সোমবার,২৩ Jul ২০১৮
হোম / জীবনযাপন / প্রফেশনাল জীবন ও কঠিন বাস্তবতার দিকগুলো
০৩/০৭/২০১৮

প্রফেশনাল জীবন ও কঠিন বাস্তবতার দিকগুলো

-

কিছু কিছু মানুষের পেশাগত জীবন শুরু করার ইচ্ছা, ক্ষেত্রবিশেষে প্রয়োজনীয়তা, এতটাই প্রবল থাকে যে কোনো চাকরির অফার পাওয়ার সাথে সাথে তারা সেটির ভালো-খারাপ দিকগুলো বিবেচনা না করেই তা লুফে নেন। আমরা সাধারণভাবেই একটি আদর্শ কর্মক্ষেত্র কল্পনা করে থাকি যেখানে কাজ করে আমরা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করব, পাশাপাশি সহকর্মীরাও আমাদের অনুকূলে হবে। প্রকৃতপক্ষে, নানারকম প্রত্যাশা নিয়ে আমরা চাকরি জীবন শুরু করি। কিন্তু খুব দ্রুতই উপলব্ধি করতে পারি যে কর্মক্ষেত্র আমাদের সহজ সরল প্রত্যাশাগুলোর মতো নয়। দক্ষতার সাথে পরিচালনা করতে না পারলে এটি আমাদের জীবনে অনেক খারপ স্মৃতি রেখে যেতে পারে।

কর্মদক্ষতা বিবাদের কারণ হতে পারে
অফিসের যে কোনো কাজে আপনার ভালো পারফর্মেন্স আপনার সহকর্মীদের মনে আপনার ব্যাপারে হিংসার সূত্রপাত করতে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যেতে পারে আপনি আপনার সহকর্মীদের কাছ থেকে সৌজন্যহীন আচরণের শিকার হচ্ছেন। বসের নজরে ভালো হওয়ার জন্য যদি সময়ের আগে আপনার কাজ শেষ করে ফেলেন তবে হতে পারে আপনার ওপর অতিরিক্ত কাজ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আবার আপনি যদি কাজে ঢিলে দেন তবে আপনার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আপনাকে সে ব্যাপারে নানা কথা শোনাচ্ছে। তাই অফিসে কাজ করার ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রেখে চলাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

কোম্পানীর লাভ সবার আগে
খারাপ শোনালেও এটিই সত্য, যে কাজে কোম্পানির লাভ হবে সেটিই আগে বিবেচনায় আনা হয়। যে কোনো কর্মক্ষেত্র আপনার কাছ থেকে এটিই আশা করবে যে আপনি আপনার কর্মক্ষেত্রের জন্য সুফল বয়ে নিয়ে আসবেন। এক্ষেত্রে আপনার নিজস্ব চাহিদা কিংবা লাভক্ষতি কর্মক্ষেত্র তার বিবেচনায় আনবে না এটিই স্বাভাবিক। কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত পরিশ্রম আপনার জন্য প্রশংসা বয়ে না আনলেও কাজে সামান্যতম গাফিলটির দায়ভার আপনাকেই বহন করতে হবে। তাই মানসিকভাবে যে কোনো পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

অর্থই সবকিছুর মূল
বছরের পর বছর কাজ করার পর হয়ত এক সময় আপনি উপলব্ধি করতে পারবেন যে শুধুমাত্র অর্থের জন্যই আপনি এতো পরিশ্রম করেছেন। অনেকেই নিজের দক্ষতার দিকগুলো বিবেচনায় না এনে শুধুমাত্র অর্থ উপার্জনের আশায় চাকরিতে যোগ দিয়ে থাকেন। অর্থের প্রয়োজন না থাকলে খুব কম মানুষই চাকরিতে যোগদানে আগ্রহ প্রকাশ করতেন।

কর্মক্ষেত্রে পলিটিক্স বিদ্যমান
আপনি যতই পালিয়ে থাকতে বা উপেক্ষা করতে চেষ্টা করেন না কেন কর্মক্ষেত্রের সব পর্যায়েই আপনি পলিটিক্সের সম্মুখীন হবেন। অনেকক্ষেত্রে আপনার সহকর্মীরাই আপনার ইমেজ নষ্ট করার কিংবা আপনাকে সবার চোখে টেনে নিচে নামানোর চেষ্টা করবে। এসব ক্ষেত্রে আপনাকে সবার সাথে আন্তরিকতা বজায় রেখে চলার চেষ্টা করতে হবে এবং নিজ অবস্থানে দৃঢ়তার সাথে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। এমন অনেক পরিস্থিতি আসতে পারে যেখানে আপনার করা কাজের জন্য অন্য কেউ প্রোমোশন পাচ্ছেন কিংবা প্রশংসার পাত্র হচ্ছেন। তাই বলে মন খারাপ করে চাকরি ছেড়ে দেওয়া চলবে না।

জীবন যেন শুধুমাত্র ছুটির দিনে
কাজে যদি আনন্দ না পান তবে মনে হতে পারে শুধু ছুটির দিনেই জীবন উপভোগ করতে পারছেন আপনি। অধীর আগ্রহে সপ্তাহের ছুটির দিনগুলোর জন্য অপেক্ষা করার পাশাপাশি আপনি এই দিনগুলোতে কি কি করবেন তারও একটি তালিকা তৈরি করে ফেলতে পারেন। সাপ্তাহিক ছুটির পর অফিস যাওয়া আপনার কাছে আত্মকের মতো মনে হতে পারে। খুব জলদিই আপনার উপলব্ধি হবে, একমাত্র ছুটির দিনেই আপনি স্ট্রেস ফ্রি ও আনন্দের সাথে সময় কাটাতে পারছেন।

- রুবায়েত মহিউদ্দিন