শুক্রবার,২৪ নভেম্বর ২০১৭
হোম / স্বাস্থ্য-ফিটনেস / কোষ্ঠকাঠিন্য - বিরক্তিকর এক উপসর্গ
১০/২২/২০১৭

কোষ্ঠকাঠিন্য - বিরক্তিকর এক উপসর্গ

-

কোষ্ঠকাঠিন্যের অর্থ মল শক্ত হওয়া বা অন্য কোনো কারণে মল নিঃসরণে বাধা তৈরি হওয়া। যদিও এটি খুব জটিল কোনো সমস্যার মধ্যে পড়ে না। তবুও নিয়মিত স্বাভাবিক মলত্যাগে সমস্যার সম্মুখীন হলে শরীরে নানারকম সমস্যার সৃষ্টি হয়। সাধারণত তিনদিনের বেশি সময় ধরে মলত্যাগ না হলে তাকে কোষ্ঠকাঠিন্য বা ইংরেজিতে কন্সটিপেশন বলে ধরে নেওয়া হয়।

কোষ্ঠকাঠিন্যের লক্ষণ বা উপসর্গ
* স্বাভাবিকের চেয়ে কম বা কম সংখ্যকবার মলত্যাগ করা।
* পেট ফুলে থাকা।
* শুষ্ক ও শক্ত মলত্যাগ করা।
* মলত্যাগে অধিক চাপ ও কষ্ট হওয়া।
* তলপেটে ব্যথা অনুভূত হওয়।

কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ
* সুষম ও আঁশজাতীয় খাবার কম খাওয়া।
* পানি বা তরল জাতীয় খাদ্য কম খাওয়া।
* ক্যালসিয়াম, আয়রন ও অ্যালুমিনিয়াম সমৃদ্ধ ঔষধ।
* দুধ জাতীয় ও মশলাযুক্ত খাবার বেশি খাওয়া।
* অলস জীবনযাপন করা বা কায়িক পরিশ্রম কম করা।

অনেক সময় গর্ভধারিণী মায়ের কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে জীবনযাত্রার পরিবর্তন
* প্রতিদিন একই সময় মলত্যাগের অভ্যাস করার চেষ্টা করুন।
* দুশ্চিন্তামুক্ত থাকার চেষ্টা করুন।
* নিয়মিত কায়িক পরিশ্রম ও ব্যায়াম করুন।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন জরুরি
* সাধারণ ও সহজপাচ্য খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন।
* বেশি করে পানি পান করুন।
* খাবারের তালিকায় ফল ও সবজি রাখার চেষ্টা করুন।
* খাবারের তালিকায় খাদ্যশস্য রাখুন।
* চা, কফি ও চর্বিযুক্ত খাবার কম খাওয়ার চেষ্টা করুন।

কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিকারের কিছু প্রাকৃতিক উপায়

কিশমিশ ও গরম দুধ
১০/১২টি কিশমিশ নিয়ে ভালো করে ধুয়ে বিচি থাকলে তা ছাড়িয়ে নিন। এরপর ১ গ্লাস দুধে কিশমিশ দিয়ে ১ চিমটি দারুচিনি গুঁড়া দিয়ে ভালো মতো ফুটিয়ে নিন। এভাবে টানা তিনদিন দুধ পান করুন। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা অনেকাংশে দূর হয়ে যাবে।

ত্রিফলা
ত্রিফলা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় প্রাচীনকাল থেকেই ব্যবহার হয়ে আসছে। ১ চা চামচ ত্রিফলা পাউডার ১ গ্লাস গরম পানি অথবা গরম দুধে ভালো করে মিশিয়ে নিন। রাতে ঘুমানোর আগে তা নিয়মিত পান করুন।

ইসবগুল
কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে ইসবগুল অনেক কার্যকরী একটি উপাদান। ১ গ্লাস গরম পানিতে ২ টেবিল চামচ ইসবগুল দিয়ে ৫-১০ মিনিট রেখে দিন। যখন ইসবগুল পানি শুষে নিয়ে জেলির মতো আঠালো হবে তখন তা পান করুন। প্রতিদিন ঘুমুতে যাওয়ার আগে ইসবগুল পান করতে পারেন।

তিলবীজ
তিলবীজ ভেঙে গুঁড়ো করে তা আটা বা ময়দার সঙ্গে মিশিয়ে চাপাতি বা রুটি তৈরি করে খেতে পারেন। এতে করে দেহে ফাইবারের অভাব পূরণ হবে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হবে।

লেবু
লেবুর রস কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা রোধ করতে খুব সহায়ক। হালকা কুসুম গরম পানিতে লেবু চিপে নিন। চাইলে এতে সামান্য লবণ ও মধু মিশিয়ে খেতে পারেন। সকালে একদম খালি পেটে লেবু পানি খেয়ে নিন। আবার সন্ধ্যার দিকে আরেক গ্লাস খান।

মধু
কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দূর করতে মধু খুব উপকারী। প্রতিদিন ২/৩ বার এক চামচ করে মধু খান। কুসুম গরম পানির সঙ্গে লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খেয়ে নিন।

ক্যাস্টর অয়েল
কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা রোধ করার অন্যতম সহজ উপায় হলো ক্যাস্টর অয়েল। সকালে খালি পেটে ২ চামচ ক্যাস্টর অয়েল খেয়ে নিন। দেখবেন খুব দ্রুতই আপনার পেটের সমস্যা ভালো হয়ে যাবে। চাইলে কোনো ফলের জুসের সঙ্গে ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে খেতে পারেন।

পালংশাক
হজমশক্তি বৃদ্ধি করতে পালং শাকের উপকারিতা অনেক বেশি। বিশেষ করে যখন আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দেখা দিবে তখন পালংশাক খেতে ভুলবেন না। চাইলে এটি সালাদের মতো করে কিংবা রান্না করেও খেতে পারেন।

- আব্দুল্লাহ মাহমুদ আলাউদ্দীন