শুক্রবার,২৪ নভেম্বর ২০১৭
হোম / ভ্রমণ / ঐতিহ্যের আগ্রা-তে কয়েকদিন
১০/২৩/২০১৭

ঐতিহ্যের আগ্রা-তে কয়েকদিন

-

ভারতবর্ষের হাজারো বছরের ইতিহাসের সাক্ষী এবং বর্তমানে প্রাসাদ ও মসজিদের নগরী আগ্রা ইতিহাসসমৃদ্ধ বিখ্যাত শহরগুলির অন্যতম। ইতিহাসখ্যাত মুঘল সম্রাট আকবর ১৫৬৬ সালে বর্তমান আগ্রা শহরটি প্রতিষ্ঠা করেন। আকবরের উচ্চাভিলাষী প্রয়াসে কিছুদিনের মধ্যেই আগ্রা হয়ে ওঠে সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চা কেন্দ্রের নগরী, যার ধারাবাহিকতায় বর্তমানে আগ্রা বিশ্বে টুরিস্ট স্পট হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছে।

কী দেখবেন?

তাজমহল
তাজমহল মুঘল স্থাপত্যশিল্পের এক অনন্যনিদর্শন এবং বিশ্বের সাতটি বিস্ময়কর স্থাপনার একটি। সৌধটি নির্মাণ শুরু হয়েছিল ১৬৩২ খ্রিস্টাব্দে, যার কাজ ১৬৪৮ খ্রিস্টাব্দে শেষ হয়। তাজমহলের নির্মাণশৈলীতে পারস্য, তুরস্ক, ভারতীয় এবং ইসলামি স্থাপত্যশিল্পের সম্মিলন ঘটানো হয়েছে। যদিও সাদা মার্বেলের গম্বুজাকৃতি রাজকীয় সমাধিটিই বেশি সমাদৃত, তাজমহল আসলে সামগ্রিকভাবে একটি জটিল অখন্ড স্থাপত্য। ১৬৩১ খ্রিস্টাব্দে দ্বিতীয় স্ত্রী মমতাজ মহলের মৃত্যুতে শোকাহত সম্রাট শাহজাহান তাজমহল নির্মাণের নির্দেশ দেন। মূল সমাধিটি সম্পন্ন হয় ১৬৪৮ খ্রিস্টাব্দে এবং এর চারপাশের ইমারত এবং বাগান তৈরি হয় আরও পাঁচ বছর পরে।

তাজমহলের সামনের চত্বরে একটি বড় চারবাগ (মুঘলদের বাগান চার অংশে বিভক্ত থাকত) করা হয়েছিল। ৩০০ মিটার বাই ৩০০ মিটার জায়গার বাগানে প্রতি চতুর্থাংশ উঁচুপথ ব্যবহার করে ভাগগুলোকে ১৬টি ফুলের বাগানে রূপদান করা হয়, যা শ্বেতপাথরের তাজমহলের বিপরীতে অসাধারণ সৌন্দর্যমন্ডিত। মাজার অংশ এবং দরজার মাঝামাঝি অংশে বাগানের মধ্যখানে একটি উঁচু মার্বেল পাথরের পানির চৌবাচ্চা বসানো আছে, যেখানে তাজমহলের প্রতিফলন দেখা যায়।

আগ্রা ফোর্ট
তাজমহলের ২ কিমি উত্তর-পশ্চিমে আকবর ১৫৬৫-এ নির্মাণ করান সুবিশাল আগ্রা কেল্লা। গভীর পরিখাবেষ্টিত লাল রঙের বেলে পাথরের আগ্রা ফোর্টে প্রবেশের জন্য ছিল চারটি তোরণ- আমর সিং গেট, দিল্লি গেট, ওয়াটার গেট ও দর্শনী দরওয়াজা। বর্তমানে কেবলমাত্র আমর সিং গেট দিয়েই পর্যটকরা দুর্গে প্রবেশ করতে পারে। দুর্গের বাইরে যেমন সুন্দর, ভিতরেও তেমন। দেওয়ান-ই-খাস, শাহজাহানের তৈরি দেওয়ান-ই-আম, শিশমহল, জাহাঙ্গীর প্রাসাদ, কুখ্যাত মুসম্মন বুরুজ বা জেসমিন প্রাসাদ, যেখানে পুত্র ঔরঙ্গজেবের হাতে শাজাহান বন্দি ছিলেন, এসবই দেখা যায় আগ্রা দুর্গে। আগ্রা ফোর্টের কাছেই স্টেশনের উল্টোদিকে বেগম জাহানারার তৈরি জামা মসজিদটিও দেখে নিতে পারেন।

সিকান্দ্রা
১৪৯২ সালে সিকান্দার লোদি আগ্রার ১০ কি.মি. উত্তরে একটি স্থান দখল করে সিকান্দ্রাবাদ নামকরণ করেন। এখানে দেখবেন, আকবরের পাঁচতলা সমাধিসৌধ। সম্রাট স্বয়ং এই সৌধের পরিকল্পনা করে কাজ শুরু করে দেন। এটি অবশ্য সম্পূর্ণতা লাভ করে পুত্র জাহাঙ্গীরের হাতে। এই সৌধের ভূগর্ভে প্রকৃত কবর এবং ওপরে নকল কবর। কবরের কাছেই একসময় শোভা পেত জগদ্বিখ্যাত কোহিনূর হীরা। মুঘল সাম্রাজ্যের সময়টায় এখানকার প্রধান তোরণটি ছিল চন্দন কাঠের। আর এ তোরণের রুপোর ছাদে ছিল সোনার কারুকাজ। এছাড়াও, আগ্রাতে দেখতে পাবেন মুঘল প্রধানমন্ত্রী ইতমতউদ্দোলার সমাধি কিংবা ফতেপুর সিক্রি। আগ্রার ৩৭ কি.মি. দক্ষিণ-পশ্চিমে ১৫৬৯ সালে আকবর এখানেই তাঁর রাজধানী স্থানান্তরিত করেছিলেন।

কীভাবে যাবেন?
ট্রেনঃ শিয়ালদহ বা হাওড়া থেকে আগ্রা যাবার সরাসরি ট্রেনের মধ্যে পাবেন-উদ্যান আভা তুফান এক্স, যোধপুর এক্স, আগ্রা ক্যান্ট চম্বল এক্স, শিয়ালদহ-উদয়পুর অনন্যা এক্স।

বাসঃ ভারতের উত্তর প্রদেশ কিংবা পূর্বের সকল রাজ্য থেকেই আগ্রা যাওয়ার বাস পাওয়া যায়। দূরত্বের উপর ভাড়া নির্ভর করবে।

প্লেনেঃ আগ্রা (Kheria Airport Agra) বিমানবন্দর শহরের কেন্দ্র থেকে ৪ কি. মি. দূরে অবস্থিত। দিল্লি, গোয়ালীয়র এবং বারানসী যেতে প্রতিদিন এয়ার ইন্ডিয়া ও এলিয়েন্স এয়ার বিমান পাওয়া যায়।

আগ্রাতে থাকা-খাওয়ার নানা সুব্যাবস্থা আছে। ঢাকা বা অন্য কোনো জেলা থেকে ইন্ডিয়ার ভিসায় ঘুরে আসতে পারেন এই ঐতিহ্যবাহী নগরী। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে পরিকল্পনা করে পরবর্তী কোনো ছুটিতে আগ্রা দেখে আসতে পারেন সহজেই।

- কাজী মাহদী আমিন