বুধবার,১৫ অগাস্ট ২০১৮
হোম / ভ্রমণ / ঘুরে আসুন পাহাড় ও সাগরের দেশ ভিয়েতনাম
০৩/১৯/২০১৮

ঘুরে আসুন পাহাড় ও সাগরের দেশ ভিয়েতনাম

-

দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় আছে বিশ্বের বেশ কিছু নামিদামি টুরিস্ট স্পট। ইউরোপ কিংবা আমেরিকার পর্যটকরা ভিড় করে এসব অসাধারণ সুন্দর দ্বীপরাষ্ট্রে। এমনই এক জনপ্রিয় ডেস্টিনেশান ভিয়েতনাম যা ভ্রমণপিপাসুদের মতে বিশ্বের বুকে এক অনন্যসুন্দর দেশ।

ভিয়েতনামের একপাশে কম্বোডিয়া এবং লাওসের সীমান্ত রয়েছে, আর বাকি তিন দিকেই দিগন্তহীন সমুদ্র। ভিয়েতনামে বাংলাদেশের মতো উর্বর ভূমি আছে, যার মূলে আছে অসংখ্য নদনদী। সকল নদী বয়ে চলেছে সমুদ্রের সাথে মিলতে, তার মধ্যেই আছে পাহাড়, পর্বত এবং অসাধারণ কিছু ভ্যালি। পর্যটকরা অনেকেই ভিয়েতনামে যায় ভবঘুরের মতো ঘুরে বেড়াতে এবং প্রকৃতি দেখতে। ভিয়েতনাম তুলনাহীন এবং এই অনন্য সুন্দর দেশটিকে তার অধিবাসীরা ঈশ্বরের দান বলেই মনে করে। বাংলাদেশ থেকেও সরাসরি যাওয়া যাবে ভিয়েতনামে। পরিবার কিংবা বন্ধুবান্ধবের সাথে অবকাশ যাপন করতে ভিয়েতনাম হতে পারে আপনার পরবর্তী ডেস্টিনেশান। কী করবেন, কোথায় যাবেন বলে দিচ্ছি।

তাও দাও
রাজধানী হানই থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত তাও দাও পর্বতমালা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০০০ মিটার উপরে অবস্থিত এই অঞ্চলে টুরিস্টরা যায় অপরূপ সুন্দর প্রকৃতি বরণ করে নিতে। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ফ্রেঞ্চ উপনিবেশ গড়ে উঠে এই অঞ্চলে। বিলাতীরা এখানে নির্মাণ করে ভিলা, হোটেল, রেস্তোরাঁ, খেলার মাঠ, সুইমিং পুল এবং ফ্রেঞ্চ স্টাইলের ড্যান্সিং রুম। ফ্রেঞ্চরা হয়তো এখন অতটা নেই। তবে এই অঞ্চলে ভিয়েতনামি এবং ইউরোপীয় সংস্কৃতির মিশ্রণে তৈরি হয়েছে এক অনন্য স্থান। তা আপনি বুঝতে পারবেন সেখানের খাওয়া খেলেই। অপরূপ প্রকৃতির মাঝে ফ্রেঞ্চ স্টাইল ভিলা এবং কম খরচে লাক্সারির স্বাদ পাওয়ার জন্য তাও দাও অদ্বিতীয় একটি ডেস্টিনেশান। বছরজুড়েই এখানে তাপমাত্রা থাকে নাতিশীতোষ্ণ, তাই পর্যটকের ভিড় লেগেই থাকে।

