বুধবার,২৩ মে ২০১৮
হোম / ফ্যাশন / পায়ের ফ্যাশনে নতুন ট্রেন্ড 'জুত্তি'
০৫/০২/২০১৮

পায়ের ফ্যাশনে নতুন ট্রেন্ড 'জুত্তি'

-

সোনালি সুতার কাজ বা কারচুপি করা, এমন বাহারি নকশার জুত্তির ট্রেন্ড প্রায় হারাতে বসেছিল। তবে তা আবারও ফিরে এসেছে নতুন করে, আরো স্টাইলিশভাবে।

"জুত্তি" মূলত উর্দু শব্দ। এই উপমহাদেশে মুঘলরা এই জুতা নিয়ে আসেন। রাজা বা জমিদার গোত্রের মধ্যে শুরুতে এই জুতার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়। ভারতের পাঞ্জাবে জুত্তি অন্যতম জনপ্রিয় একটি অনুষঙ্গ। পাঞ্জাবের হাতের কাজে পারদর্শী একটি জনগোষ্ঠী জুত্তি তৈরি করে থাকেন।

পাঞ্জাবী জুত্তি মূলত চামরার তৈরি হয়। এর উপর সুতা, কারচুপি বা পুঁতির কাজ করা হয়। কিন্তু নতুন ধারার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নানান ধরনের ম্যাটেরিয়াল দিয়ে ইদানিংকালের জুত্তি তৈরি করা হচ্ছে, যেমন আর্টিফিশিয়াল লেদার, কাপর ইত্যাদি।

ট্র্যাডিশনাল বা ফিউশন যে-কোনো স্টাইলের পোশাকের সঙ্গে জুত্তি বেশ মানানসই। এই ধরনের জুত্তি নাগরা হিসাবেও পরিচিত। যে-কোনো পোশাকে ভিন্নতা আনতে ভালো একজোড়া জুতা বা স্যান্ডেলের জুড়ি নেই। আর সেই ধারায় কাজ করা নাগরা তো অনবদ্য। চুড়িদার বা পাটিয়ালা সালোয়ার যে-কোনোটির সঙ্গেই বেশ মানিয়ে যাবে জুত্তি। জুত্তির সঙ্গে সব থেকে বেশি মানিয়ে যায় পাটিয়ালা সালোয়ার। ট্র্যাডিশনাল স্টাইলই তাই।

অনুষ্ঠানে সুন্দর পোশাকের সঙ্গে পরার জন্য সবার মাথায় প্রথমেই আসে হিল, কিন্তু দীর্ঘসময় পরে থাকার জন্য হিল বা উঁচু স্যান্ডেল মোটেও আরামদায়ক নয়। সেই তুলনায় নাগরা বা জুত্তি অনেক বেশি আরামদায়ক এবং পরাও সহজ। ট্র্যাডিশনাল ধাঁচের হলেও যে-কোনো ওয়েস্টার্ন পোশাকের সঙ্গেও বেশ মানিয়ে যায়।

শুরুতে গর্জিয়াস বা রাজকীয় পোশাকের সঙ্গেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জুত্তি পরা হতো। তবে হাল ফ্যাশনে ব্যালেন্সিংয়ের জামানায় গর্জিয়াস পোশাকের সঙ্গে জমকালো জুুত্তি বেশ বেমানান দেখাবে। সেই হিসাবে পায়ে জমকালো একটি নাগরা গলালে এর সঙ্গে পরা যেতে পারে হালকা কাজ বা একরঙা পোশাক।

কুর্তা বা টপসের সঙ্গে জিন্স আর পায়ে মানানসই জুত্তি হ্যাংআউট বা বন্ধুদের আড্ডার জন্য আদর্শ। শাড়ি বা ল্যাহেঙ্গার সঙ্গেও দারুণ মানিয়ে যায় জুত্তি। গাউন বা স্কার্টের সঙ্গে মানানসই নাগরা বা জুত্তি পরা যেতেই পারে। সাদা গাউন বা টপস-জিন্সের সঙ্গে রঙিন জুত্তি হতে পারে আদর্শ অনুষঙ্গ। যে-কোনো একঘেঁয়ে পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে জুত্তি পরা যেতেই পাওে, যা আপনার অ্যাপিয়ারেন্স-কে করবে আকর্ষণীয়।

জুত্তি তুলনামুলকভাবে অনেক আরামদায়ক তাই যেকোনো অনুষ্ঠানে বা উপলক্ষে পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে পরা যায়। বিশেষত যে-কোনো অনুষ্ঠানে যদি হাঁটাহাঁটি বেশি করতে হয় সেক্ষেত্রে বেছে নিতে পারেন আরামদায়ক জুত্তি।

যারা হিল পরে স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটতে পারেন না তাদের জন্য একমাত্র অবলম্বন ফ্ল্যাট স্যান্ডেল বা জুতা। আর এগুলোতে নতুনত্ব বা ভিন্নতা কমই থাকে। সেক্ষেত্রে পছন্দমতো বেছে নেওয়ার পরিধিও কমে যায়। সেক্ষেত্রে বেশ উপযোগী হতে পারে জুত্তি। কারণ এর ভ্যারাইটির শেষ নেই। রং, নকশা বা স্টাইল সব কিছুই পাওয়া যাবে জুত্তির মধ্যে।

শুধু সুতা বা কারচুপির কাজ নয় বিভিন্ন প্রিন্টের ভিন্নতাও পাওয়া যায় জুত্তির মধ্যে। হালকা রংয়ের বেইসের উপর রঙিন প্রিন্টের জুত্তি দারুণ মানিয়ে যায়।

শুধু মেয়েদের জন্য নয়, পুরুষদের জন্যও রয়েছে জুত্তি বাছাইয়ের স্বাধীনতা। পাটিয়ালা সুট বা কাবলির সঙ্গে পায়ে একজোড়া জুত্তি পুরো লুকে ভিন্নতা এনে দিতে পারে।

তবে জুত্তি বাছাইয়ের সময় অবশ্যই পোশাকের রং এবং জুত্তির নকশার সামঞ্জস্যতা মাথায় রাখতে হবে।

- অদ্বিতী