শুক্রবার,২৪ নভেম্বর ২০১৭
হোম / বিনোদন / ঢাকা অ্যাটাকঃ গতানুগতিক বাণিজ্যিক ছবির ভিড়ে আশার আলো
১১/১৩/২০১৭

ঢাকা অ্যাটাকঃ গতানুগতিক বাণিজ্যিক ছবির ভিড়ে আশার আলো

-

দেশের সিনেমা জগতে এই মুহূর্তের সবচেয়ে আলোচিত নাম ‘ঢাকা অ্যাটাক’। ইতোমধ্যেই দেশ কাঁপানো ছবিটি দর্শকদের মাঝে বিশেষ ভাবে সাড়া ফেলতে সমর্থ্য হয়েছে।

পরিচালক হিসেবে দীপঙ্কর দীপন শুরুতেই বাজিমাত করেছেন। বাংলা চলচ্চিত্রে কখনোই পুলিশের ভূমিকাকে চিত্রায়িত করা হয়নি। এই প্রথম ঢাকা অ্যাটাক বাংলাদেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ঘিরে নির্মিত প্রথম ‘কপ থ্রিলার’ হিসেবে নাম কুড়িয়েছে। এর পিছনে বড় ভূমিকা রেখেছেন রচয়িতা সানি সানোয়ার, যিনি ব্যক্তিগত জীবনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি।

ঘটনার শুরু হয় একদল চৌকস পুলিশের কিছু হত্যার ঘটনার তদন্ত করা দিয়ে। এর মাঝেই দেশ কাঁপিয়ে দেয় কার-বোম্বিংয়ের মাধ্যমে কিছু স্কুলের বাচ্চাকে হত্যা চেষ্টার ঘটনা। তদন্তে বেরিয়ে আসে যে হত্যাগুলো এবং বোম্বিং একই চক্রের কাজ। ঘটনার গুরুত্ব বুঝতে পেরে এর সমাধানের লক্ষ্যে বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয় টাস্ক-ফোর্স। কে বা কারা এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী দল? তাদের উদ্দেশ্য কী? এভাবেই এগিয়ে চলে ছবির ঘটনাচক্র। সাসপেন্সের মধ্য দিয়ে জীবনের ঝুঁকি রেখে প্রিয়োজনের মায়া আর ভালোবাসার টানের চেয়েও পেশা আর দেশের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারীদের কাছে কত বড় তাই দেখানো হয় এ ছবিতে।

কেন্দ্রীয় চরিত্রে আরেফিন শুভকে দেখা যায় বোম্ব স্কোয়াড ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চের এডিসি আবিদ হিসেবে। চরিত্রে তার নজরকাড়া অভিনয় ছবিটিকে আরও অসাধারণ করে তুলেছে। মাহিয়া মাহি অভিনয় করেছেন চৈতি নামের এক রিপোর্টারের ভূমিকায়। এবিএম সুমন সোয়াট বাহিনীর লিডারের ভূমিকায় অসাধারণ নৈপুণ্য দেখাতে সক্ষম হন এবং শতাব্দী ওয়াদুদ টাস্ক-ফোর্সের লিডার হিসেবে ছবি-জুড়ে তার আধিপত্য বজায় রেখেছেন। তবে সবচেয়ে নৈপুণ্য দেখিয়েছেন খলনায়ক জিসানের চরিত্রে তাসকিন রহমান। এছাড়াও বিভিন্ন চরিত্রে ছবিটিতে অভিনয় করেছেন হাসান ইমাম, আলমগীর, আফজাল হোসেন।

ছবিটির সবচেয়ে প্রশংসনীয় দিক হিসেবে এর চরিত্রগুলোর সমন্বয়ের কথা বলতেই হবে। প্রায় সকলেই তাদের ক্যারেক্টারকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। বিশেষত মানসিকভাবে বিপর্যস্ত প্রতিহিংসাপরায়ণ খলনায়ক হিসেবে তাসকিনের কথা না বললেই নয়। নিজ চরিত্রকে অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তুলে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। অপরদিকে, তাসকিন যতটা অসাধারণ ছিলেন, ঠিক ততটাই বাজে বলা যাবে মাহিয়া মাহির ক্যারেক্টারকে। একে তো তার চরিত্রটিতে কোনো গভীরতা ছিলই না। উপরন্তু অতিরিক্ত নাটকীয়তার জন্য ছবির সবচেয়ে বাজে দিক হিসেবে তার দিকেই আঙুল যাবে। এর দায় কিছুটা পরিচালক ও রচয়িতার উপরেও বর্তায়।

ঢাকা অ্যাটাকের ঘটনাচক্র মসৃণভাবে আবর্তিত হয়। কাহিনির প্রতি দর্শকদের মনোযোগ ধরে রাখার জন্য প্লট প্রগ্রেসন বেশ ভালো, যদিও কিছু প্লট রাখা হয়েছে গতানুগতিক চলচ্চিত্রের মতোই। ক্রাইসিসের টানটান উত্তেজনা সারাক্ষণই বজায় থাকে। কোথাও বিরক্ত হবার সুযোগ নেই।

ছবির সিনেমাটোগ্রাফি এবং প্রোডাকশন ভ্যালু বেশ উচ্চমানের। অ্যাকশন সিকুয়েন্সগুলোর দৃশ্যায়ন দারুণ। বিশেষত বান্দরবনের পার্টটুকু। গ্রাফিক্সের কাজ আরও ভালো হতে পারত। এছাড়া ছবি-জুড়ে সাউন্ডের কাজ এবং গানগুলো বেশ মানসম্পন্ন। গানগুলোর টাইমিংও বেশ ভালো, কোনো গানের সময়ই মনে হবে না শুধুমাত্র ইন্ডাস্ট্রির গতানুগতিকতার খাতিরে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে।

ছবিটিতে যে-কোনো ভুল নেই তা বলা যাবে না, কিন্তু এর প্রভাবের তুলনায় ভুলগুলো নগণ্য। যেই ইন্ডাস্ট্রিতে বিগ বাজেট অ্যাকশন মুভি বলতে উল্লেখ করা যায় অনন্ত জলিলের ছবিগুলো, সেখানে দীপঙ্কর দীপন ও তার দল অবশ্যই সম্ভাবনার আলো দেখিয়ে দিলো।

ছবিটি প্রথম সপ্তাহেই বক্স অফিস কাঁপিয়েছে - এখন পর্যন্ত 'ঢাকা অ্যাটাক' আয় করে নিয়েছে সাত কোটি টাকার বেশি। ৬ অক্টোবর মুক্তি পাওয়া এই বড় বাজেটের মানসম্মত গল্পে, চৌকস অভিনেতাদের নিয়ে বাংলা সিনেমার ইতিহাসে থ্রিলার মুভির জগতে নতুন স্ট্যান্ডার্ড সেট করা ‘ঢাকা অ্যাটাক’ দেখতে পরিবারসহ চলে যান নিকটস্থ কোনো সিনেমা হলে।

- আলভী