বুধবার,১৫ অগাস্ট ২০১৮
হোম / জীবনযাপন / ছেলেদেরকে শেখান...
০৩/০৮/২০১৮

ছেলেদেরকে শেখান...

-

জন্মের পর থেকেই আমরা ছেলেমেয়ে অনুযায়ী তাদের পোশাকআশাক থেকে শুরু করে কথাবার্তা এবং চিন্তাভাবনা পর্যন্ত আলাদা করে দেই। কে কীভাবে হাঁটবে তাও আমরা ঠিক করে দেই। কিন্তু নানারকম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে যেগুলো মেয়েদের পাশাপাশি ছেলেদেরও জানা ও শেখা থাকা দরকার।

নারীর প্রতি সম্মান
পৃথিবীর প্রত্যেক পুরুষ যদি প্রত্যেক নারীদের প্রতি সম্মান দেখাতো, তাহলে আমাদের এই পৃথিবী অবশ্যই আরও বেশি সুন্দর ও বাসযোগ্য হয়ে উঠত। এই সম্মান কেবল তার মা বা বোনের প্রতি নয় বরং আরো একটু বর্ধিত হওয়া উচিত আমাদের চারপাশের প্রতিটি নারীর প্রতি।

শিষ্টাচার জ্ঞান
পরিবারে মেয়েদের ছোট থেকেই শেখানো হয় কীভাবে বসতে হয়, কীভাবে কথা বলতে হয়, কী পোশাক পরতে হয় এমনকি কীভাবে হাসতে হয় তাও। কিন্তু ছেলে সন্তানকেও যে সঠিক শিষ্টাচার শেখানো খুব দরকার তা আমরা প্রায় সময়ই মনে করি না। ছেলেরা যে ধ্যান-ধারণা নিয়ে বড় হয় তাতে ভুল থাকলে বাবা-মার উচিত তা ধরিয়ে দেওয়া।

কান্নায় কোনো দোষ নেই
‘মেয়েদের মতো কেঁদো না তো’- এরকম কথায় আমরা প্রায় অভ্যস্ত। ছোট থেকে এমন কথা শুনে ছেলেরাও এমন ধারণা নিয়ে বড় হয় যে, পুরুষ মানুষের কাঁদতে নেই। কিন্তু আবেগ-অনুভূতি সবারই আছে। তাই কান্নার মাঝে যে কোনো কাপুরুষতা নেই তা ছেলেদের শেখানো খুব প্রয়োজন।

ছেলেরাও যৌননিপীড়নের শিকার হয়
যৌন নিপীড়ন এর ব্যাপারে অভিভাবকেরা সাধারানত বিশেষ সচেতন থাকেন; তবে তা শুধু মেয়ে সন্তানের ক্ষেত্রে। মেয়ের প্রতি কে কেমন দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে, কার কথার কেমন মানে হতে পারে বা কার সঙ্গ ভালো বা খারাপ হতে পারে তা শেখানোর একটা ব্যাপার থাকে। পরিবারের ছেলে সদস্যরাও যে সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্টের শিকার হতে পারে এটা অনেক বাবা-মা-ই মাথায় রাখেন না। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে একইরকম ঘটনা একজন ছেলে বা পুরুষের ক্ষেত্রেও হতে পারে। তাই মেয়ে সন্তানের মতো ছেলে সন্তানকেও যৌন নিপীড়নের ব্যাপারে ধারনা দিতে হবে এবং তার চেয়েও গুরুত্বপুর্ণ হলো এধরনের যেকোন সমস্যায় তারা যেন অভিভাবক কে জানানোর সাহস পায় সে ব্যাপারে ছোটবেলা থেকেই তাদেরকে শেখাতে হবে। বাবা-মা-র সাথে মন খুলে কথা বলতে পারাটা এক্ষেত্রে অনেক গুরুত্বপূর্ন।

অনুমতি-দায়বদ্ধতা সবার জন্য প্রযোজ্য
আমরা আশা করি, মেয়েরা যে-কোনো কাজে পরিবারে বড়দের অনুমতি নিবে। কোথাও যাওয়ার জন্য, বাসায় একটু দেরিতে ফেরার জন্য বা বন্ধুদের সাথে কোথাও যাওয়ার জন্য মেয়েরা অভিভাবকের অনুমতি নিবে, এটা অবধারিত ভাবা হয়ে থাকে। একই রকম নিয়মকানুন খাটতে পারে ছেলেদের ক্ষেত্রেও। এবং সেটাই সঠিক বটে। ছেলেদেরও এই শিক্ষাটা থাকা জরুরি যে, তারা দায়বদ্ধতার উর্ধ্বে নয়।

ঘরদোর গোছানো
ঘরের কাজ কোনো জটিল দক্ষতার ব্যাপার নয় যে, তা কেবল মেয়েরাই পারে বা শুধু মেয়েদেরই করা উচিত। বরঞ্চ ছেলেদেরও শেখা উচিত ঘরদোর গোছানোর খুঁটিনাটি। ঝাড়ু হাতে নিজের ঘরটা পরিষ্কার করে ফেললে তাতে লজ্জার কিছু নেই। এতে পরিবারের নারীদের উপর যেমন চাপ কমবে তেমনি পারস্পরিক সহযোগিতার একটি সুন্দর পরিবেশ তৈরি হবে।

রান্নায় হাতেখড়ি
খাবার আমাদের মৌলিক চাহিদার অংশ। আমরা সবাই ক্ষুধার্ত হই, সবাইকেই খেতে হয়। তাহলে রান্না করার বেলায় পক্ষপাত কেন? ভালো রান্না করতে পারা একটি বিশেষ গুণ। মায়েদের উচিত কিশোর বয়স থেকেই বাড়ির ছেলেরা যেন রান্নাঘরের কাজে হাত লাগায় সেদিকে লক্ষ্য রাখা। তাতে করে রান্না শিল্পে ছেলের নিপুণ হাত তৈরি হবে, প্রয়োজনের সময় মিলবে কাজ চালিয়ে নেওয়ার সুবিধা। মনে রাখবেন, দুনিয়াজোড়া স্বনামধন্য শেফদের অধিকাংশই কিন্তু পুরুষ।

নিজের পরিচর্যা করা
আমরা দেখে অভ্যস্ত মেয়েরা নিজেদের মুখশ্রী ও পোশাক-আশাকের ব্যাপারে সাধারণত বেশ যত্নশীল। ছেলেরাও ভেবে অভ্যস্ত এসব সাজগোজ বা পোশাকের ব্যাপারগুলো কেবল মেয়েদের জন্য। কিন্তু এক সময় যখন উপলব্ধি করে এসবের প্রয়োজনীয়তা তখন শুরু করার জন্য অনেক দেরি হয়ে যায় বা নতুন একটা অভ্যাস তৈরি করার ক্ষেত্রে দেখা দেয় অস্বস্তি ও আনাড়িপনা।

- রিয়াদুন্নবী শেখ