হালং বে
পৃথিবীর বুকে সবচাইতে সুন্দর বে বা উপসাগর বলা হয় ভিয়েতনামের উত্তরপূর্বে অবস্থিত হালং বে কে। এই উপসাগরের মাঝে আছে প্রায় ২,০০০-এর কাছাকাছি দ্বীপ, যার বেশিভাগই হাজার বছর ধরে তৈরি হয়েছে শ্বেতপাথর কিংবা কোরাল থেকে। সমুদ্রপৃষ্ঠে অসংখ্য কোরাল থাকার ফলে হালং বে পৃথিবীর অন্যতম স্বচ্ছ ও নীলাভ পানির অধিকারী। সৈকতে দাঁড়ালেই একটু দূরে সমুদ্রের মাঝে দেখা যাবে কিছু দানবীয় পাহাড়, যা নীলাভ পানির মাঝে সবুজের আলো ছড়িয়ে দিবে। সূর্যের আলোর কারণে কোন পাহাড় বা দীপই একরূপ ধারণ করে থাকতে পারে না। প্রতি মুহূর্তেই মুখ বদলায় হালং বে, যেন এ কোন এক জলজ্যান্ত বস্তু। বেশ কিছু দ্বীপের মধ্যে বোট নিয়ে যাওয়া যায়। কিছু দ্বীপে আপনি পাবেন কোরালের তৈরি অপার্থিব গুহা। লাল, নীল, সাদা, সবুজ কিংবা নিয়ন, সব রকমের রঙের মেলা দেখতে পারবেন এসব গুহার ভিতর। মাঝে মাছ এবং বিভিন্ন প্রাণীর ছোটাছুটিতো আছেই। হালং বে বর্তমানে ইউনেস্কো দ্বারা স্বীকৃত অনন্য প্রাকৃতিক ঐতিহ্য এবং অন্যতম জনপ্রিয় টুরিস্ট ডেস্টিনেশান।

থিয়েন কাং গ্রোতো
ভিয়েতনামি ভাষায় গ্রোতো মানে গুহা। হালং বে থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে ঘন বনের মাঝে দিয়ে পায়ে হেঁটে আপনি যেতে পারবেন থিয়েন কাং গুহায়। প্রকৃতি কীভাবে তার চিত্রকর্ম তৈরি করে তা দেখতে পারবেন এই গুহায়। ভেতরের সব দেয়াল শ্বেতপাথরের রঙের। তবে নোনা পানির সাথে মিশ্রণে এই পাহাড়ের গায়ে যেন কোরালের কলোনি তৈরি হয়েছে। আলোর খেলায় মাঝেমধ্যে মনে হয় যেন গুহাতে কোরাল নয়, বরং বরফ রয়েছে। গুহার মাঝ দিয়ে পুরো পথ পাড়ি দিবেন আর মনে করবেন যেন পৃথিবী ছেড়ে অন্য কোথাও চলে গিয়েছেন। থিয়েন কাং বাদেও ভিয়েতনামে আরও অনেক গুহা রয়েছে এবং প্রত্যেকটাই অনন্য।

যেভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে রাজধানী হা নইতে সরাসরি ফ্লাইট নেই তবে মালয়শিয়ায় ট্রানজিট ফ্লাইট আছে। আসা-যাওয়া মিলিয়ে খরচ পড়বে প্রায় ২০-২২ হাজার টাকা। উপরোক্ত স্থান বাদেও ভিয়েতনামে অনেক ঘোরার জায়গা আছে। সব একসাথে ঘুরে দেখা সম্ভব নয়, তবে ট্যুর গাইডের সাথে গেলে সব গুরুত্বপূর্ণ স্থান দেখা যাবে।

টিপস

- মশার উৎপাত ভিয়েতনামে বেশ প্রকট, তাই সেইভাবে প্রস্তুতি নেওয়া ভালো। অ্যান্টি-মস্কুইটো স্প্রে নিয়ে যেতে পারেন।

- খাওয়াদাওয়া বেশ সস্তা এবং ভালো। সি ফুড অন্যতম এবং সহজলভ্য।

- সাত দিনের প্ল্যান করে নিলে বেশ কয়েকটা স্থান দেখে আসা যাবে।

- ইন্টারনেটে প্রাইস দেখে হোটেল বাছাই করুন এবং গাড়ি ভাড়াও দেখে নিন। ভিয়েতনামে পাঁচতারকা থেকে শুরু করে সব ধরনের হোটেল আছে।

- কাজী মাহদী আমিন