শনিবার,২০ অক্টোবর ২০১৮
হোম / জীবনযাপন / বিয়ের প্রথম বছরে যেসব সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন
০৩/০৮/২০১৮

বিয়ের প্রথম বছরে যেসব সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন

-

জীবনকে রেস ট্র্যাকের সাথে তুলনা করলে পড়াশোনা ও চাকরির পর বিয়ে সেরে ফেলাটাই আমাদের ক্ষেত্রে ফিনিশিং লাইন হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। তবে একটা গ্র্যান্ড ওয়েডিংই অনাবিল আনন্দ এনে দিবে এমন ভাবাটা ঠিক নয়। বরং বিয়ের প্রথম বছরে দাম্পত্য জীবনে আপনি নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন।

আর্থিক বিষয়াদি
নতুন সংসারে প্রয়োজন আর্থিক পরিকল্পনার। এমনটা হতে পারে যে, বিয়ের পর লক্ষ্য করলেন আপনার সঙ্গী বেহিসাবি। বাসাভাড়া, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি থেকে নিজস্ব ছোটোখাটো শখ-আহ্লাদের পেছনে খরচ মেটানো- এসব নিয়ে নিজেদের মধ্যে ঝগড়া সৃষ্টি হতে দেখা যায়। স্বামী-স্ত্রী দুজনই চাকরিজীবী হলে খরচে অনেকটা ব্যালেন্স আসে। তবে অপ্রয়োজনীয় উটকো খরচ আপনাদের সম্পর্কে তিক্ততার সৃষ্টি করতে পারে। তাই আর্থিক বিষয়গুলো নিয়ে আগে থেকেই কথা বলে নিন।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা
শরীর ও মনের সুস্থতায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার গুরুত্ব কতটা তা আমাদের সকলেরই জানা। স্বভাবতই আপনি আশা করতে পারেন যে, আপনার জীবন সঙ্গী আপনার মতোই স্বাস্থ্যসচেতন হবেন। কিন্তু বাস্তবে দেখলেন, সে আপনার একেবারে বিপরীত। নিয়মিত গোসল না-করা, একই জামা-কাপড় দিনের পর দিন ব্যবহার করা, আপনার অনুপস্থিতিতে বাড়ি অগোছালো করে রাখা। এরকম আরো অনেক উদাহরণ রয়েছে যেগুলো আপনাদের নতুন সংসারে ঝগড়ার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই সম্পর্কের শুরুতেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কিছু নিয়ম-কানুন ঠিক করে নিন, যা দুজনেই মেনে চলবেন।

সম্পর্কের রোমান্স কখনো হারিয়ে যায়
একসাথে ঘুরতে যাওয়া, রোমান্টিক ডেট, সঙ্গীর সাথে মজার সব নতুন এক্সপেরিয়েন্স শেয়ার করা এগুলো সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার হাতিয়ার। চিরন্তন ভালোবাসার স্বপ্ন দেখানো এই মুহূর্তগুলোকে পূর্ণতা দেয় বিয়ে। তবে বিয়ের পর সম্পর্কের বিশেষ সেই রোমাঞ্চ অনেক সময় হারিয়ে যেতে দেখা যায়। এতদিন যার সাথে একটি মুহূর্ত ভাগাভাগি করে নিতে কোনো কিছুরই তোয়াক্কা করতেন না, এখন একই ছাদের নিচে সেই এক্সাইটমেন্টটি হয়ত সেভাবে কাজ করে না। এর সহজ সমাধান হলো নিজেদের মধ্যকার প্রেমের সম্পর্কটাকে হারিয়ে যেতে না-দেয়া। সঙ্গীকে নিত্যনতুনভাবে সারপ্রাইজ করুন, তার কাছ থেকে একই আচরণ আশা করছেন তা বুঝিয়ে বলুন।

জীবনযাপনের পার্থক্য
প্রত্যেক মানুষ নিজস্ব বলয়ের মধ্যে থেকে জীবনযাপন করে এবং এর কারণে ধরনও আলাদা হয়। বৈবাহিক জীবনে পা রেখে বিভিন্ন চিন্তাভাবনার পাশাপাশি এই খেয়ালটিও উঁকি দেয় যে, সঙ্গীর সাথে আপনার প্রতিদিনের বিভিন্ন অভ্যাসে মিল বা অমিল থাকবে কতটুকু। আপনার বেশি রাত না করে ঘুমানো ও সকাল সকাল ওঠার প্ল্যানটি মাটি করতে পারে আপনার পার্টনারের গভীর রাত পর্যন্ত টিভি, ল্যাপটপ বা স্মার্টফোনে মশগুল থাকা। আবার আপনি কিছুটা স্বাস্থ্যসচেতন হলে আপনার পছন্দের ফাস্ট ফুডের দিকে ঝোঁকটি আপনার গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াতে বেশি সময় নিবে না। বিয়ের প্রথম কিছু মাসেই জীবনধারার এই সংঘর্ষ আসন্নই বটে এবং অন্যান্য ব্যাপারগুলোর মতো এখানেও পারস্পরিক সমাঝোতার দরকার রয়েছে।

শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সাথে সম্পর্ক
বিয়ের পর শ্বশুর বাড়ির সদস্যদের সাথে মানিয়ে নেওয়া স্ত্রীর পক্ষে সবসময় সহজ নয়। স্বামীর এই ব্যাপারে খুব একটা সমস্যা হয় না, আর ভাগ্যে জামাই-আদর থাকলে তো কথাই নেই। বিবাহিত জীবনে প্রথম সফল পদক্ষেপ শাশুড়ির মন জয়। তবে এটি অনেকটা অগ্নিপরীক্ষার মতোই বলা যায়। আর শাশুড়ি পুরোনো ধাঁচের মানুষ হলে নববধূর সংসারে আপন হওয়ার পরীক্ষা আরো কঠিন হয়ে দাঁড়ায় বৈকি!

বিয়ের পর প্রেম
প্ল্যান করে আপনি কখনোই প্রেমে পড়বেন না। বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হলেই যে একজন তার সঙ্গী ও তার কাছের সবাইকেই আপন করে নিতে পারবে তা নয়। পারিবারিকভাবে পছন্দের বিয়ে নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা খুব কমই হয়। ভালোলাগা বা ভালোবাসা- দুটোতেই সময় লাগে। দুঃখজনক হলেও সত্যি, এটি নিয়েও দাম্পত্য জীবনে টানাপড়েন হতে পারে।

বন্ধুত্ব বজায় রাখা
বিয়ের পর জীবনসঙ্গীর সাথে জীবন গুছিয়ে নিতে কিছু সময় লেগে যায়, যা অত্যন্ত স্বাভাবিক। ওদিকে বন্ধুরা আপনার জীবনের সচল এক অংশ হলে, তাদের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ বা আড্ডাবাজি একটু- আধটু থাকবেই। সমস্যা দাঁড়ায় তখনই যখন আপনি যেকোনো একদিকে বেশি সময় দিলে, অন্যদিক থেকে বিপদ সংকেতের আভাস পান। তখন আপনার অবস্থা তুলনা করা যেতে পারে দাম্পত্য ও বন্ধুত্বের মাঝে বরফজলের মতো। এই বিষয় নিয়েও দুজনের মধ্যে মনোমালিন্য জায়গা করে নেয় ও বিভিন্ন সমস্যার জন্ম দিতে পারে।

- আবীর