বুধবার,১৫ অগাস্ট ২০১৮
হোম / জীবনযাপন / কর্মক্ষেত্রে বসের সাথে সম্পর্ক হোক সুন্দর
০৪/১৯/২০১৮

কর্মক্ষেত্রে বসের সাথে সম্পর্ক হোক সুন্দর

-

প্রথম শর্তটি হলো, নিজেকে সৎ ও দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলুন। কেননা, এর ব্যতিক্রম হলে আপনার পেশাগত জীবন সত্যিই ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। অসততা যেমন আপনার জন্য ইতিবাচক হবে না, তেমনি আপনার কর্ম দক্ষতার ওপরও নেগেটিভ প্রভাব ফেলবে। আর এসব কিছু পর্যবেক্ষণের মূলে রয়েছে বস। তাই বলে যে বস বা সিনিয়রদের সব কথা মেনে কলুর বলদের মতো কাজ করতে হবে তা কিন্তু নয়। বরং কিছু কার্যকরী কৌশল অনুসরণ করে পেশাগত জীবনে আপনি হয়ে উঠতে পারেন সফল একজন।

বস কী চাচ্ছেন জানুন
যে-কোনো বিষয়ে বসের দৃষ্টিভঙ্গি কী তা জানার চেষ্টা করুন। যেমন- তিনি কর্মচারীদের সাথে কীভাবে যোগাযোগ করছেন, কাজের প্ল্যান কী রকম করে সাজ্জাচ্ছেন, একদিন আগে না এক সপ্তাহ আগে কাজ শেষ করতে চাইছেন- এসব বিষয় সঠিকভাবে জানার চেষ্টা করুন। তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো বস আপনার কাছ থেকে কী আশা করছেন তা জানা। সবমিলিয়ে, তার কাজের অভ্যাস এবং লক্ষ্য বুঝতে চেষ্টা করুন। এতে আপনার কাজও সহজ হয়ে উঠবে।

নিয়মিত কাজের আপডেট জাদিন
বসকে কাজের সকল আপডেট দিন। এমনকি আপনাকে দেওয়া কাজটি করতে কী কী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন তা ব্যাখ্যা করুন বা অন্য কোনো অপ্রীতিকর খবর থাকলে তাও জানান। যদি সম্ভব হয়, তাহলে প্রতিদিন আপনার আপডেটগুলি উপস্থাপন করুন এবং ভবিষ্যতের প্ল্যানগুলোও তুলে ধরুন। মনে রাখবেন অফিস কর্তৃপক্ষ সবসময়ই দায়িত্বশীল সদস্যদের গুরুত্ব দেয়, আর নিয়মিত আপডেট দেয়া আপনার দায়িত্বশীলতার পরিচায়ক।

কথা দেওয়ার আগে চিন্তা করুন
যদি আপনি একটি প্রকল্প বা কাজ সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকেন, তবে নিশ্চিত করুন যে, আপনি যেকোনো মূল্যে তা পূরণ করবেন। ডেডলাইন ভালো করে জেনে নিন। কাজটির জন্য যদি নির্ধারিত সময় কম মনে হয় তবে আগেই তা বস বা আপনার সিনিয়রদের জানিয়ে নিন। সবকিছু বিশ্লেষণ করে তবেই সেই কাজের দায়িত্ব নিন।

নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন করুন
অফিসে আপনার অবশ্য পালনীয় দায়িত্বের মধ্যে একটি হচ্ছে- নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা বা ডেডলাইন মিস না করা। আপনার বসকেও হয়তো তার সিনিয়রদের কাছে রিপোর্ট করতে হতে পারে, তাই আপনি ডেডলাইন মিস করলে তার বিরূপ প্রভাব বসের উপর পড়বেই। আর যদি ডেডলাইনের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন করতে নাই পারেন, তবে বসকে একেবারে শেষ মুহূর্তে না জানিয়ে আগেই জানিয়ে রাখার চেষ্টা করুন, দরকার হলে তার সাথে আলোচনা করে সমাধানের পথ খুঁজুন। এক্ষেত্রে দৈনন্দিন কাজকে আগে প্রাধান্য দিন যা আপনার অবশ্যকরণীয়। বস আলাদা কোনো কাজের দায়িত্ব দিতে চাইলে আপনার প্রধান প্রধান কাজ সম্পর্কে তাকে জানান।

বিকল্প সমাধান বের করুন
সব কিছুতে সমস্যা বের করার অভ্যাসটা কারও পছন্দ না। বরং সমস্যার একটি সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করতে হবে। সমস্যাজনিত কাজে মাত্র একটি সমাধানভিত্তিক পদ্ধতি অবলম্বন করলে তা হয়ত পুরো কাজটিকে নতুনভাবে আরও সহজে করতে সাহায্য করবে। ফলে কাজ বা সহকর্মীদের সঙ্গে আপনি যে কোনো সমস্যা একটি ইতিবাচক মনোভাবের সঙ্গে অতিক্রম করতে পারবেন।

সৎ ও আদর্শ থাকুন
সততা ও আদর্শের সাথে কাজের অভ্যাস আপনার বস এবং সহকর্মীদের সঙ্গে একটি সুস্থ সুগঠিত সম্পর্ক তৈরিতে সহায়তা করে। আপনার সিনিয়রদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখুন, তবে তাদের আলোচনার মাঝে বুঝে অংশ গ্রহণ করুন। সবদিক থেকে সৎ এবং আদর্শ থাকার চেষ্টা করুন।

এছাড়া সর্বদা মনে রাখবেন যে, কঠোর পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই। তাই নিজের সেরাটা দিন। সময় মতো অফিসে আসাযাওয়ার চেষ্টা করুন এবং কর্মক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয়ভাবে সোশ্যাল-মিডিয়া ব্যবহার সীমিত করুন। কেননা এসব আপনার বসের নজরে পড়লে তা আপনার জন্যই ক্ষতির কারণ হতে পারে।

- সাদ
ছবিঃ আকিব আবদুল্লাহা