সোমবার,২৩ Jul ২০১৮
হোম / জীবনযাপন / ফাল্গুন-ভ্যালেন্টাইন কাটুক প্রিয়জনের হাত ধরে
০২/১২/২০১৮

ফাল্গুন-ভ্যালেন্টাইন কাটুক প্রিয়জনের হাত ধরে

-

পহেলা ফাল্গুন ঋতুরাজ বসন্তকে পরম আদরে স্বাগত জানায়। আর বসন্তের নতুনত্বে মধুর ভাবটি সাথে করেই নিয়ে আসে ভ্যালেন্টাইন বা ভালোবাসা দিবস। নতুন ঋতুর শুরুতে ভালোবাসার রঙটি গায়ে মেখে নিতে তাই প্রেমিক-প্রেমিকারাই মুখিয়ে থাকে সবচেয়ে বেশি। সেই সব কাপলদের জন্য থাকছে কিছু অ্যাক্টিভিটিস ও সেইসাথে ঢাকার ভেতরে ও আশেপাশে এমন কিছু জায়গার কথা যেখানে কিছু সুন্দর সময় কাটিয়ে আসতে পারেন পছন্দের মানুষটিকে সাথে করে।

মুভি দেখা
পহেলা ফাল্গুন অথবা ভ্যালেন্টাইন'স ডে-তে নগরীর উপচেপড়া ভিড়ে ঘুরতে যাওয়া যুক্তিহীন মনে হলে প্ল্যান করতে পারেন প্রিয়জনের সঙ্গে মুভি দেখতে যাওয়ার। আর সেটি যদি কোনো রোম্যান্টিক মুভি হয় তাহলে তো বিশেষ দিনটি যেন আরো বিশেষ হয়ে যায়। স্টার সিনেপ্লেক্স, ব্লকবাস্টার মুভিজ, শ্যামলী হল ও বলাকা সিনেওয়ার্ল্ডের মতো জায়গার কথা মাথায় রেখে সাজিয়ে নিতে পারেন বিশেষ মানুষটির সাথে সারাদিনের আয়োজন।

তিনশ ফিট
৩০০ ফিট অল্প দিনেই হয়ে উঠেছিল নগরীর হাজার হাজার মানুষের মিলনের প্রাণকেন্দ্র, তবে অবৈধ স্থাপনা হিসেবে রাজউক কর্তৃক উঠিয়ে দেয়া হয় এই জমজমাট স্থানটির হৃৎপিন্ড - এখানকার রেস্তোরাঁগুলো। তবে রেস্টুরেন্টগুলোর কথা বাদ দিলেও এখনো ৩০০ ফিট ঘুরতে যাওয়ার জন্য উৎকৃষ্ট একটি জায়গা। প্রতিদিনের ঝামেলা, জ্যাম ও শোরগোল ত্রিভুজ থেকে বেরিয়ে কিছুটা স্বস্তির সন্ধান পাওয়ার মতোই একটি স্থান ঢাকার পূর্বাচল-বসুন্ধরা সংলগ্ন সড়কটি। খোলামেলা রাস্তার পাশ ধরে কাছের মানুষটির হাতে হাত রেখে হাঁটতে হাঁটতে অনেক না-বলা কথা অনায়াসে বলে ফেলার সাহস জোগাবে এখানকার মুক্ত পরিবেশ। বর্তমানে অস্থায়ী কিছু খাবারের দোকানের দেখা পেতে পারেন, সেগুলোতে চাইলে ক্ষুধা নিবারণ করতে পারেন। দিনশেষে প্রশস্ত রাস্তাটির কিনারা ধরে ফিরে চলার পথে প্রিয়জনের সঙ্গে কোনো মজার আলাপে মেতে উঠলে খোলা হাওয়া দুজনের মনে বিশেষ অনুভূতি জাগিয়ে তুলবে এ নিয়ে শতভাগ নিশ্চিত থাকতে পারেন।

