চাই স্টাইলিশ হাতঘড়ি
০৫/১৯/২০১৮

চাই স্টাইলিশ হাতঘড়ি

-

টিপটপ হয়ে পার্টিতে যেতে প্রস্তুত আপনি। ক্লাসি পোশাক, জুতা আর দামী পারফিউম কিছুই মিস গেল না, কিন্তু তারপরও কেন যেন মনে হল কিছু একটার অভাব, কী যেন নেই। ঠিক ধরেছেন, অভাব শুধু একটি ফ্যাশনেবল হাতঘড়ির।

যেমন ফ্যাশন চলছে
একটি স্মার্ট আর ফ্যাশনেবল হাতঘড়ি আপনার ব্যক্তিত্ব আর রুচিবোধের পরিচায়ক। ফ্যাশন আর প্রয়োজনের চাহিদা মেটাতে মানানসই হাতঘড়ির জনপ্রিয়তাই এখন সবচেয়ে বেশি। যুগের সাথে পাল্লা দিয়ে হাতঘড়ির স্টাইলেও এসেছে অনেক পরিবর্তন। হাতঘড়ির রুচিতে বর্তমানের তরুণদের মধ্যে অনেক বৈচিত্র্য দেখা যায়। বড় ডায়াল আর চেইনের ঘড়ির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। ক্যাজুয়াল ঘড়ির চাহিদা বেশি হলেও সবাই এখন কমবেশি ফর্মাল ঘড়ি পরছেন। এক্ষেত্রে লেদার বেল্ট আর প্লেইন ডায়ালের ঘড়ির কদর বরাবরই বেশি। ক্রিস্টাল পাথর আর বেল্টের ঘড়ি মেয়েদের পছন্দের শীর্ষেই থাকে, এগুলি দেখতে অনেকটাই ব্রেসলেটের মতো। রং-বেরঙের ক্রিস্টাল, সাথে মোটা চেইন বা চওড়া বেল্টের কম্বিনেশনের ফ্যান্সি ঘড়িগুলো তরুণীদের আকর্ষণ করছে বেশি। তবে হালের ফ্যাশন সচেতনরা স্পোর্টস ওয়াচ আর ক্যাজুয়াল-ফর্মাল ঘড়িও রাখছেন পছন্দের তালিকায়।

চাই ফ্যাশন বুঝে হাতঘড়ি নির্বাচন
যেনতেনভাবে কিছু না ভেবেই হাতঘড়ি পরার দিন এখন আর নেই। সময় দেখার জন্য মোবাইল ফোন ই যথেষ্ট। তাই হাতঘড়ি এখন যত না সময় দেখার যন্ত্র, তার চেয়েও বেশি ফ্যাশন অনুষঙ্গ। স্টাইল, পোশাক, লুক আর উপলক্ষ- এই চারটি বিষয়কে মাথায় রাখুন হাতঘড়ি নির্বাচনের ক্ষেত্রে। আপনার গেটআপ আর লুকের উপর ভিত্তি করে সঠিক হাতঘড়িটি পরলে তা আপনাকে আর আপনার ব্যক্তিত্বকে ফুটিয়ে তুলবে সবচেয়ে বেশি। উপলক্ষ আর পরিবেশ বুঝে ক্যাটাগরি করে নিতে পারেন ঘড়ির, এভাবে পার্সোনাল কালেকশনও বানাতে পারেন। ক্যাজুয়াল, ফর্মাল আর স্পেশাল এই তিন ধরনের ঘড়ি রাখতে পারেন লিস্টে। পার্টি, বিয়ে আর সামাজিক দাওয়াতগুলোতে ফর্মাল লুকের পাশাপাশি স্পেশাল কালেকশন থেকে ঘড়ি পরলেন। অফিসে তো ফর্মাল চাই-ই, বাকি সময়গুলোতে ক্যাজুয়াল ঘড়িগুলোই মানিয়ে যায় বেশ।

