সোমবার,১৯ নভেম্বর ২০১৮
হোম / জীবনযাপন / সন্তানের করা সেনসিটিভ প্রশ্নের উত্তরে
০৪/২২/২০১৮

সন্তানের করা সেনসিটিভ প্রশ্নের উত্তরে

-

‘মানুষের লেজ থাকে না কেন?’ ‘সৃষ্টিকর্তা কি, কোথায় থাকেন?’ ‘আমার দুটি চোখ, তাহলে আমি একটা জিনিস দেখি কেন?’-একজন উৎসুক বাচ্চার বাবা-মা হিসেবে এরকম আরও অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হওয়া স্বাভাবিক। এসব ক্ষেত্রে কি করবেন? জেনে নিন বাচ্চাদের সচরাচর করা কিছু সেনসিটিভ এবং ট্রিকি প্রশ্ন ও তার উত্তর দেওয়ার উপায়ঃ

তুমি আর বাবা শুধু ঝগড়া করো কেন?
বাবা-মার মধ্যে কথা কাটাকাটি বা ঝগড়ার সবচেয়ে বড় ভিক্টিম হয় সন্তানেরা। অনেক ক্ষেত্রেই বাচ্চারা মা-বাবার ঝগড়ায় নিজেদের দোষী ধরে নেয়। এক্ষেত্রে প্রথম কাজটি হলোঃ বাচ্চাকে বোঝানো যে আপনাদের ঝগড়ার কারণ তাকে ঘিরে নয়। তাকে বোঝানোর চেষ্টা করুন যে, মানুষের মধ্যে মতের পার্থক্য হলে তর্ক-বিতর্ক হয়। আরো সহজভাবে বলতে পারেন যে, "তুমি দুষ্টুমি করলে আমরা তোমাকে বকা দিই ঠিকই তবে তার মানে এই না যে, আমরা তোমাকে ভালোবাসি না।"

মানুষ কেন মারা যায়?
মৃত্যু প্রকৃতির অবধারিত সত্য। এ নিয়ে রাখঢাক করাটা অযৌক্তিক। আপনার শিশুকে বলুন যে, “মানুষ পৃথিবীতে আসে, প্রিয় মানুষদের সাথে সুন্দর কিছু সময় কাটায়, মজার মজার সব অ্যাডভেঞ্চারের সাক্ষী হয় ও অমূল্য অনেক স্মৃতি সাথে নিয়ে নিয়মানুসারে চলে যায়।”

তুমি কেন আমাকে একা রেখে অফিস যাও?
সন্তানকে অফিস ও কাজের গুরুত্ব সম্পর্কে জানান দিন। জীবনযাপনের ক্ষেত্রে কাজ করার প্রয়োজন সম্পর্কে সহজ ভাষায় তাকে বোঝানোর চেষ্টা করুন। সাথে এটাও মনে করিয়ে দিতে ভুলবেন না যে, আপনার জন্য আপনার সন্তান আগে, কাজ পরে। বলতে পারেন যে, আপনি খুব দ্রুতই ফিরে আসবেন তার কাছে যেন বাড়ি ফিরে দু’জনে মিলে অনেক মজা করতে পারেন।

মা, আমি ভূত ভয় পাই!
বাচ্চারা বিভিন্ন জিনিসে ভয় পায়। সন্তানের ভয় পাওয়া নিয়ে একেবারেই এড়িয়ে যাবেন না। যা নিয়ে সে ভীত তার রহস্যোদ্ঘাটন করার চেষ্টা করুন তাকে সঙ্গে করেই। অন্ধকার, কোনো অস্বাভাবিক শব্দ বা যা-ই হোক না কেন তাকে ভয়ের মুখোমুখি হওয়ার সাহস জোগান। তার যেকোন খেলনা জাদুকরী শক্তিসম্পন্ন ও ভূত তাড়িয়ে দিতে সক্ষম-এমন আশ্বাস দিতে পারেন যাতে করে বাচ্চার ভয়টা কেটে যায়।

আমি কিছুতেই ডাক্তারের কাছে যাব না
ডাক্তারের ইনজেকশন বা টিকায় বাচ্চাদের ভয় পাওয়া যুক্তিসংগত। জোর না করে সন্তানকে শান্তভাবে বোঝান যে, শরীরে জীবাণু ঢুকে শরীর খারাপ করে দেয় যা, শুধুমাত্র চিকিৎসার মাধ্যমে দ্রুত সারানো সম্ভব। তাকে বলুন যে, সুস্থ হয়ে আবার ছুটে বেড়ানোর জন্য ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে।

ছেলেটার ওই অঙ্গটা ওরকম কেন?
বাচ্চাদের যৌনাঙ্গ নিয়ে কৌতূহলে প্যারেন্টসরা পড়েন এক বিব্রতকর পরিস্থিতিতে। অস্বাচ্ছন্দ্য বোধ করলেও, সন্তানের জিজ্ঞাসা একেবারে উড়িয়ে দেবেন না। আপনার বাচ্চাকে জানতে দিন যে, ছেলে ও মেয়ে আলাদাভাবে তৈরি, এজন্য তাদের প্রাইভেট পার্টগুলোও আলাদা। অনেক চাইল্ড সাইকলোজিস্ট বিশ্বাস করেন যে, বাচ্চাদের যৌনাঙ্গ সম্পর্কে জ্ঞান দেওয়া ভালো।

তুমি কি ভাইয়াকে বেশি ভালোবাসো না আমাকে?
বাবা-মার চোখের মনি হয়ে উঠতে বাচ্চারা কত কি ই না করে! তাই তাই বাবা-মা হিসেবে একটি জিনিস কখনই করবেন না, তা হলোঃ তুলনা। সন্তানদের আশ্বস্ত করুন যে, আপনারা তাদেরকে অকাতরে ও সমানভাবে ভালোবাসেন। ব্যক্ত করুন যে, কাউকেই বেশি বা কম নয়, বরং পরিমাণ করা যাবে না এমন ভালোবাসা বরাদ্দ তাদের জন্য।

- আবীর