বুধবার,১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮
হোম / বিজ্ঞান-প্রযুক্তি / সোশ্যাল মিডিয়ায় আনসোশ্যাল কর্মকান্ড
০২/২২/২০১৮

সোশ্যাল মিডিয়ায় আনসোশ্যাল কর্মকান্ড

-

সময়ের সাথে সাথে পালাবদল এসেছে আমাদের জীবনে। ইন্টারনেটের ছোঁয়া লেগেছে ঘরে ঘরে, সোশ্যাল মিডিয়া সাইটগুলোতে মানুষের উপস্থিতি বেড়ে চলেছে দিন দিন। ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে হাতের মুঠোয় চলে এসেছে পুরো বিশ্ব, বিভিন্ন ব্যাপার নিয়ে স্বাধীন মত প্রকাশের সুযোগও তৈরি হয়েছে। তবে একে মত প্রকাশের স্বাধীনতা না স্বেচ্ছাচারিতা বলা উচিত তা নিয়ে রোজই প্রশ্ন উঠছে। ইন্টারনেটে সোশ্যাল সাইটে নিজের ইচ্ছেমতো কমেন্টস করার অধিকার যেমন মাঝে মাঝেই শালীনতার সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে, তেমনি অন্যের ব্যক্তিগত জীবন হয়ে পড়ছে মলাটহীন খাতার মতো, যার যা ইচ্ছে তা যেন লিখে দেয়া যায় কমেন্টস সেকশনে।

ভার্চুয়াল জগতে অশালীন ব্যবহার ও বর্তমান প্রেক্ষাপট
সোশ্যাল মিডিয়ায় ইচ্ছেমতো কমেন্টস করার স্বাধীনতা মাঝে মাঝে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে তার উদাহরণ হাজার হাজার রয়েছে। একেবারে চাক্ষুষ প্রমাণ খুঁজে পেতে বেশিদূর যেতে হবে না। সম্প্রতি অনেকদিনের সম্পর্ককে পরিণতি দিতে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন বাংলাদেশের এক নামকরা ক্রিকেটার। স্বভাবতই সোশ্যাল মিডিয়া জগতে খবরটার কাটতি ছিল বেশ। তবে লোকজনের এই অতি আগ্রহ ইতিবাচকতার সীমা ছাড়িয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ, বর্ণবাদী মন্তব্য এমনকি অশালীন ভাষা ব্যবহারের মাধ্যম হতে সময় নেয়নি। ফলাফলস্বরূপ দেশ পেরিয়ে পার্শ্ববর্তী ভারতের উল্লেখযোগ্য সংবাদমাধ্যমেও বাংলাদেশের তথাকথিত ক্রিকেট ফ্যানদের এসব আচরণ নিয়ে ফলাও করে নিউজ হয়েছে। তাই বলার অপেক্ষা রাখে না সোশ্যাল মিডিয়ায় স্বাধীনভাবে বিচরণের এই ক্ষেত্রটি আরেকজনের ব্যক্তি স্বাধীনতায় আঘাত হানছে বারবার। কারো কারো ক্ষেত্রে ফেসবুক, টুইটার কিংবা নানা ইন্টারনেটভিত্তিক মাধ্যমে বাজে কমেন্টস করা এক মানসিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। একে অপরের কাছে আসার লক্ষ্য নিয়ে বানানো সোশ্যাল সাইটগুলো উল্টো ঘৃণা প্রকাশের মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সমস্যা দিনে দিনে এত প্রকট হয়ে যাচ্ছে যে ভার্চুয়াল জগতের গন্ডি পেরিয়ে তা ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আর এর ফলে সৃষ্ট সমস্যা যে শুধুমাত্র একজন সেলিব্রেটিই ফেস করছে, তা কিন্তু নয়। স্ট্যাটাস-কমেন্টের জের ধরে ব্যক্তিগত পর্যায়ে দ্বন্দ্বে জড়াচ্ছেন অনেকেই, যা স্বাভাবিকভাবে কখনোই কাম্য নয়।

সমাধানে করণীয়
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উস্কানিমূলক ও মানহানিকর মন্তব্য বন্ধ করার জন্য আইন রয়েছে। তবে ব্যক্তিগত পর্যায়ে দুজন সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে এ ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হলে তা আইনগতভাবে সমাধান অনেকটাই অসম্ভব। তবে যেটা করা যেতে পারে তা হলো সচেতনতা বৃদ্ধি ও আচরণগত পরিবর্তন। এক্ষেত্রে নিম্নোক্ত টিপসগুলো কাজে আসতে পারে।

ফেসবুক, টুইটার কিংবা অন্যান্য সোশ্যাল সাইটগুলো কিন্তু আপনার এক ধরনের আইডি কার্ডের মতোই। তাই অযাচিতভাবে অন্যকারো ব্যাপারে বাজে কমেন্টস করার প্রবণতা নির্দিষ্ট সংখ্যক মানুষের কাছে আপনাকে নিতান্তই বাজেভাবে উপস্থাপন করবে। আর তা যদি অভ্যাসে পরিণত হয় তবে একটা সময় নিকট বন্ধুর ফ্রেন্ডলিস্ট বা ফলোলিস্ট থেকেও আপনি হারিয়ে যাবেন।

এভাবে বাজে কমেন্টস বা উস্কানিমূলক কথাবার্তা বলা আইনত অপরাধ। ২০১৩ সালে সংশোধিত আইসিটি আইনে ৫৭ ধারা যুক্ত করে ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ-ধরনের আচরণ বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তাই অন্যকে হেয় করতে গিয়ে একসময় নিজেই বিপদে পড়বেন।

সোশ্যাল সাইটগুলোতে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করার প্রবণতা কমিয়ে দিন। এরফলে এ-ধরনের কাজে আপনার সংশ্লিষ্টতা থাকবে না।

ভার্চুয়াল জগতে হেট ক্রাইমের শিকার হওয়া থেকে বাঁচতে সচেষ্ট হোন। অযথা বিতর্কিত মন্তব্যে জড়াবেন না। নিজের ফ্রেন্ডলিস্ট ও ফলোয়ারদের সম্পর্কেও জানুন।

এ-ধরনের বিতর্কের জন্ম দিতে পারে গ্রুপ, ব্যক্তি বা মহল থেকে দূরে থাকুন। নিজের পরিচিতজন ও পছন্দের মানুষদের নিয়েই হোক আপনার ভার্চুয়াল লাইফ।

আপনি ব্যক্তিগতভাবে যদি এ-ধরনের আচরণের শিকার হোন তবে আইনগত ব্যবস্থা নিন, সংশ্লিষ্ট এলাকার আইন-শৃংখলা বাহিনীর সাহায্য নিন।

- নাসিফ রাফসান