শুক্রবার,২৪ নভেম্বর ২০১৭
হোম / স্বাস্থ্য-ফিটনেস / নাকডাকা থেকে মুক্তি
১১/০৫/২০১৭

নাকডাকা থেকে মুক্তি

-

নাকডাকা একটি অপ্রীতিকর সমস্যা। শতকরা প্রায় ৪৫জন মানুষ নাকডাকার সমস্যায় ভুগছেন। এই বিরক্তিকর শব্দ অন্যের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটানোর পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তিকেও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে। সাধারণত যখন গলার ভেতরের মাংসপেশি কোনো কারণে কম্পিত হয় তখন নাকডাকার শব্দ হয়। কিছু দৈনন্দিন বিষয়ে খেয়াল রাখলে সহজেই এই বিরক্তিকর শব্দের হাত থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব।

ওজন নিয়ন্ত্রণ করুন
অতিরিক্ত ওজন নাকডাকার অন্যতম কারণ। ওজন যত বেশি হবে নাক ডাকার ঝুঁকিও তত বাড়বে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

ধূমপান পরিহার করুন
ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এটি নাকডাকারও একটি কারণ। ধূমপানের ফলে নাকের টারবাইনেট নামক টিস্যু স্ফীত হয়ে যেতে পারে, যা বাতাস প্রবাহে বাধার সৃষ্টি করে। তাই ধূমপানের বদঅভ্যাস ত্যাগ করুন।

অ্যালকোহল পান থেকে বিরত থাকুন
অ্যালকোহল বা মদ-জাতীয় পানীয় পানের কারণে অনেকের নাকডাকার সমস্যা হতে পারে। অ্যালকোহল জিভের মাংসপেশিগুলোকে শিথিল করে দেওয়ার কারণে শ্বাস-প্রশ্বাসের নালী সংকুচিত হয়ে পড়ে। আর এ থেকে নাকডাকা শুরু হয়।

ঘরের আর্দ্রতা
অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, শুকনো বাতাসের কারণে অনেকের নাক ডাকে। এই শুকনো বাতাস নাকের ও গলার ভেতরের পর্দাকে শুকনো করে দেয়; যার ফলে বাতাস চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং নাকডাকার শব্দ সৃষ্টি করে। আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রক যন্ত্র ব্যবহার করে ঘরের আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।

জিহ্বার ব্যায়াম
ব্যায়াম করলে যেমন শরীরের শক্তি বাড়ে তেমনি জিহ্বার শক্তি বাড়ানোর জন্যও কিছু ব্যায়াম আছে। যেমন, ‘দি লিপ্স, দি টিথ, দি টিপ অফ দি টাং।’ এই কথাটি দিনে দু’বার এবং প্রতিবার ১০ থেকে ২০ বার বলুন। এতে আপনি নাক ডাকা বন্ধে কিছুটা উপকৃত হতে পারেন।

শোয়ার ধরন বদলান
যারা নাক ডাকেন, তারা চিত হয়ে বা বিছানায় পিঠ ঠেকিয়ে শোয়া থেকে বিরত থাকুন। ডান বা বাম পাশে কাত হয়ে শোয়ার অভ্যাস করতে পারেন, এতে নাক ডাকার সমস্যা কিছুটা কমে যাবে বা সম্পূর্ণ বন্ধও হয়ে যেতে পারে। মাথার বালিশটি যেন বেশি উঁচু বা নিচু না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। মাথা বেশি উঁচু বা নিচুতে থাকলে নাক ডাকার প্রবণতা বাড়ে। তাই বালিশ ব্যবহারে সতর্ক হোন।

শোয়ার ঘর ও বিছানা পরিষ্কার রাখুন
অনেক ক্ষেত্রে বিছানাপত্রে বা ঘরে বেশি ধুলোবালি বা ময়লা থাকলে শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা হয়। নাকে ধুলা সংক্রমণের ফলে নাকের মাংসপেশি ফুলে উঠতে পারে এবং নাক ডাকার শব্দ সৃষ্টি হতে পারে। তাই বাসায় পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন।

হলুদ-দুধ
একগ্লাস কুসুম গরম দুধে দুই টেবিল চামচ হলুদগুঁড়া ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। প্রতিরাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে একগ্লাস দুধ খেয়ে নিন। এতে গলার ভেতরের সংক্রমণ প্রতিরোধ করা যায়।

এলাচিগুঁড়া
একগ্লাস কুসুম গরম পানিতে এক থেকে দুই টেবিল চামচ এলাচিগুঁড়া ভালোমতো মিশিয়ে প্রতিরাতে পান করুন। নাকডাকা প্রতিরোধে এটি কার্যকারী ভূমিকা রাখতে পারে।

চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুসারে নাকডাকার তিনটি প্রধান জৈবিক কারণ রয়েছে। নাকের নালিতে পুরু নরম প্রলেপ থাকা, অন্য কোনো কারণে নাকের নালি আংশিক সংকুচিত থাকা এবং জিহ্বার পেছনে বায়ুপথ সংকুচিত থাকা। আসল কারণ খুঁজে বের করতে না পারলে এ থেকে নিস্তার পাওয়া প্রায় অসম্ভব। কোনোভাবেই সমস্যাটির সমাধান করতে না পারলে একজন নাক-কান-গলারোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

- মুশফিকুর রহমান
ছবিঃ নাঈম শান