বুধবার,১৫ অগাস্ট ২০১৮
হোম / ফিচার / মুক্তিযোদ্ধা আমিনা বেগমঃ এক "জয়িতার" কথা
০৩/২৫/২০১৮

মুক্তিযোদ্ধা আমিনা বেগমঃ এক "জয়িতার" কথা

-

দেশের জন্য অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি জানাতে সংগ্রামী নারীদের ‘জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ’ শীর্ষক কার্যক্রমের আওতায় নিয়মিতভাবে সম্মাননা দিয়ে চলেছে বাংলাদেশ মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এরই অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০১৮ উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধা আমিনা বেগমকে শ্রেষ্ঠ জয়িতার সম্মাননা প্রদান করা হয়। আর এরই মাধ্যমে সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখা এই নারীর জীবন সবার সামনে এলো যা থেকে যে কেউই দেশপ্রেমের দীক্ষা নিতে পারেন।

১৯৬৯-৭০ সালে সিরাজগঞ্জ মহাবিদ্যালয়ের নির্বাচিত যুগ্ম সম্পাদক ও তৎকালীন ছাত্রলীগের মহিলা সম্পাদক আমিনা বেগম নিজ রাজনৈতিক দর্শন ও দেশের টানে যুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন। একাত্তরের স্বাধীনতা সংগ্রামের দিনগুলোতে ভারতের পাঙ্গা আর্মি ক্যাম্প থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহ করে সিরাজগঞ্জে ৭ নম্বর সেক্টরে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে পৌঁছে দেয়া ছিল তার অন্যতম প্রধান কাজ। এর পাশাপাশি এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রাম ঘুরে ঘুরে বীরাঙ্গনাদের শারীরিক ও মানসিক সেবা প্রদান, প্রসূতি মায়েদের চিকিৎসা সেবার নিশ্চিত করা এবং যুদ্ধশিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যতের ব্যবস্থা করার জন্য একাগ্র চিত্তে কাজ করেন এই মহিয়সী নারী। এ সময় ১৯ জন যুদ্ধশিশুকে হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে বিদেশিদের হাতে তুলে দিয়ে তাদের ভবিষ্যত রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভুমিক পালন করেন আমিনা। যুদ্ধের পরও সমাজ উন্নয়নমূলক কাজে তিনি ছিলেন সমান সক্রিয়। ১৯৯৪ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তৃণমূল পর্যায়ে অসংখ্য মহিলাকে নারী সংগঠনে যোগ দিতে উৎসাহ দেয়ার পাশাপাশি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য টেক্সাস-এর একটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস অনুষ্ঠানে বীরমাতাদের পক্ষ থেকে শক্তিশালি বক্তব্য রেখে সমাদৃত হন এই মুক্তিযোদ্ধা।

বর্তমানে সমন্বিত স্বেচ্ছাসেবী মহিলা উন্নয়ন সংস্থার সভানেত্রী পদে নারীর ক্ষমতায়নের জন্য কাজ করে চলা এই বরেণ্য ব্যক্তিত্ব সামনের দিনগুলোতে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, বীরাঙ্গনাদের আবাসন ব্যবস্থাসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা করেছেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকির উপস্থিতিতে এই মুক্তিযোদ্ধার হাতে পুরষ্কার তুলে দেয়ার মাধ্যমে এই সংগ্রামী জয়িতার অবদানের স্বীকৃতি কিছুটা হলেও দেয়া গেল, পুরো জাতিও এতে সম্মানিত হল।

- শাহরিয়ার মাহী