বৃহস্পতিবার,১৮ জানুয়ারী ২০১৮
হোম / জীবনযাপন / সঙ্গী অত্যাচারী, কিন্তু সম্পর্ক ভাঙ্গতে ভয়
১২/১৯/২০১৭

সঙ্গী অত্যাচারী, কিন্তু সম্পর্ক ভাঙ্গতে ভয়

-

প্রশ্নঃ
আমার বয়স ২২ এবং আমি গত ৬ বছর ধরে একজনের সাথে সম্পর্কে আবদ্ধ। চাকরি করি বিধায় আমাদের আলাদা জায়গায় থাকতে হয়। আমার সঙ্গী ৩১ বছর বয়সি একজন ব্যবসায়ী এবং খুব একরোখা প্রকৃতির। সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্ম যার কারণ হতে পারে বলে আমি মনে করি। তার সাথে সম্পর্কে জড়ানোর আগে আমার অনেক বন্ধু ছিল কিন্তু এখন নেই বললেই চলে। কারণ আমার সঙ্গী তা পছন্দ করে না। কলেজে পড়ার সময়ও যাতে কোনো ছেলে আমার সাথে কথা বলতে না পারে, সে ব্যাপারে কড়া নজর রাখত ও। আমার ও আমার পরিবারের সাথে তার ব্যবহার খুব খারাপ। আমার সাথে সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও সে অন্য এক নারীর সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে, যার কারণে আমি তাকে ছেড়ে চলে আসি। কিন্তু কিছুদিন পরই বুঝতে পারি, এতো কিছুর পরও আমি তাকে ভালোবাসি। তাই আবার তার কাছে ফিরে যাই, কিছুদিনের মধ্যে সবকিছু স্বাভাবিক হতে শুরু করে। আলাদা জায়গায় থাকি। তাই সে সবসময় আমাকে সন্দেহ করে। তার বন্ধুদের সামনে আমায় গালিগালাজ ও আমার গায়ে হাত তোলে। বাবা-মা কষ্ট পাবে সে কারণে তাদের কিছু বলতে পারছি না, খুব একা হয়ে গেছি। চাইলে এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে পারি। কিন্তু ভয় করে। আমি জানি না সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার পর আমি কি করব।

উত্তরঃ
‘সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার পর পরিস্থিতি যদি আরও খারাপ হয়?’ এই প্রশ্নটিই মূলত আমাদের একটি খারাপ সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে বাধ্য করে। পরিবর্তনে ভয় পাই বলেই আমরা নিজেদের অত্যাচারিত হতে দিই। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সইতে থাকার এক পর্যায়ে আমরা এটা বিশ্বাস করে নিই যে, আমাদের কেউ ভালোবাসবে না।

একটি খারাপ সম্পর্কে একজন নির্যাতিত মানুষ এটাই ভাবে যে, সে আমার ওপর নির্যাতন করলেও মাঝে মাঝে আমায় ভালোবাসে। অল্প হলেও সে আমায় ভালোবাসে। কিন্তু তার সাথে সম্পর্ক ছেদ করে অন্য কারো কাছে গেলে সেই নতুন মানুষটি যদি আমাকে ভালো না বাসে? তখন আমি কী করব?
মনে রাখতে হবে, প্রতিটি মানুষকে সৃষ্টিকর্তা ইচ্ছার স্বাধীনতা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। আর ইচ্ছার স্বাধীনতা মানেই নির্বাচন করার বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা। নিজের ইচ্ছার স্বাধীনতাকে কাজে লাগিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। নিজের ওপর আস্থা রাখতে হবে, তোমাকে নির্যাতন করার পেছনে তোমার কোনো দোষ নেই। বরং এর জন্য তোমার সঙ্গীর নৈতিক অবক্ষয় ও দম্ভ দায়ী। এ-ধরনের সম্পর্ক কোনোদিক থেকেই ভালো ফলাফল বয়ে আনতে পারবে না। তাই এ-ধরনের সম্পর্ক টিকিয়ে না রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়াই শ্রেয়।

সম্পর্কে ঝগড়া কিংবা সমস্যা থাকে না, এটা খুবই দুর্লভ। তাই বলে যেমন হুট করে সম্পর্ক ভেঙে দেওয়া যাবে না, ঠিক সেভাবে এটাও জানা প্রয়োজন কখন আপনার উচিত সম্পর্কের ইতি টানা। একটি অস্বাস্থ্যকর সম্পর্ক আপনার পুরো জীবনের নকশাই বদলে দিতে পারে।

- অনন্যা ডেস্ক
ছবিঃ শৌনক দাস