শুক্রবার,২৪ নভেম্বর ২০১৭
হোম / ভ্রমণ / ঘুরে আসুন বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত
১১/১৩/২০১৭

ঘুরে আসুন বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত

-

চট্টগ্রাম শহরের আশপাশে কম সময়ে ঘুরে আসার মতো বেশ কয়েকটি সি-বিচ রয়েছে। তেমনি একটি হলো বাঁশবাড়িয়া সি-বিচ। তবে অন্যান্য সি-বিচের সাথে এর মূল পার্থক্য হলো এখানে আপনি পুরোপুরিভাবে প্রকৃতির সান্নিধ্যে চলে আসবেন। দোকানপাট আর নানারকম স্থাপনার কৃত্রিমতা নেই, নেই অযাচিত কোলাহল। বিশাল বালুকাবেলা, মাঝে ছোট ছোট জলাশয়। একপাশে সামুদ্রিক খাল, ঝাউবাগান আর সাথে জেটি ব্রিজ ধরে সমুদ্রের ৫০০ মিটার ভেতরে যাওয়ার সুযোগ- এসব ভিন্নতাই বাঁশবাড়িয়া সৈকতকে করে তুলেছে অনন্য।

চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুন্ড উপজেলায় অবস্থিত এই সৈকত। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে চট্টগ্রাম শহর থেকে ২৫ কিমি উত্তরের একটি ছোট বাজার হলো বাঁশবাড়িয়া বাজার। এই বাজার থেকে সরু পিচঢালা পথে ১৫ মিনিটের দূরত্বেই সি-বিচ। বিচে যাওয়ার এই আঁকাবাঁকা পথটিও নয়নাভিরাম সৌন্দর্যে ভরপুর। ছবির মতো গ্রামের দৃশ্য, বিস্তৃত ধানক্ষেত, ছোট ছোট ম্যানগ্রোভ বন আর সমুদ্রের পানি বয়ে আসা খাল রাস্তার পাশজুড়ে পুরোটা পথেই চোখে পড়বে। এই দৃশ্য দেখতেই দেখতেই পৌঁছে যাবেন ভেড়িবাঁধে। বিচে ঢোকার আগেই চোখে পড়বে সন্দ্বীপ যাওয়ার ট্রলারের টিকেট কাউন্টার। এখান থেকে সন্দ্বীপ যাওয়ার ট্রলার ছেড়ে যায়, চাইলে সময় করে সন্দ্বীপ থেকেও ঘুরে আসতে পারেন।

বিচে ঢুকতেই চোখে পড়বে একচিলতে খেজুর বাগান আর অন্যপাশে বড় বড় সামুদ্রিক জেলে নৌকা আর নোঙর করা ট্রলার। সকাল বা দুপুরের দিকে গেলে বিচে জোয়ার পাবেন, আর বিকেলে ভাঁটা। বিকালে বিশাল বিচে ইচ্ছেমতো ঘুরে বেড়ানো যায়। বিচে ঢোকার পর অনেকটা জায়গাজুড়ে ঘাস আর ছোট ছোট জলাশয়, ভাঁটার সময় যেগুলোতে অল্প বিস্তর পানি থাকে, দূর থেকে দেখলে ছোট ছোট দ্বীপের মতো মনে হয়। এই ঘাসে ঢাকা অংশ পার হলেই বিশাল বালুকাবেলা।

এই বিচের মূল আকর্ষণ হলো এর প্রায় ৫০০ মি. লম্বা জেটিপথ বা ব্রিজ। এটি ধরে আপনি সমুদ্রের অনেকটা ভেতর পর্যন্ত গিয়ে ঘুরে আসতে পারবেন। তবে এর জন্য আপনাকে টিকেট কাটতে হবে। জেটিপথ ধরে সমুদ্রে ঘুরে আসা আর স্পিডবোটে সমুদ্র ভ্রমণের জন্য লাগবে ১০০ টাকা। বিকেলে স্থানীয় ছেলেরা বিচে ফুটবল খেলে, চাইলে আপনিও নেমে পড়তে পারেন, ওরা সানন্দেই আপনাকে খেলায় নেবে।

বিচ ধরে উত্তর দিকে অনেকটা হেঁটে যাওয়ার পর একটি খাল পড়বে। এই খাল ধরে সরাসরি সমুদ্রের পানি আসে। খালটির সৌন্দর্যও চোখে পড়ার মতো। মূলত বিচের দুটি অংশকে পৃথক করেছে এই খাল। খালের ওপারে রয়েছে ম্যানগ্রোভ বনের মতো বিস্তীর্ণ গাছের সারি আর এর সামনে সবুজ ঘাসের উঁচুনিচু জমি। পিকনিক করার জন্য একেবারে উপযুক্ত জায়গা, আর হ্যাঁ এদিকটাতেও ঝাউবন চোখে পড়বে।

তবে এই বিচের মূল আকর্ষণ - সূর্যাস্তের দৃশ্য। এক কথায় অসাধারণ। শুধুমাত্র সূর্যাস্ত দেখার জন্যই প্রতিদিন এখানে অসংখ্য মানুষ ছুটে আসে। মেঘ আর সূর্যের সারা বিকেলজুড়ে খেলার পর দিগন্ত বিস্তৃত সমুদ্রের দিকে নানারঙের বর্ণিল ছটা ছড়িয়ে দিতে দিতে সূর্যের অস্ত যাওয়া আসলে নিজ চোখে না দেখলে বোঝা অসম্ভব। সব মিলিয়ে একদিনেই প্রিয়জন আর বন্ধুবান্ধব নিয়ে ঘুরে আসার জন্য বেশ ভালো জায়গাটি।

কীভাবে ও কোথায় থাকবেন?
চট্টগ্রাম শহরের অলংকার থেকে সীতাকুন্ড যাওয়ার যেকোনো বাস, টেম্পু বা লেগুনাতে করে বাঁশবাড়িয়া বাজারে নামতে হবে। ভাড়া পড়বে ৩০-৪০ টাকা। তবে বাঁশবাড়িয়া বাজারে নেমে যাবেন বলে দরদাম করলে ২৫ টাকাতেও যেতে পারবেন। এটি বাড়বকুন্ডের কিছুটা আগে। বাঁশবাড়িয়া বাজারে নেমে বিচে যাওয়ার সিএনজি-তে উঠতে হবে। ভাড়া পড়ে জনপ্রতি ২০ টাকা। চাইলে রিজার্ভ করেও নেয়া যায়। সিএনজি-তে ২.৫ কিমি যাওয়ার পরই ভেড়িবাঁধ পাবেন, এখানেই সি-বিচ।

থাকার জন্য মাঝারি মানের হোটেল সীতাকুন্ড শহরেই পাবেন। সীতাকুন্ড শহরে থাকলে এর আশপাশের স্পটগুলোও ঘুরে আসতে পারবেন, যেমন চন্দ্রনাথ পাহাড়, ইকোপার্ক ইত্যাদি।

একটু ভিন্ন রূপের সমুদ্র সৈকতের খোঁজ করে থাকলে বাঁশবাড়িয়া বিচের জুড়ি নেই। কৃত্রিমতাহীন নিখাঁদ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের স্থান এটি। এই বিচের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে একবার বাঁশবাড়িয়া ঘুরেই আসুন না।

- তানভীর জাহান
ছবিঃ মাহমুদুল হাসান শান্ত