বুড়িগঙ্গা
আজকাল বুড়িগঙ্গার বিষাক্ত ও দুর্গন্ধময় রূপটি নেই বললেই চলে। অধিকাংশ ট্যানারি স্থানান্তরের ফলে বুড়িগঙ্গার পানি এখন আর কালো বা নোংরা দূষিত নয়, প্রকৃত সৌন্দর্য ও স্বরূপে ফিরতে শুরু করেছে। তাই প্রিয়জনকে সঙ্গে করে চলে যেতে পারেন রাজধানীর ঐতিহ্যের আঙ্গিনা এই স্রোতস্বিনী গঙ্গা বুড়ির কাছে। টিকেট কেটে বিশাল বিশাল লঞ্চের ছাদে উপভোগ করতে পারেন পড়ন্ত বিকেলের সূর্য ও নদীর টলমলে জলের চমৎকার দৃশ্য। রাজধানীর যেকোনো জায়গা থেকে সরাসরি চলে যেতে পারেন সদরঘাট বা বুড়িগঙ্গার তীরে। এপার-ওপার নৌকা ভ্রমণের জন্য সদরঘাট, কালিগঞ্জ, শ্যামবাজারের মতো আরও কিছু খেয়া পারাপারের ঘাট আছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
সাভারে বাংলাদেশের ‘সাংস্কৃতিক রাজধানী’ খ্যাতি নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে দেখার জন্য শীতকাল ছাড়া অন্য কোনো আদর্শ সময় হতেই পারে না। অমর একুশে ভাস্কর্য, সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চ ছাড়াও বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু শহীদ মিনার (প্রায় ৭১ ফিট) এই ক্যাম্পাসের-ই গর্ব। বিভিন্ন প্রজাতির গাছগাছালি, ৯-১০টি লেক ও হরেকরকম বিলুপ্ত প্রায় পাখির সাথে অতিথি পাখির দেখাও মিলবে এখানে খুব সহজেই। দেশের প্রথম প্রজাপতি পার্ক ও গবেষণা কেন্দ্র-ও জাবির এক চোখধাঁধানো আশ্চর্য। ঘোরাঘুরি করতে করতে ক্ষুধার বায়না মেটাতে চলে যেতে পারেন ক্যাম্পাসখ্যাত বটতলায়, ট্রান্সপোর্ট অথবা টারজানে। গুলিস্তান, মতিঝিল, ফার্মগেট, গুলশান, মহাখালী, কল্যাণপুর কিংবা গাবতলী থেকে নবীনগর, মানিকগঞ্জগামী যে-কোনো বাসে চড়ে সহজেই নেমে যেতে পারবেন ক্যাম্পাসের সামনে। ক্যাম্পাস ঘুরে দেখার জন্য সর্বোত্তম হবে রিকশায় ভ্রমণ।

মানিকগঞ্জের সরিষা ক্ষেত
সরিষা ক্ষেতের কথা বললে শাহরুখ-কাজলের “তুঝে দেখা তো ইয়ে জানা সানাম” চোখে ভেসে উঠছে? ঢাকার একেবারে পাশেই মানিকগঞ্জের ঝিটকা অঞ্চলে মাঠজুড়ে আছে সেরকমই সরিষার ক্ষেত। ডিসেম্বর-জানুয়ারির যেকোনো সকাল বা বিকেলে উপস্থিত হলে সরিষা ক্ষেতের সর্বোচ্চ সৌন্দর্যলাভ করতে পারবেন। আর খুব সকালে পৌছাতে পারলে টাটকা খেজুর রসের স্বাদ আপনার পিছু ছাড়বে না বহুদিন। ঢাকা থেকে বাসে প্রথমে মানিকগঞ্জ ও সেখান থেকে লোকাল বাসে করে ঝিটকা পৌছাতে পারবেন। এছাড়া গাড়ি বা মাইক্রোবাস নিয়ে ঢাকা-আরিচা সড়কে মানিকগঞ্জ অতিক্রম করে তরা সেতু পেরিয়ে কিছুদূর সামনে গেলে বাঁ দিকের সড়কটি চলে গেছে ঝিটকায়।

হাতিরঝিল
যান্ত্রিক ঢাকা শহরের ব্যস্ততার ভিড়ে হাতিরঝিল যেন এক প্রশান্তির প্রদীপ হয়ে প্রকট হয়েছে। মনোরম এক বিনোদনের মাধ্যমে পরিণত হওয়া এই ঝিলে দিনে কিংবা রাতে ঘুরে আসতে পারেন ভালোবাসার মানুষটিকে সঙ্গে করে। সন্ধ্যার পর হাতিরঝিলের উজ্জ্বল রংবেরঙ ফোয়ারা দেখে তাক লাগাবে সেটা নিশ্চিত। ওয়াটার ট্যাক্সিতে চড়ে লেকটি ঘুরে দেখার সাথে মিষ্টি কিছু প্রেমালাপ থাকলে সেটাও সেরে ফেলতে পারেন, সময়টা আরো উপভোগ্য হবে। রাজধানীর যে কোনো প্রান্ত থেকে বাস, সিএনজি করে হাতিরঝিল আসা যায়।

- আবীর