মনে রাখা দরকার
হাতঘড়ি পরার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় মনে না রাখলেই নয়, যেমন-
- পোশাক বুঝে ঘড়ি পরা চাই, একেক ধরনের পোশাকের সাথে একেক রকমের ঘড়ি মানানসই। অফিসিয়াল পোশাকের সাথে ছোট ডায়ালের চিকন বেল্টের ঘড়িই বেশি মানানসই। তেমনি টপ, টিউনিক আর অন্যান্য ওয়েস্টার্ন পোশাকের সাথে বড় ডায়ালের ঘড়ি, ক্রিস্টালের ফ্যান্সি ঘড়িই বেশি মানিয়ে যায়।

- আপনার পার্সোনালিটি আর বয়স বুঝে ঘড়ি নির্বাচন করুন। কেননা এটি আপনার রুচিকে তুলে ধরবে।

- বিশেষ অনুষ্ঠানে পড়ার ক্ষেত্রে অনুষ্ঠানের ধরন আর পরিবেশ বুঝে ঘড়ি নির্বাচন করবেন।

- ট্রেন্ডের দিকে না ঝুঁকে আপনার ব্যক্তিত্বের সাথে কোন ঘড়ি মানাবে সেদিকে নজর দিন।

- বর্ষাকালে ওয়াটারপ্রুফ হাতঘড়ি পরুন।

- হাতঘড়ির বেল্ট আর ডায়াল সবসময় পরিষ্কার রাখতে হবে।

কেনার সময় খেয়াল রাখুন
ঘড়ি কেনার সময় প্রথমেই মাথায় রাখুন ঘড়িটি মূলত কী উপলক্ষে কিনছেন অর্থাৎ কখন, কোথায় পরবেন। কর্মক্ষেত্রের পরিবেশের কথাও মাথায় রাখা চাই, প্রয়োজনে ওয়াটারপ্রুফ ঘড়ি নিন। রাফ ইউজ করতে চাইলে আর প্রতিকূল পরিবেশে কাজ করলে স্পোর্টস ওয়াচ ভালো হবে। কেননা সেগুলো বেশ টেকসই আর মজবুত। ঘড়ি কেনার আগে কিছু জিনিস ভেবে নিন, যেমন-

- অ্যানালগ ঘড়ি কিনবেন নাকি ডিজিটাল সেটা আগেই ঠিক করে নিন যাতে দোকানে গিয়ে দ্বিধায় পড়তে না হয়।

- ঘড়ি কেনার আগে বাজেট ফিক্স করে নেবেন, প্রয়োজনে আগেই মার্কেট যাচাই করে নিন, ইন্টারনেটেও সার্চ করতে পারেন।

- নন ব্র্যান্ডের ঘড়ি কিনলে কম ফিচার দেখে কিনুন, তাতে বেশিদিন টিকবে।

হাতঘড়ির বাজারের হালচাল
দেশজুড়ে হাতঘড়ির বাজার বেশ জমজমাট আর বিস্তৃত। ফুটপাত থেকে শুরু করে অভিজাত শপিং মল আর অনলাইন শপ, সব জায়গাতেই হাতঘড়ি পাবেন আপনি। ঢাকার বায়তুল মোকাররম মার্কেট, যমুনা ফিউচার পার্ক, বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স, পাটুয়াটুলি, নিউমার্কেটসহ সারাদেশের নামকরা শপিং মলে ব্র্যান্ড আর নন-ব্র্যান্ডের ঘড়ি পাবেন। স্টাইল আর ফিচার ভেদে নন ব্র্যান্ডের ঘড়ি ২০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে পেয়ে যাবেন।

চাইলে রেপ্লিকাও কিনতে পারেন। ব্র্যান্ডের মধ্যে টাইটান, ওমেগা, সিকো, গুচি, রাডো, সিটিজেন, রোলেক্স, ক্যাসিও, ফাস্টট্র্যাক ইত্যাদি বাংলাদেশে বেশি জনপ্রিয়। ব্র্যান্ডভেদে এই ঘড়িগুলো ১৫০০ টাকা থেকে শুরু করে লাখ টাকাও ছাড়িয়ে যেতে পারে। ব্র্যান্ডের হাতঘড়ি অবশ্যই শোরুম বা সার্টিফাইড আউটলেট থেকে কেনা উচিত।

- তানভীর জাহান