বুধবার,১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮
হোম / স্বাস্থ্য-ফিটনেস / ইনসমনিয়া-র ভয়ানক জগতে
০৪/২২/২০১৮

ইনসমনিয়া-র ভয়ানক জগতে

-

সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুমের বিকল্প নেই। তবে ঘুম আসাটাই কি এতটাই সহজ? রোজ বিছানার এপাশ-ওপাশ করে এবং নানা ব্যবস্থা নিয়েও সারারাত ঘুমাতে পারেন না এমন মানুষের সংখ্যা কম নয়। বিষয়টিকে কোনোভাবেই হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। কারণ এই ঘুমাতে না পারাটা আসলে একটি রোগ, রোগের নাম ইনসমনিয়া।

ইনসমনিয়া কী?
ইনসমনিয়া হলো এক ধরনের স্লিপ ডিসঅর্ডার। সোজা বাংলায় বলতে গেলে অনিদ্রা বা নিদ্রাহীনতা। এই ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত ব্যক্তি ঠিমমতো ঘুমাতে পারেন না, আবার একবার ঘুমিয়ে পড়লেও তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। অনেক সময় দেখা যায় সারাদিন পরিশ্রমে ক্লান্ত শরীরেও এই ঘুমের সমস্যা যাচ্ছে না। ইনমনিয়ায় আক্রান্ত রোগীরা মোটামুটিভাবে নিম্নোক্ত সমস্যা মোকাবেলা করেন।

- সময়মতো ঘুম না আসা।
- মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যাওয়া এবং এরপর ঘুম না-আসা।
- খুব সকালে ঘুম ভেঙে যাওয়া।
- ঘুম থেকে উঠার পর ক্লান্তি অনুভব করা।

বিশেষজ্ঞরা রোগের তীব্রতা অনুসারে ইনসমনিয়াকে প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি এই দুভাগে ভাগ করেন। একজন প্রাইমারি ইনসমনিয়ান ঘুমের সমস্যায় ভোগেন, তবে তা অন্য কোনো রোগের কারণে বা উপসর্গ হিসেবে নয়। অন্যদিকে সেকেন্ডারি লেভেলের ইনসনিয়ানরা অন্য কোনো হেলথ কন্ডিশনের কারণ হিসেবে ইনসমনিয়ায় ভোগেন। এই যেমনÑ অ্যাজমা, আর্থাইটিস, ক্যানসার বা হৃদরোগের কারণে অনেকের মধ্যেই ইনসমনিয়া দেখা দেয়। আবার অন্যান্য রোগের অসুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে নিদ্রাহীনতায় ভোগেন অনেকেই। এছাড়া অতিরিক্ত মদ্যপানের জন্যও অনিদ্রার সমস্যা দেখা দিতে পারে। মাঝে মাঝে অনিদ্রা হলে তা নিয়ে এত দুশ্চিন্তার কিছু নেই। তবে মাসখানেক বা তারও বেশিদিন ধরে সপ্তাহে তিন বা এর বেশি রাত অনিদ্রা হলে বুঝতে হবে ব্যক্তি ইনসমনিয়ায় আক্রান্ত এবং দ্রুতই চিকিৎসা শুরু করা উচিত।

কারণ ও প্রতিকার
নানা শারীরিক এবং মানসিক কারণে ইনসমনিয়া হতে পারে। এদের মধ্যে নিম্নোক্ত কারণগুলো উল্লেখযোগ্য।

- অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা এবং মানসিক চাপ।
- বড় ধরনের শারীরিক অথবা মানসিক যন্ত্রণা।
- অনেক সময় অতিরিক্ত শব্দ, আলো কিংবা তাপমাত্রার জন্যও নিদ্রাহীনতা হয়।
- হাই ব্লাডপ্রেসার, অ্যাজমা, অ্যালার্জি ইত্যাদি রোগের জন্য ওষুধ সেবনেও অনেক সময় অনিদ্রা হতে পারে।
- এছাড়া ঘুমাতে যাওয়ার রুটিনে ঘন ঘন পরিবর্তনও পরোক্ষভাবে ইনসমনিয়া ডেকে আনে।

ইনসমনিয়ায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের সবার প্রথমেই চিকিৎসকের পরামর্শমতো ফুল চেক-আপ করিয়ে নিতে হবে। এর মাধ্যমে ব্যক্তি সেকেন্ডারি ইনসমনিয়ায় ভুগছেন কিনা অর্থাৎ এর সঙ্গে কোনো রোগ যুক্ত আছে কিনা তা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। মাইল্ড লেভেলের ইনসমনিয়া ঘুমের অভ্যাস এবং লাইফস্টাইলের পরিবর্তনের মাধ্যমেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঠিক হয়। এক্ষেত্রে সময়মতো বিছানায় ঘুমাতে যাওয়া, ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা, ঘুমানোর আগে একটু হাঁটা-চলার অভ্যাস ইত্যাদির মাধ্যমে সুফল পাওয়া যাবে। তবে তা যদি মাত্রা ছাড়িয়ে যায় তবে চিকিৎসক অবশ্যই বিশেষ থেরাপির ব্যবস্থা করবেন এবং অনেক সময় ঘুমের ওষুধও দিতে পারেন। তবে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া লাগামহীনভাবে স্লিপিং পিল খাওয়ার অভ্যাস ইনসমনিয়ার প্রতিকার তো করবেই না, বরং সমস্যা বাড়িয়ে দেবে বহুগুণে।

- শাহরিয়ার মাহী

ছবিঃ আকিব আবদুল্লাহা